বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে হত্যা: র‌্যাবের হাতে দুই পলাতক আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে হত্যা: র‌্যাবের হাতে দুই পলাতক আসামি

জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জে মাহতাব (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওই হত্যা মামলায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার শামীম (৩২) এবং মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মমিন মিয়া (২১)।

র‌্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ আগস্ট পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ আগস্ট রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি দল র‌্যাব-৪-এর সিপিসি-৪, মিরপুর, ঢাকা ক্যাম্পের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুর থানার পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে মমিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাহতাবকে হত্যা করা হয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী ও মামলার এক নম্বর আসামি মো. বাদল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন মাহতাব। জমি রেজিস্ট্রির সময় বাদল মিয়া ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৮০ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৬ জুলাই বাদল মিয়ার স্ত্রী মাহতাবকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিন পর ৩ আগস্ট রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাদল মিয়া ফোন করে মাহতাবকে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্য যেতে বলেন।

এজাহারে বলা হয়, ফোন পেয়ে সরল বিশ্বাসে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কড়িয়াইল এলাকার মতি মিয়ার ধানখেতের কাছে যান মাহতাব। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় মাহতাব গুরুতর আহত হন।

পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আসামিরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. সুমন (২৭) বাদী হয়ে ৪ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে র‌্যাব জানিয়েছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডনের জামিন নামঞ্জুর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডনের জামিন নামঞ্জুর

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার একটি আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম ডনের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারের পর থেকে ডন কারাগারে রয়েছেন। তিন দিনের মাথায় জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।

সালমান শাহ হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচিত। ১৯৯৬ সালে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকে ঘটনাটি নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার মৃত্যুর ঘটনা।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জিয়া পরিবার ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জিয়া পরিবার ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রিজভীর

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শক্তিকে দেশের জনগণ আর সুযোগ দেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিল। এ কারণে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে নিয়ে শেখ হাসিনা নানামুখী ষড়যন্ত্র করেছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের সময় আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছে। একটি পরিবারকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করতে শেখ হাসিনা কোনো কিছুই বাদ রাখেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হওয়ার কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরিদের পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। জিয়া পরিবারের দেশপ্রেম শেখ হাসিনা কোনোভাবেই বরদাশত করতে পারেননি। জনগণের আন্দোলন ও প্রতিরোধের মুখে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এ দেশের একজন বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ছিলেন। এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য শেখ হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই, যা করেননি।’

রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার বাবা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন। জিয়াউর রহমান কেন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন—এ কারণে তার পরিবারকে প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো মেনে নিতে পারেননি দাবি করে রিজভী বলেন, এ কারণে জিয়া পরিবারের সদস্যদের একের পর এক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে চলে যান বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘আজকে কী হয়েছে? জনগণের ধাওয়া খেয়ে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আর শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

আরাফাত রহমান কোকোর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্রীড়ার উন্নয়নে কোকোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এবং তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করার বিষয়েও তিনি কাজ করেছেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে আছেন। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একজন একান্ত সহকর্মী ও সতীর্থ হিসেবে যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ক্রীড়া উন্নয়নে কোকোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করবেন। সময়ের মধ্যেই তিনি তা করতে পারবেন। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।’

সিলেটে একই বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে একই বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

সিলেট মহানগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও এক কিশোরী গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন—এমএ সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১১ নম্বর বাসাটির বাসিন্দা হাজী আব্দুস সাত্তার মিয়া। তিনি এলাকায় মুরব্বি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে বাসাটিতে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41