প্রধানমন্ত্রীর সফরে কিশোরগঞ্জে দিনভর উৎসবের আমেজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফর ঘিরে রোববার (১৬ আগস্ট) দিনভর জেলার বিভিন্ন স্থানে ছিল উৎসবের আমেজ। জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ধারাবাহিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে পথে পথে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পোনা অবমুক্তকরণ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনসাধারণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে আগামী ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
এ সময় পাকুন্দিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মুনিয়ারিকান্দি-গফরগাঁও দত্তেরবাজার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নারী শিক্ষার প্রসারে অনার্স পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পাশাপাশি উপবৃত্তির আওতায় আনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এক কোটি ২০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
কার্প হ্যাচারি পরিদর্শন শেষে দুপুর ১টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে দেশের বিভিন্ন জেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৩টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণ পদক) দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক তুলে দেন।
কটিয়াদীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ শহরের উদ্দেশে রওনা হন। শহরে প্রবেশের সময় জেলখানা মোড়ে তাঁকে স্বাগত জানান হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর জেলখানা মোড়ে পৌঁছালে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মবিনের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার নেতাকর্মী একই রঙের গেঞ্জি পরে সড়কের পাশে অবস্থান নেন।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান ও করতালির মাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাব দেন। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ জেলা সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান ও বিরতি নেন তিনি।
বিকেল ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান প্রদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় কিশোরগঞ্জের প্রতিবন্ধী আনিসের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনিস। এ সময় উপস্থিত মানুষের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দিনভর কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
পরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করেন।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array