পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে সাফল্য, সরকারি সহায়তা চান কৃষকরা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের কয়রা বিলে চলতি মৌসুমে পরিবেশবান্ধব মালচিং (Mulching) পদ্ধতিতে করলা চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর এ পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ সহজ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে করলা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষকদের দাবি, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগাছা দমন, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং সেচ ও পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সঙ্গে উৎপাদিত করলা বাজারে ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে এ প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত করতে সরকারি পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির ওপর বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট (মালচিং শিট) বিছিয়ে চারা রোপণ করা হয়। এতে আগাছা জন্মাতে পারে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। ফলে সেচের প্রয়োজন কমে যায় এবং কীটনাশক ও শ্রম ব্যয়ও অনেকাংশে হ্রাস পায়।
চাষিরা জানান, মালচিং পদ্ধতিতে চারা রোপণের ৩৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই করলা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। বাজারে নিরাপদ ও সতেজ সবজি হিসেবে এ করলার চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে তুলনামূলক কম খরচে কয়েক গুণ বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা জানান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ চরপুমদীসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের করলার আবাদ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত খেত পরিদর্শন করে রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলিমুল শাহান বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে কম খরচে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাজারে এসব করলার বাণিজ্যিক চাহিদাও বেড়েছে। এ প্রযুক্তি দ্রুত উপজেলার অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সবজি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সবজি চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হোসেনপুরে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array