লাল মাটির মধুপুর থেকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান
কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন ৩০তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান কর্মজীবনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগে প্রায় চার বছর রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চিকিৎসাসেবায় তাঁর নেতৃত্বে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দায়িত্বকালেই মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। সীমিত জনবল ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে তিনি কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে একদল তরুণ চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান ও বিভিন্ন কর্মদক্ষতার সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে তাঁর দায়িত্বকালে। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তালিকায় স্থান অর্জন করে। এ কৃতিত্ব মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তিনবার অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলের ‘লাল মাটির উপজেলা’ হিসেবে পরিচিত মধুপুর ভৌগোলিকভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে মধুপুর থেকে জামালপুর ও ময়মনসিংহের দূরত্বও প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। তিন দিকের জেলা শহর থেকে তুলনামূলক দূরত্বের কারণে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য আসতে হয়। ফলে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপও তুলনামূলক বেশি।
এই বাস্তবতায় সীমিত জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা এবং হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মেধাবী এই চিকিৎসক ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তিনি টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে তাঁর পদায়নে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array