২১ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া, ১২ খণ্ডকালীন শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে ২১ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করেই চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, হোসেনপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১৮ সালে জাতীয়করণের পর অবসরজনিত কারণে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। পরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ জনকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কলেজ শাখায় দুজন, দিবা শাখায় পাঁচজন এবং প্রভাতী শাখায় পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, নিয়োগের পর প্রথমদিকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে দুই-তিন মাস পরপর এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হতো। এভাবে দীর্ঘদিন বেতন পরিশোধে অনিয়মের কারণে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত তাঁদের ২১ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতির নোটিশ দেন। তাঁদের দাবি, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তাঁদের অনেকেই সংসারের দৈনন্দিন খরচ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধার-দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। পাওনা বেতন পরিশোধ না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় তাঁরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিষয়টির সম্মানজনক নিষ্পত্তি না হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
চাকরিচ্যুত শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া অমানবিক। তাঁরা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি চলতি বছরের ৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের যে বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, তা তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়ের। তবে তাঁর সময়কালের বেতন-ভাতা আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ ও নিরীক্ষা শাখার পরিচালক মশিউর রহমান তাঁকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে এসব বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হলে ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করা হবে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের কবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কতদিন তাঁরা চাকরি করেছেন এবং কবে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে—এসব তথ্য তাঁর জানা নেই।
তিনি বলেন, স্কুল ফান্ডে টাকা থাকলে চাকরিচ্যুত করা হলেও সর্বোচ্চ যতটুকু দেওয়া সম্ভব, তা দেওয়া উচিত। বকেয়া বেতন-ভাতার বিষয়ে তিনি বলেন, আগের সময়ে তাঁরা কাজ করেননি—এমন নয়। যিনি অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকবেন, তাঁরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দায়িত্ব।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array