বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

তাড়াইলে সারের জন্য কৃষকের ছোটাছুটি, কোথাও সংকট- কোথাও বেশি দাম

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে সারের জন্য কৃষকের ছোটাছুটি, কোথাও সংকট- কোথাও বেশি দাম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আমন ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। তবে আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক কৃষককে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে। কোথাও সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও অল্প পরিমাণ সার মিললেও সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, তাড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে আমনের ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি বিভাগের এমন দাবির সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতার পার্থক্যই এখন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—মজুত পর্যাপ্ত থাকলে প্রয়োজনের সময় কৃষকের হাতে সার পৌঁছাচ্ছে না কেন?

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। একই সময়ে টিএসপি ৯০১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩ হেক্টর।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩ হেক্টর। সব মিলিয়ে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে।

সারের সংকট ও সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ করেছেন কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া, আইনুল ইসলাম, রুকন মিয়া, শামীম মিয়া, ফজলুর রহমান, দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

কৃষকদের প্রশ্ন, কৃষি বিভাগ যদি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার কথা বলে, তাহলে মাঠপর্যায়ের বিক্রেতাদের কাছে কেন চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি এবার ৩০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। বর্তমানে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ডিলারের কাছে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো সার কিনতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, সার সংগ্রহের জন্য আবারও যেতে হবে।

তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, তাড়াইলে সারের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে জেলা সদর ইউনিয়ন থেকে কিছু সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সংকট একেবারে নেই- এমনটা বলা যাবে না। বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী কৃষকদের সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে সারের পরিস্থিতিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। কোনো কোনো এলাকায় কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। আবার কোথাও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে? বরাদ্দের পরিমাণ স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ঠিকমতো হচ্ছে কি না এবং সরকারি মূল্যে সার কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ আমন মৌসুমে সময়মতো জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ফলনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই।

সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাস্টাররোলে কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাহিদার বিপরীতে উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। এরপরও কোনো কৃষক প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ ও কৃষি বিভাগের দাবির মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ, বরাদ্দ, ডিলার পর্যায়ের মজুত এবং বিক্রয়মূল্য—সবকিছুই নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে সিদ্দিক মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিদ্দিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ লাল মাহমুদের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির লোকজন সিদ্দিক মিয়াকে বাড়ির একটি গাছের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সিদ্দিক মিয়া কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করছিলেন না। তাঁর আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান জোয়ারদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পৃথক চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দুজন, করিমগঞ্জে একজন, হোসেনপুরে একজন, কটিয়াদীতে তিনজন, ভৈরবে একজন, নিকলীতে দুজন এবং ইটনায় একজন রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেকান্দর আলী (৪৫), মাইজখাপন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মিয়া (৫৫), হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দুলাল মিয়া (৫৩), ইটনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. আবু তালেব (৪৩), করিমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মো. প্রান্ত (২৪), নিকলী আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ আলী বিজয় (৪১) ও মো. আলমগীর (৩০), ভৈরবের শ্রীনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. স্বপন আহমেদ (৪০), কটিয়াদীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য মো. মিয়াদ (৪০), আওয়ামী লীগের ইউপি সহসভাপতি মো. গোলাপ মিয়া (৫৮) এবং যুবলীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি তোতা মিয়া (৪২)।

জেলা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ আরও জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে মোট ৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, ভৈরবে ১০ জন, করিমগঞ্জে ৫ জন, কুলিয়ারচরে ২ জন, হোসেনপুরে ১ জন, পাকুন্দিয়ায় ১ জন, ইটনায় ২ জন, মিঠামইনে ২ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুর ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন তিনি। পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোগীর স্বজন জহির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করায় রোগীর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে ভৈরবের দুজন ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।