ভৈরবে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
সংগ্রহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জিদনী সায়হাম (৩৫) ও সৈয়দ বানু (৬৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিদনী সায়হাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সৈয়দ বানু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরপর দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনী সায়হামের মৃত্যু হয়। তিনি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন আগে জিদনী সায়হাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর শরীরে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ বানু (৬৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জিদনী সায়হামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় একটি সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভৈরব শহরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁরা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, ‘ভৈরব শহরে ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। একই দিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ময়লা ফেলা বন্ধ এবং জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
আরেক বিক্ষোভকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শুধু মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নিলে হবে না। আগে থেকেই মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ফলে শহরের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুটি মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। রেলওয়ে স্টেশন সড়কের পাশে আর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হবে না। অন্যত্র বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’
স্থানীয়দের দাবি, ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মশক নিধন অভিযান জোরদার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array