কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় কাল শুরু কলেরা টিকাদান, আওতায় ৭ লাখ ২৫ হাজার মানুষ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) শুরু হচ্ছে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (OCV) ক্যাম্পেইন-২০২৬’। এ কর্মসূচির আওতায় তিন উপজেলায় এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৭ লাখ ২৫ হাজার ১৩৮ জনকে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীরা এ টিকার আওতায় থাকবেন না।
এর মধ্যে করিমগঞ্জে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮১, হোসেনপুরে ২ লাখ ৭ হাজার ১৪১ এবং তাড়াইলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫১৬ জনকে টিকা দেওয়া হবে।
আগামীকাল থেকে প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে এ কার্যক্রম চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য প্রথম ডোজ গ্রহণের কমপক্ষে ১৪ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করতে হবে।
টিকাদান কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত দিনগুলোতে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকা দেওয়া হবে। অন্যান্য দিনে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল টিকাদান দলের মাধ্যমে সব বয়সী উপযুক্ত নাগরিককে টিকার আওতায় আনা হবে।
আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এর উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের জন্য করিমগঞ্জে চর দেহুন্দা কমিউনিটি ক্লিনিক ও জ্ঞান সিঁড়ি স্কুল, হোসেনপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তাড়াইলে দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদ্রাসা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টিকা গ্রহণের আগে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর দেওয়া কার্ডটি পরবর্তী সময়ে হেলথ কার্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিন উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিম টিকাদান কার্যক্রমে কাজ করবে। করিমগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি, হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৮টি এবং তাড়াইলের সাতটি ইউনিয়নের ২১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর সমন্বয় ও অবহিতকরণ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আজিজুল হক তানজিল এবং ইউনিসেফের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউনিসেফের ইপিআই বিশেষজ্ঞ ডা. তরিকুল ইসলাম।
সভায় টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা, ইমাম-মুয়াজ্জিন, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারী কাদেরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমনসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) ও আইসিডিডিআর,বি’র (icddr,b) যৌথ ব্যবস্থাপনায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এ কর্মসূচির আওতায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তত্ত্বাবধানে গ্যাভি (Gavi), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) ও আইএফআরসি (IFRC)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা, মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়—দুই ডোজ টিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array