শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV) ক্যাম্পেইন-২০২৬’। এ কর্মসূচির আওতায় তিন উপজেলায় এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৭ লাখ ২৫ হাজার ১৩৮ জনকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।

এর মধ্যে করিমগঞ্জে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮১, হোসেনপুরে ২ লাখ ৭ হাজার ১৪১ এবং তাড়াইলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

আগামীকাল থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য প্রথম ডোজ গ্রহণের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

টিকাদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনগুলোতে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। অন্যান্য দিনে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল টিকাদান দলের মাধ্যমে সব বয়সী উপযুক্ত নাগরিককে টিকার আওতায় আনা হবে।

আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এর উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

উদ্বোধনী কার্যক্রমের জন্য করিমগঞ্জে চর দেহুন্দা কমিউনিটি ক্লিনিক ও জ্ঞান সিঁড়ি স্কুল, হোসেনপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তাড়াইলে দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকা গ্রহণের আগে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর দেওয়া কার্ডটি পরবর্তী সময়ে হেলথ কার্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে কাজ করবে। করিমগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি, হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৮টি এবং তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর সমন্বয় ও অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আজিজুল হক তানজিল এবং ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিসেফের ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তরিকুল ইসলাম।

সভায় টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারী কাদেরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) ও আইসিডিডিআর,বি’র (icddr,b) যৌথ ব্যবস্থাপনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তত্ত্বাবধানে গ্যাভি (Gavi), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ও আইএফআরসি (IFRC)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ডোজ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাছের সংকটে কিশোরগঞ্জের হাওরের জেলেরা, বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
মাছের সংকটে কিশোরগঞ্জের হাওরের জেলেরা, বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতি

সংগ্রহীত ছবি

একসময় মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। হাওরের নদী, খাল-বিল ও জলমহাল ঘিরে গড়ে উঠেছিল হাজারো জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা। তবে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এখন সংকটে পড়েছে এসব পরিবারের জীবন-জীবিকা। আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

জেলেদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল, রিং জাল ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার, নির্বিচারে পোনা মাছ নিধন, জলমহালের অপরিকল্পিত ইজারা এবং নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় হাওরে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। এর ফলে একদিকে মৎস্যজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশি নানা প্রজাতির মাছও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।

কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখনো জেলেদের বিচরণ চোখে পড়ে। কোথাও দলবদ্ধভাবে জাল টেনে মাছ ধরছেন জেলেরা, আবার কোথাও একাকী নৌকায় মাছ শিকারে ব্যস্ত কেউ। হাওরাঞ্চলের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন এই মৎস্য আহরণ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় ভোরে জাল নিয়ে হাওরে বের হলে জেলেরা মাছভর্তি নৌকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। কিন্তু সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দিনের পর দিন হাওরে অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না অনেক জেলে। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

এক জেলে বলেন, “সারাদিন পানিতে ডুবে মাছ ধরি। এখন মাছই পাই না। মাছ না পেলে সংসার চালানোর আর কোনো উপায় থাকে না।”

আরেক জেলের ভাষ্য, বর্তমানে মাছ পাওয়া গেলেও তা দিয়ে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন। দৈনিক আয় থেকে নৌকা, জাল ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে হাতে খুব সামান্য অর্থ থাকে।

হাওরের মাছের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীদেরও একই অভিযোগ। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হতো, সেখানে এখন তার চার ভাগের এক ভাগও হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “কয়েক বছর আগেও এখান থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ সারা বাংলাদেশে যেত। এখন সেই তুলনায় মাছের সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।”

জেলেদের ভাষ্য, আগে চিংড়ি, রানি, মহাশোল, সরপুঁটি, রিটা, পাঙ্গাস, আইড়, চিতল, পাবদা, কালিবাউশ, গাংমাগুর ও শালবাইমসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ প্রচুর পাওয়া যেত। এখন এসব মাছের অনেক প্রজাতিই আগের তুলনায় খুব কম পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রজাতি স্থানীয়ভাবে প্রায় বিলুপ্তির পথে বলে দাবি তাঁদের।

জেলেদের অভিযোগ, মাছের প্রজনন মৌসুমে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং নির্বিচারে পোনা মাছ ধরার কারণে হাওরের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চায়না দুয়ারি, রিং ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

