জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে হত্যা: র্যাবের হাতে দুই পলাতক আসামি
জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জে মাহতাব (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওই হত্যা মামলায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—কিশোরগঞ্জ জেলার শামীম (৩২) এবং মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. মমিন মিয়া (২১)।
র্যাব-১৪ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ ও ১১ আগস্ট পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে ১০ আগস্ট রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের একটি দল র্যাব-৪-এর সিপিসি-৪, মিরপুর, ঢাকা ক্যাম্পের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুর থানার পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীমকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার মির্জাপুর বাজার এলাকা থেকে মমিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জমি বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাহতাবকে হত্যা করা হয়। প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী ও মামলার এক নম্বর আসামি মো. বাদল মিয়ার কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ২ শতাংশ জমি বিক্রি করেন মাহতাব। জমি রেজিস্ট্রির সময় বাদল মিয়া ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি ৮০ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৬ জুলাই বাদল মিয়ার স্ত্রী মাহতাবকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিন পর ৩ আগস্ট রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বাদল মিয়া ফোন করে মাহতাবকে পাওনা টাকা নেওয়ার জন্য যেতে বলেন।
এজাহারে বলা হয়, ফোন পেয়ে সরল বিশ্বাসে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার কড়িয়াইল এলাকার মতি মিয়ার ধানখেতের কাছে যান মাহতাব। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় মাহতাব গুরুতর আহত হন।
পরে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর আসামিরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. সুমন (২৭) বাদী হয়ে ৪ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫ এবং এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে র্যাব জানিয়েছে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪-এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জের পৃথক অভিযান পরিচালনা করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array