পাকুন্দিয়ায় মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণেই দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি, সমগ্র দেশের মানুষ—শুধু ঢাকা শহর নয়, বাংলাদেশের সব জেলা-উপজেলায় বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। এই যে বিদ্যুতের সমস্যা, এই সমস্যা স্বৈরাচারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য আজকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির এই অবস্থা।”
তিনি বলেন, “আগামী ২৭ তারিখ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনে দেশের মানুষের কাছে উপস্থাপন করা হবে আগামী ১০ বছর এই দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান কীভাবে করব। সেই পরিকল্পনা আমরা পবিত্র জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ জনগণ। তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চাকরি-বাকরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সব বিশৃঙ্খলাকারী।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা জানান তিনি।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজপথে অস্থিরতা তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, “পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।”
বাজার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, “বাজারে কিছু সমস্যা আছে, এটাও আমরা চেষ্টা করছি। আপনারা লক্ষ করছেন, কিছু জ্বালানি এবং বিদ্যুতের কারণে হয়তো প্রোডাকশন চেইন একটু ডিস্টার্ব (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।”
তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির প্রভাব উৎপাদন ব্যবস্থায় পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা ওভালে প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চার দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে এই জয়কে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ দুর্দান্ত বোলিং করে ৬ উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ সর্বোচ্চ ৭১ রান করলেও বাকিদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ পায়নি স্বাগতিকরা।
জবাবে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১৯৭ বলে ১০১ রানের ইনিংসটি ছিল ঐতিহাসিক—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হন তানজিদ। অধিনায়ক শান্ত করেন ৮৪ রান, মুমিনুল হক করেন ৪৯। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে, পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন করেন লড়াকু ১০৪ রান। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের সামনে শেষ পর্যন্ত ২৮৪ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। মিরাজ নেন ৫ উইকেট। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক কোনো বিপদ হতে দেননি। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৪.২ ওভারেই ৫৭ রান তুলে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। হাসান মাহমুদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট, তানজিদের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি এবং মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্য—সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে যোগ হলো এক নতুন অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। তাই এই জয় শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়; এটি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠেই তাদের চার দিনের মধ্যে হারিয়ে যেন ক্রিকেটবিশ্বকে নতুন করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিল শান্তর দল।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array