বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে কটিয়াদীতে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কর্মযজ্ঞ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে কটিয়াদীতে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কর্মযজ্ঞ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন, মাঠ প্রস্তুত, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা কার্যক্রম জোরেশোরে এগিয়ে চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন স্টেডিয়াম মাঠে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সেখানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম, ফ্যান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রমও চলছে।

আচমিতা-১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ মো. ইকবাল বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর আচমিতা ইনস্টিটিউশন মাঠে আসবেন। সেখানে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। মাঠে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। মাঠের প্রস্তুতির কাজও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তির আগমন তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়।

আচমিতা ৬ নম্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে প্রায় দুই মাস ধরে ঢাকা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন। কটিয়াদী মৎস্য চাষের জন্য পরিচিত একটি এলাকা। এখানে শত শত মৎস্য খামার ও হ্যাচারি রয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ এলাকাটি বেছে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের নির্দেশনায় প্রস্তুতিমূলক কাজে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউসার মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে কটিয়াদী সরকারি কার্প হ্যাচারি পরিদর্শনের বিষয় রয়েছে। এ কারণে হ্যাচারিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কটিয়াদী জোনাল অফিস ও কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবু সাঈদ বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে চার স্প্যানের নতুন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। পুরোনো সিঙ্গেল ফেজ ব্যবস্থাকে আপগ্রেড করা হয়েছে। লাইনের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছও অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানের জন্য ৩০০ কেভিএ ক্ষমতার জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইভেন্টে প্রায় ৮০টি ফ্যান, ৬০ টনের একটি বড় এসি, সাউন্ড সিস্টেম এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট আচমিতা মিনি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ–২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সরকারি দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও অনুষ্ঠানস্থলের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। কটিয়াদী উপজেলার যেসব এলাকা উন্নয়নকাজে পিছিয়ে রয়েছে, সফরের সময় সেসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পাশাপাশি উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হবে।

ইউএনও বলেন, অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

কুলিয়ারচরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, স্কুলছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে মারধর

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ারচরে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, স্কুলছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে মারধর

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় এক স্কুলছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই ইউনিয়নের একটি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে অনিক মিয়া নামের এক কিশোর লোহার পাইপ নিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এর এক দিন আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মাধবদী কান্দাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

অভিযুক্ত অনিক মিয়া মাধবদী কান্দাবাড়ি এলাকার নজরুল মিয়ার ভাগিনা। সে তার নানার বাড়িতে বসবাস করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় পরদিন ওই কিশোর লোহার পাইপ নিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে ছাত্রীটির ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রীটি আহত হয়। তবে তার আঘাতের ধরন ও চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আবারও হামলার আশঙ্কায় পুরো পরিবার উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তিনি বলেন, ‘কাউকে উত্ত্যক্ত করা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

ভৈরবে খুঁটি থেকে লাফিয়ে খালে গোসল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে খুঁটি থেকে লাফিয়ে খালে গোসল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফিয়ে খালে গোসল করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল্লাহ মিয়া (১১) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের বধূনগর গ্রামের একটি খালে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল খাল থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আব্দুল্লাহ মিয়া বধূনগর গ্রামের প্রবাসী নজরুল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলের টিম লিডার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালান। পরে রাত ৭টা ২০ মিনিটের দিকে খাল থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আব্দুল্লাহসহ চার সহপাঠী বাড়ির পাশের বধূনগর খালে গোসল করতে যায়। তারা খালের পাশে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফিয়ে পানিতে নামছিল। এ সময় খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

তাদের ভাষ্য, হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে যায়। এ সময় অপর তিনজনও বিদ্যুতের শক অনুভব করলেও তারা পানিতে তলিয়ে যায়নি।

আব্দুল্লাহর আত্মীয় মাসুম মিয়া বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সেখানে মেরামতের কাজ করছিলেন। কাজের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। হঠাৎ সংযোগ চালু হলে চারজনই বিদ্যুতের উপস্থিতি অনুভব করে। তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আব্দুল্লাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ পরিবারের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই ও বোন রয়েছে। তার বাবা ও বড় ভাই সৌদি আরবে থাকেন।

নিহতের বোনজামাই রাজু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের কাজ চলার পর খুঁটিতে কীভাবে আবার সংযোগ দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, পানিতে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতার নাম

তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথসভা ও মানববন্ধন

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথসভা ও মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও পথসভা করেছেন উপজেলা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে এসব বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে নিকলী গার্লস স্কুল মোড়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পথসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া বলেন, সম্প্রতি নিকলী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী এবং প্রতিটি ইউনিয়নে সুপারভাইজার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, নিয়োগের তালিকায় উপজেলা প্রশাসনের স্থানীয় কর্মচারীদের পরিবারের সদস্য, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে বলে তারা দেখতে পেয়েছেন। এসব নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান তিনি।

মানিক মিয়া আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ফসলি জমি ভরাট, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পুরোনো পুকুর ও জলাশয় ভরাট এবং সরকারি রাস্তার পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি হারুন-অল-কাইয়ুম, সদর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি হারুন আর রশীদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আলী হোসেনসহ সাত ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। অন্যদিকে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হাঁস প্রতীকে জয়ী হন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।

নির্বাচনের পর স্থানীয় বিএনপিতে ধানের শীষপন্থী ও ইকবালপন্থী—এমন দুটি বলয় তৈরি হয়েছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বহিষ্কৃত হন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধও রয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় ও সুবিধাবঞ্চিত বিএনপি নেতাদের দাবি, নির্বাচনের পর থেকে ইকবালপন্থীদের উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার রয়েছে। এর ফলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রশাসনিক সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলেও তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদা উপজেলা প্রশাসনের সমালোচনা করেন। তিনি নিকলী উপজেলা প্রশাসনকে ‘মেরুদণ্ডহীন প্রশাসন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রশাসন দলীয় নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে পুনর্বাসন করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও বহিষ্কৃত ইকবালপন্থীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে সৈয়দ এহসানুল হুদার এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ৫০ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ যাচাই করে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়োগ বাতিল করা হবে।

ইউএনও স্বীকার করে আরও বলেন, সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের কর্মকাণ্ডে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এমন কোনো ব্যক্তিকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41