বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

ভৈরবে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে জিদনী সায়হাম (৩৫) ও সৈয়দ বানু (৬৫) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জিদনী সায়হাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সৈয়দ বানু ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরপর দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিদনী সায়হামের মৃত্যু হয়। তিনি ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন আগে জিদনী সায়হাম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর শরীরে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ বানু (৬৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় দুজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জিদনী সায়হামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্থানীয় একটি সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভৈরব শহরে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁরা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত ভূঁইয়া বলেন, ‘ভৈরব শহরে ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। একই দিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা সড়ক অবরোধ করেছি। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ময়লা ফেলা বন্ধ এবং জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

আরেক বিক্ষোভকারী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শুধু মৃত্যুর পর ব্যবস্থা নিলে হবে না। আগে থেকেই মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে পরে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ফলে শহরের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দুটি মৃত্যুর ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। রেলওয়ে স্টেশন সড়কের পাশে আর ময়লা-আবর্জনা ফেলা হবে না। অন্যত্র বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।’

স্থানীয়দের দাবি, ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে মশক নিধন অভিযান জোরদার, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নৌকার মাঝি আটক

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে বাবর আলী (৫৫) নামে এক নৌকার মাঝিকে আটক করেছে নৌপুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার বেতেকা গ্রামের হস্ত ধনু নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বাবর আলী ইটনা উপজেলার সড়কহাটি এলাকার বাসিন্দা।

নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত একটি বালুবাহী নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত নৌকার মাঝি হিসেবে বাবর আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধনু নদীতে চলাচলরত বালুবাহী ও মালবাহী বিভিন্ন নৌযান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

ধনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নৌপথে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

নৌপুলিশের এই অভিযানের ফলে ধনু নদীপথে চলাচলকারী বালুবাহী ও মালবাহী নৌযান থেকে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

ভৈরবে যুবলীগ নেতা সৈকত হত্যা: তিন দিন পর ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে যুবলীগ নেতা সৈকত হত্যা: তিন দিন পর ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যুবলীগ নেতা আল-আমিন সৈকত (৪৩) হত্যার ঘটনায় তিন দিন পর ২৩ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি; তারা পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে নিহতের চাচা ও তিন চাচাতো ভাই রয়েছেন। এ ছাড়া অন্য আসামিরাও নিহতের পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে আল-আমিন সৈকতের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের সঙ্গে তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানমের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আল-আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ভৈরব চেম্বারের সাবেক পরিচালক এবং জেলা সার সংগঠন বিএফএ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ভৈরব বাজারে তার একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সার ও রাইস মিল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী তানিয়া খানম বলেন, “আমার স্বামীর সঙ্গে তাঁর চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরোধ ছিল। তাঁদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে আমার স্বামী এসব কথা বলে গেছেন। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিন দিন পর মামলা করেছি। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের কঠোর বিচার দাবি করছি।”

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনার তিন দিন পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বুধবার মামলাটি করেছেন। এজাহারে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। মামলার তদন্তের পাশাপাশি হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ভৈরবে জেলের ঘরে আগুন, চালের ড্রামে রাখা ২২ লাখ টাকা পুড়ে ছাই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে জেলের ঘরে আগুন, চালের ড্রামে রাখা ২২ লাখ টাকা পুড়ে ছাই

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে জেলে মোক্তার উদ্দিনের (৫০) বসতঘরসহ পাঁচটি ঘর পুড়ে গেছে। এ সময় তাঁর ঘরের চালের ড্রামে রাখা প্রায় ২২ লাখ টাকা পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগুনে নগদ টাকার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্রও পুড়ে যায়। পরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আংশিক পোড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শ্যামপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের চেষ্টায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

মোক্তার উদ্দিন শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই বাড়ির পাশের মেঘনা নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। প্রতিদিন মাছ বিক্রি করে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয়, বড় ছেলের পাঠানো টাকা এবং ঋণের অর্থ মিলিয়ে তাঁর কাছে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

মোক্তার উদ্দিনের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে খাইরুলকে প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাঠান তিনি। খাইরুল নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠান বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

ছোট ছেলে সাইফুল ইসলামের (২২) বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে টাকা সঞ্চয় করছিলেন মোক্তার উদ্দিন। আগামী মাসে সাইফুলকে মালয়েশিয়া পাঠানোর জন্য টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল।

এর মধ্যে চলতি মাসে পাশের গ্রামের একটি এনজিও থেকে কিস্তির মাধ্যমে আরও ৪ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর কাছে প্রায় ২২ লাখ টাকা জমা হয়। ব্যাংক হিসাব না থাকায় টাকাগুলো তিনি বাড়ির একটি চালের ড্রামে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে শ্যামপুর মধ্যপাড়ার রিয়াজ মিয়ার ঘরে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশাপাশি থাকা মোট পাঁচটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে শ্যামপুর গ্রামটি উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আগুনে মোক্তার উদ্দিনের ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। একই সঙ্গে চালের ড্রামে রাখা নগদ টাকাও আগুনে পুড়ে যায়। পরে পোড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আংশিক পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানান মোক্তার উদ্দিন।

মোক্তার উদ্দিন বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে হাজার হাজার টাকা জমিয়ে লক্ষ টাকার বান্ডিল বানিয়ে চালের ড্রামে রাখতাম। ভোরে নদীতে গিয়ে রাতে বাড়ি ফিরতাম। আবার কোনো কোনো দিন সন্ধ্যায় নদীতে গিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতাম। এভাবে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকার মাছ বিক্রি করে আয় হতো। কষ্টের এই টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমি দিশেহারা। এখন কীভাবে আমার ছেলেকে মালয়েশিয়ায় পাঠাব, বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু রহমান বলেন, ‘মোক্তার উদ্দিন সহজ-সরল মানুষ। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজে তাঁর তেমন মনোযোগ নেই। কয়েক মাসে একবারও উপজেলা সদরে যাওয়া হয় না তাঁর। ব্যাংকে টাকা রাখতে ঝামেলা মনে করায় তাঁর কোনো ব্যাংক হিসাবও নেই।’

আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘শ্যামপুর গ্রামে আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি। অগ্নিকাণ্ডে তাঁদের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার বোন খাইরুন্নেসার ঘরে স্বর্ণালংকার ছিল। আগুনের পর সেগুলো বের করতে গেলে সে আহত হয়।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির কথা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মোটামুটি অস্বচ্ছল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে।’

মোক্তার উদ্দিনের আংশিক পোড়া টাকা প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, ‘প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আংশিক পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংকের মাধ্যমে এসব টাকা পরিবর্তন করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হবে।’

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।