তাঁদের আরও দাবি, জলমহালের অপরিকল্পিত ইজারা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষায় অভয়াশ্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান অভয়াশ্রমগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালানো হলেও পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে অভয়াশ্রমের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ যেসব জাল রয়েছে, সেগুলোর ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে জেলায় ২১টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। আরও ২৫টি অভয়াশ্রম স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে হাওরের জলজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর নজরদারির ওপর জোর দিচ্ছেন মৎস্যসংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনা, মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ, পোনা নিধন বন্ধ এবং নদ-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ উদ্যোগ কার্যকর করা গেলে একদিকে যেমন হাওরের মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে সংকটে থাকা জেলেদের জীবন-জীবিকাও ঘুরে দাঁড়াবে। পাশাপাশি দেশি মাছের বৈচিত্র্য ও হাওরের জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষার পথও তৈরি হবে।

ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ ধনাঢ্য পেশাজীবীরা চাঁদাবাজ চক্রের টার্গেট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ ধনাঢ্য পেশাজীবীরা চাঁদাবাজ চক্রের টার্গেট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসপাতালের বড় চিকিৎসকসহ ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন পেশাজীবীকে টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভয়ভীতি, হামলা ও আঘাতের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘একটি সংঘবদ্ধ চক্র হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার বা অন্য বড় পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে, আঘাত ও হামলা চালিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে। এরা হয়তো চাঁদাবাজি করে রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়।’

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাতে রাজধানীর শান্তিনগরে চার থেকে পাঁচজন সন্ত্রাসী ঢামেকের অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

ডা. আসাদুর রহমানকে দেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের হামলায় ডা. আসাদুর রহমান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ হামলার দুই দিনের মধ্যে সন্ত্রাসী চক্রের সাতজনের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’

পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের প্রশংসা করে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা একজনকে লক্ষ্মীপুর থেকে এবং তিনজনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের আরও কাজ বাকি আছে। এসব সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের নির্মূল করতে হবে। এ বিষয়ে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সরকারকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলতে কোনো চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে সরকারকে অস্থিতিশীল করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এরা হয়তো চাঁদাবাজি করে রাতারাতি কোটিপতি হতে চায়। এরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দাগি আসামি এবং গডফাদারদের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করে।’

হামলার মূল হোতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ মূল হোতাকে ধরতে পেরেছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে বিদেশে হুন্ডির ব্যবসা করত এবং লোকসান করেছে। এখন কিছু সন্ত্রাসীকে একত্র করে একটি সংগঠন করেছে। তারা ধনাঢ্য ব্যক্তি, পেশাজীবী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বড় বড় ব্যক্তিদের টার্গেট করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এগুলো নির্মূল হয়ে যাবে। আমরা শুধু চাঁদাবাজদের তালিকা করছি না। চাঁদাবাজদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাঁদেরও তালিকা করা হবে।’

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বেগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্বেগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশাসনিক জটিলতা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষককে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, অনাস্থা, মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগগুলোতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিনামূল্যের সরকারি বই বিতরণে অনিয়ম, পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে অসংগতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজমুল ইসলাম ভূইয়া অভিযোগের বিষয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।

তাঁর দাবি, সরকারি বরাদ্দসহ বিভিন্ন খাতের অর্থের হিসাব যথাযথভাবে পরিচালনা এবং আর্থিক কার্যক্রমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরি হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব নিয়মিত পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পড়ছে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনা ও বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা-মোকদ্দমা, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং প্রশাসনিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে দাবি করে বলেন, বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকরা মিলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক সদস্য মো. হুমায়ুন সরকার, মো. রুহুল মিয়া ও ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার একটি পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে এ বিদ্যালয় থেকে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক বিরোধের কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তাঁরা বলেন, কোনো পক্ষের অভিযোগকে একতরফাভাবে সত্য ধরে না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেন, হিসাব-নিকাশ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের বিষয়গুলো যাচাই করার দাবি জানান তাঁরা।

বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম (রুবেল), শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে কমিটি গঠন, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিরোধের প্রভাব বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও পড়ছে বলে তাঁরা জানান।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা, অভিযোগ ও তদন্তের ঘটনা ঘটেছে। আবার কোনো কোনো অভিযোগ পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এ কারণে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বার্থে বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তাঁরা।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন ও দূর্জয় বলেন, বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালনা করা হলে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং বিদ্যালয় তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ ও মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে শিক্ষকদের মধ্যে চলমান কোন্দল ও রেষারেষি সামাজিকভাবে বসে মীমাংসা করা অত্যন্ত জরুরি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব যাতে শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। নানা অভিযোগ, বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার্থীরা।

তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, আর্থিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা, প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সুনাম ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।