সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প, ৬ কোটি টাকা ছাড়: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শোলাকিয়া ঈদগাহের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প, ৬ কোটি টাকা ছাড়: প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৬ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই উন্নয়নকাজ শুরু হবে।

রোববার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা তো এই এলাকার মানুষ। আপনারা জানেন, আগামী ঈদে এখানে ২০০তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। যেহেতু প্রতি ঈদে লক্ষাধিক মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন, তাই এই মাঠের উন্নয়নে আমরা ১৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এরই মধ্যে সরকার থেকে ৬ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।’

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠটি এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন। একই সঙ্গে মাঠের একাংশে এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করা হবে। মাঠে দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার নির্মাণের পাশাপাশি পুকুরে মাছ চাষের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠটি একটি ঐতিহ্যবাহী মাঠ। এর সঙ্গে দীর্ঘ ইতিহাস জড়িয়ে আছে। তাই এলাকার মানুষকে অনুরোধ করব, মাঠটি যেন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। এখানে যে গাছগুলো লাগানো হবে, সেগুলোরও যত্ন নিতে হবে।’

বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান একবার ওমরাহ পালনের সময় আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সেখানে গাছপালার স্বল্পতা দেখেছিলেন। পরে দেশে ফিরে তিনি এক লাখ নিমগাছের চারা সৌদি আরবে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে সেই চারা থেকে আরও গাছ জন্ম নেয় এবং আরাফাতের ময়দানে নিমগাছের সংখ্যা বাড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠেও আরাফাতের ময়দানের মতো অনেক নিমগাছ রোপণ করতে। এসব গাছের ছায়া ও নির্মল পরিবেশে মুসল্লিরা যেমন স্বস্তি পাবেন, তেমনি শিশুরা খেলাধুলা করতে এবং বয়স্করা সকালে-বিকেলে হাঁটাচলা করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, শোলাকিয়া ঈদগাহের ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। সবাই মিলে মাঠের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষের পরিচর্যা করলে ঐতিহাসিক এই ঈদগাহের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এখানে সমবেত হন। আগামী ঈদে ২০০তম জামাতকে সামনে রেখে মাঠটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে নেওয়া এই প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর: প্রাপ্তি-প্রত্যাশার হিসাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর: প্রাপ্তি-প্রত্যাশার হিসাব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর শেষ হওয়ার পর জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সফরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ এবং ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণের ঘোষণা যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি কিশোরগঞ্জ সদরসহ জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

প্রধানমন্ত্রীর ১৬ আগস্টের কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে আগে থেকেই জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সফরকালে পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের দাবি ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরদিনই সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়ার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার অন্যান্য এলাকার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোও সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ আহমেদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে পাকুন্দিয়ার দুটি সেতুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পাকুন্দিয়ার মানুষের জন্য ‘বিরাট সুখবর’ এসেছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন দুটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান। ওই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে সরকারি স্মারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত সেতু দুটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর মুনিয়ারীকান্দা থেকে দত্তের বাজার এবং মির্জাপুর থেকে টাংগাবর পর্যন্ত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে একই পোস্টে মারুফ আহমেদ কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মানুষের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কিশোরগঞ্জ সদরবাসীরও উন্নয়নসংক্রান্ত একাধিক দাবি জানানোর সুযোগ ছিল। উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ, ইপিজেড স্থাপন, নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, বাইপাস নির্মাণ, বন্ধ টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস এবং চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর প্রশ্ন—দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা গেলে হয়তো সেগুলোর কিছু বিষয়ে উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হতো। তাঁর ভাষায়, ‘দুর্ভাগ্য, আমরা চাইতেই পারলাম না।’

অন্যদিকে ইসলামী লেখক আশিক আশরাফ তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তৃত প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সংস্কার এবং সেখানে নিমগাছ লাগানোর ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও জানতে চেয়েছেন, কিশোরগঞ্জবাসীর জন্য এর বাইরে কী উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তাঁর পোস্টে কিশোরগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে নরসুন্দা নদীর দুরবস্থা, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার মান, সড়ক যোগাযোগ এবং ট্রেন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আশিক আশরাফের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত বলে মনে করা কিশোরগঞ্জ শহরের মানুষের প্রত্যাশা যেখানে ছিল অনেক, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দৃশ্যমান প্রাপ্তি যদি শোলাকিয়া মাঠের উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণের ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বৃহত্তর উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোর কী হবে?

