বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে সাফল্য, সরকারি সহায়তা চান কৃষকরা

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষে সাফল্য, সরকারি সহায়তা চান কৃষকরা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের কয়রা বিলে চলতি মৌসুমে পরিবেশবান্ধব মালচিং (Mulching) পদ্ধতিতে করলা চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিনির্ভর এ পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ সহজ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে করলা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষকদের দাবি, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগাছা দমন, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং সেচ ও পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একই সঙ্গে উৎপাদিত করলা বাজারে ভালো দামে বিক্রি হওয়ায় তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে এ প্রযুক্তি আরও বিস্তৃত করতে সরকারি পর্যায়ে কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমির ওপর বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট (মালচিং শিট) বিছিয়ে চারা রোপণ করা হয়। এতে আগাছা জন্মাতে পারে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। ফলে সেচের প্রয়োজন কমে যায় এবং কীটনাশক ও শ্রম ব্যয়ও অনেকাংশে হ্রাস পায়।

চাষিরা জানান, মালচিং পদ্ধতিতে চারা রোপণের ৩৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই করলা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। বাজারে নিরাপদ ও সতেজ সবজি হিসেবে এ করলার চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে তুলনামূলক কম খরচে কয়েক গুণ বেশি আয় করা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ চরপুমদীসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের করলার আবাদ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত খেত পরিদর্শন করে রোগবালাই দমন, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলিমুল শাহান বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে কম খরচে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাজারে এসব করলার বাণিজ্যিক চাহিদাও বেড়েছে। এ প্রযুক্তি দ্রুত উপজেলার অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিক সবজি চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”

স্থানীয় কৃষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ী এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সবজি চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে হোসেনপুরে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রাস্টি এবং নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল।

পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপিকে।

ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

অন্যদিকে, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটিতে পদাধিকারবলে অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য-সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (IUGIP)-এর অর্থায়নে মোট ৫০ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাকুন্দিয়া এলাকায় গামলা মুন্সীর বাড়ি থেকে সামাদ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ৩৯১ মিটার সড়ক ইউনিব্লক (ইন্টারলকিং ব্লক) দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকায় ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একইভাবে পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকার সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ হাতে নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, প্রকল্পের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. তন্ময় জামান, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এরফান উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এ এম মিনহাজ উদ্দিন, পাকুন্দিয়া বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন ও আমিনুল হক জর্জ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জ্বলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে আসবে।

পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে শফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম চরপলাশ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

নিহতের ভাতিজা মো. রমজান আলী জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে শফিকুল ইসলাম বাড়ির সামনের নিজ জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কৃষিকাজ না করার বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41