রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বেগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বেগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, অনাস্থা, মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগগুলোতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিনামূল্যের সরকারি বই বিতরণে অনিয়ম, পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে অসংগতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল ইসলাম ভূইয়া অভিযোগের বিষয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।

তাঁর দাবি, সরকারি বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতের অর্থের হিসাব যথাযথভাবে পরিচালনা এবং আর্থিক কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পড়ছে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকদ্দমা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং প্রশাসনিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দাবি করে বলেন, বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা মিলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক সদস্য মো. হুমায়ুন সরকার, মো. রুহুল মিয়া ও ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার একটি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয় থেকে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক বিরোধের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, কোনো পক্ষের অভিযোগকে একতরফাভাবে সত্য ধরে না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের বিষয়গুলো যাচাই করার দাবি জানান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম (রুবেল), শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে কমিটি গঠন, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিরোধের প্রভাব বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও পড়ছে বলে তাঁরা জানান।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা, অভিযোগ ও তদন্তের ঘটনা ঘটেছে। আবার কোনো কোনো অভিযোগ পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এ কারণে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থে বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন ও দূর্জয় বলেন, বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং বিদ্যালয় তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে শিক্ষকদের মধ্যে চলমান কোন্দল ও রেষারেষি সামাজিকভাবে বসে মীমাংসা করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নানা অভিযোগ, বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা।

তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সুনাম ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।