বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়বেলায় রৌজার মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও নাহিদ ইভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিদায়বেলায় রৌজার মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও নাহিদ ইভা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থেকে বিদায়ের আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীর চলাচলের সমস্যা দেখে তার জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা।
শিক্ষার্থী রৌজা হোসেনপুর পৌরসভার দ্বীপেশ্বর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে। সে হোসেনপুর ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় ইউএনওর নজরে আসে, রৌজার চলাচলের জন্য কোনো হুইলচেয়ার নেই। বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও দৈনন্দিন চলাফেরায় তাকে মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিষয়টি জানতে পেরে রৌজার জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন ইউএনও।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রৌজার হাতে হুইলচেয়ারটি তুলে দেওয়া হয়। নতুন হুইলচেয়ার পেয়ে শিশুটির মধ্যে আনন্দের প্রকাশ দেখা যায়। সংশ্লিষ্টরা জানান, হুইলচেয়ার ব্যবহারের ফলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন চলাফেরায় রৌজার ভোগান্তি কিছুটা কমবে।
হুইলচেয়ার হস্তান্তরের সময় হোসেনপুর ১ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা রত্না, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মিসবাহ উদ্দিন মানিক, কলামিস্ট এস এম মিজানুর রহমান মামুনসহ সাংবাদিক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) পদে পদোন্নতি পেয়ে মানিকগঞ্জে বদলি হওয়া কাজী নাহিদ ইভা স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী মতবিনিময় করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ভূমি অফিসে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিকরা তাঁর দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং জনস্বার্থে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
৩৫তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
বিদায়ী মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বলেন, মাঠ প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে একজন কর্মকর্তার সঙ্গে স্থানীয় গণমাধ্যমের পেশাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, জনসেবা ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে গণমাধ্যম যেমন জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারে, তেমনি প্রশাসনও স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পায়।
সাংবাদিকরা কাজী নাহিদ ইভার দায়িত্বকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং নতুন কর্মস্থলে তাঁর দায়িত্ব পালনের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও সাংবাদিকতার পেশাগত সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় সাংবাদিক মিসবাহ উদ্দিন মানিক, রফিকুল ইসলাম, কলামিস্ট এস এম মিজানুর রহমান মামুন, সঞ্চিত চন্দ্র শীল, উজ্জ্বল কুমার সরকার, মো. খায়রুল ইসলাম, মাহফুজ রাজা, সাগর আহমেদ, রিপন মিয়া, আকিল তানিমসহ হোসেনপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা বলেন, দায়িত্ব বদল সরকারি চাকরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান, পেশাগত যোগাযোগ ও জনস্বার্থে কাজের মধ্য দিয়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, বিদায়ের সময় সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পদোন্নতির মাধ্যমে নতুন দায়িত্বে যাওয়া কাজী নাহিদ ইভার জন্য শুভকামনা জানান তাঁরা।

সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সগড়ায় ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জে জমে উঠেছিল ‘সগড়া ডে-নাইট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বুধবার সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে ‘লিজেন্ড অব সগড়া’ ও ‘কেজি টপ ওয়ান’ দল মুখোমুখি হয়।

সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ১ নম্বর রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর থানা বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল খান। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফেরদৌস আহম্মেদ নেভিন।

টুর্নামেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন মো. আব্দুল আহাদ রঞ্জু মিয়া। ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বিদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত থেকে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন।

ফাইনাল খেলায় লিজেন্ড অব সগড়া ও কেজি টপ ওয়ান দলের মুখোমুখি লড়াই ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। খেলা শেষে আয়োজকরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে পৈত্রিক ভিটায় চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দুর্ভোগে ৩ পরিবার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে তাদের অন্য বাড়ির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সম্প্রতি পৌর শহরের চণ্ডিবের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে মাহমুদুল হাসান রনি (৩১), তাহের আলী (৫০), শফিক মিয়া (৪০), নুর মিয়া (৪০), আব্দুর রহিম (৫৫) ও মিজান মিয়া (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির মাঝখানের চলাচলের উঠান বা রাস্তাটি টিন ও বাঁশ দিয়ে শক্তভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বংশপরম্পরায় তিনটি পরিবারের সদস্যরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছিলেন। হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা ঘরবন্দি হওয়ার উপক্রম হয়েছেন।

ভুক্তভোগী মিন্নাত আলী বলেন, “আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমরা ছয় ভাই ও আমাদের সন্তানরা বসবাস করছি। আমাদের ভাইদের মধ্যে এখনো কোনো বাটোয়ারা বা বণ্টননামা দলিল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান রনিসহ একটি ভূমিদস্যু চক্র আমাদের পরিবারের দুই ভাই তাহের আলী মিয়া ও আরমান মিয়ার কাছ থেকে লিখিত পাওয়ার নিয়ে আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও টয়লেট ভেঙে বসতবাড়ি দখল করে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর তারা আমার তিন ভাইয়ের ঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। যার কারণে আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাকি ভাইদের বাড়ির অংশ বিক্রি না করায় ঘরের সামনেই টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আমাদের দুর্ভোগে ফেলেছে। আমরা আমাদের নিজ পৈত্রিক ভিটায় স্বাধীনভাবে চলাচল করতে পারছি না। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান বলেন, “শফিকুল রহমানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গত পাঁচ দিন ধরে এই বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তাদের কিছু বলতে গেলেই তারা ক্ষমতা দেখায় এবং বলে—আমাদের বিচার করার কেউ নেই। যারা জমি কিনেছেন বলে দাবি করছেন, দলিলেও তাদের নাম নেই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমিদস্যু মাহমুদুল হাসান রনির সঙ্গে যোগসাজশ করে শফিকুল ইসলাম, তাহের মিয়া ও নুরু মিয়ারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। আমরা এর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং চলাচলের জন্য আমাদের জায়গা উন্মুক্ত চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান রনি বলেন, “আমরা একজন ওয়ারিশ বাদে বাকি সবার কাছ থেকেই জমি কিনেছি। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমিতেই বেড়া দিয়েছি এবং ভুক্তভোগীদের চলাচলের জন্য বিকল্প জায়গা করে দিয়েছি।”

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “ইদানীং ভৈরবে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। চলাচলের রাস্তা একটি মৌলিক অধিকার। মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা যাই থাকুক না কেন, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। এটি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এসআরবি-১৪-এর অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ পুলিশের এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’ দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআরবি-১৪-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিজ্ঞ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সদর থানার মাদক মামলা নম্বর-৩২(১)১৯-এর আসামি মো. রাব্বি মিয়া (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার রাব্বি মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মো. ইসলাম উদ্দিনের ছেলে। সদর থানার মাদক মামলায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় আদালত তাকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেন। তিনি আদালতের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

এসআরবি-১৪-এর আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।