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় মূলত দুটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে পাকুন্দিয়া-গফরগাঁও যোগাযোগে দুটি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সরকারি উদ্যোগকে দ্রুত বাস্তবায়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করছেন।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া এবং এর মধ্যে ৬ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছানোর ঘোষণাও সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে। মাঠের সৌন্দর্যবর্ধন, মুসল্লিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, খেলাধুলার জন্য স্থান এবং নিমগাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসা মতামতগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের প্রত্যাশা শুধু একটি বা দুটি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ নয়। সড়ক ও রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্পায়ন, নদ-নদী, কর্মসংস্থান ও নগর অবকাঠামো—এসব বিষয়ও স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের আলোচনার অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্থানীয় দাবিগুলো কতটা সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া অংশে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট উন্নয়ন দাবি উত্থাপিত হওয়ার পর দ্রুত সরকারি উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর বিপরীতে কিশোরগঞ্জ সদর ও জেলার অন্যান্য এলাকার দাবিগুলোও একইভাবে অগ্রাধিকার দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত সবসময় কোনো এলাকার সামগ্রিক জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ঘোষিত কোনো উদ্যোগের পূর্ণ বাস্তবায়নও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে। ফলে সফরের তাৎক্ষণিক ঘোষণাকে চূড়ান্ত প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগও নেই।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে একদিকে যেমন কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগের কথা এসেছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাকুন্দিয়া-গফরগাঁওয়ের দুটি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন এবং বৃক্ষরোপণের ঘোষণা বাস্তবায়নের দিকে কত দ্রুত এগোয়, সেটি এখন দেখার বিষয়।

একই সঙ্গে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—সড়ক ও রেল যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিল্পায়ন, নদী পুনরুদ্ধার, নগর অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানসহ বৃহত্তর কিশোরগঞ্জের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হয়েছে; এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে তাই একটি প্রশ্নই—সফরে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং কিশোরগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাগুলোর কতটা পূরণ হয়?

পাকুন্দিয়া-গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্রে দুটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়া-গফরগাঁওয়ে ব্রহ্মপুত্রে দুটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাকুন্দিয়ার মুনিয়ারীকান্দা থেকে গফরগাঁওয়ের দত্তের বাজার এবং মির্জাপুর বাজার থেকে পাগলা থানার টাংগাব পর্যন্ত প্রস্তাবিত সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জ সফরকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু দুটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এর পরদিনই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন তাঁর বক্তব্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর দুটি সেতু নির্মাণের দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি পাকুন্দিয়া ও আশপাশের এলাকায় ১ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি আসে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির মাধ্যমে এখন প্রস্তাবিত সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হলো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ এবং ‘মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল’-এর সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে স্থানীয় সরকার সচিবকে প্রস্তাবিত সেতু দুটির সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, একান্ত সচিব এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত সেতু দুটির একটি পাকুন্দিয়া উপজেলার মুনিয়ারীকান্দা এলাকার সঙ্গে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দত্তের বাজারকে যুক্ত করবে। অপরটি পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর বাজারকে গফরগাঁওয়ের পাগলা থানার টাংগাব এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেতু দুটি নির্মিত হলে পাকুন্দিয়া ও গফরগাঁওয়ের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলবে। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ দুই অঞ্চলের মানুষের সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়েছে।

সেতু দুটি নির্মিত হলে দুই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য স্থানীয় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয় হাট-বাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষক ও উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতু নির্মাণের মাধ্যমে পাকুন্দিয়া ও গফরগাঁওয়ের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দুই অঞ্চলের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও প্রস্তাবিত সেতু দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের পর এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে সেতু দুটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এ কার্যক্রম শেষ করে সেতু নির্মাণের পরবর্তী ধাপ শুরু করার প্রত্যাশা করছেন।

পাকুন্দিয়ায় ময়লার ট্রাকে সিএনজির ধাক্কা, নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ময়লার ট্রাকে সিএনজির ধাক্কা, নিহত ১

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পৌরসভার ময়লার ট্রাকে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় নজরুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নজরুল ইসলাম করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।

আহতরা হলেন—কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চর মারিয়া এলাকার কাজল মিয়ার স্ত্রী জোসনা (৪৫), তাঁর শিশু ছেলে আয়ফান, তাড়াইল উপজেলার কাজলা এলাকার রাবিয়া (৫৩) এবং সিএনজিচালক। তবে সিএনজিচালকের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুর থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাকুন্দিয়া পৌরসভার ময়লার ট্রাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জে রেফার করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41