বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পৃথক চিরুনি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দুজন, করিমগঞ্জে একজন, হোসেনপুরে একজন, কটিয়াদীতে তিনজন, ভৈরবে একজন, নিকলীতে দুজন এবং ইটনায় একজন রয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেকান্দর আলী (৪৫), মাইজখাপন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মিয়া (৫৫), হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দুলাল মিয়া (৫৩), ইটনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. আবু তালেব (৪৩), করিমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মো. প্রান্ত (২৪), নিকলী আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ আলী বিজয় (৪১) ও মো. আলমগীর (৩০), ভৈরবের শ্রীনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. স্বপন আহমেদ (৪০), কটিয়াদীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য মো. মিয়াদ (৪০), আওয়ামী লীগের ইউপি সহসভাপতি মো. গোলাপ মিয়া (৫৮) এবং যুবলীগের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি তোতা মিয়া (৪২)।

জেলা পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ আরও জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলাকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে সিদ্দিক মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিদ্দিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ লাল মাহমুদের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির লোকজন সিদ্দিক মিয়াকে বাড়ির একটি গাছের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সিদ্দিক মিয়া কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করছিলেন না। তাঁর আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান জোয়ারদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২২ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

কিশোরগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ জন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে মোট ৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬০২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন এবং কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ ছাড়া বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, ভৈরবে ১০ জন, করিমগঞ্জে ৫ জন, কুলিয়ারচরে ২ জন, হোসেনপুরে ১ জন, পাকুন্দিয়ায় ১ জন, ইটনায় ২ জন, মিঠামইনে ২ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরিফুর ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতায় ভুগছিলেন তিনি। পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রোগীর স্বজন জহির উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করায় রোগীর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তিনি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। এখন পর্যন্ত জেলায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে ভৈরবের দুজন ডেঙ্গু রোগী ঢাকায় ও ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য জেলায় পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যক্রম চলছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও তৎপর রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ২৮৫ পিস নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ২৫ পিস চায়না দুয়ারী (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাড়াইল সদর বাজারে মাছুম মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এসব জাল জব্দ করা হয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী।

অভিযান চলাকালে উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন মেসার্স লাবিব পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স না থাকায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মৎস্য ও পশুখাদ্য-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পরে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী (রিং) জাল তাড়াইল উপজেলা পরিষদের খোলা জায়গায় নিয়ে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মারুফ আকন্দ। তাড়াইল থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।

তাড়াইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।