রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কর্মদিবসের প্রথম দিনে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কর্মদিবসের প্রথম দিনে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও শপথ গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে বঙ্গভবনে পৌঁছেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রীতি অনুযায়ী সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ইউনুছ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর পর গার্ড অব অনারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হলো।

এর আগে গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

পরদিন শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাউল সন্ধ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাউল সন্ধ্যা

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি বাজারে সাউন্ড ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাউল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে বিন্নাটি বাজারের মোল্লা মার্কেট চত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিন্নাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত বাউল সন্ধ্যায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা বাউল ও লোকসংগীত পরিবেশন করেন। বাদ্যশিল্পীদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ও শিল্পীদের গানকে ঘিরে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক আবহ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা সবসময়ই আমাদের পছন্দের। সমাজে সুস্থ ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা বজায় রাখা প্রয়োজন। অসুস্থ বিনোদন থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও সুন্দর সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বাউল ও লোকসংগীত আমাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাপ, স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক আবু হানিফ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিলন, সদর উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বাউল সন্ধ্যায় শিল্পীদের পরিবেশনায় দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হন। আয়োজকেরা জানান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সংকট কাটছে না। নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর পর গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুটি টার্মিনাল সচল থাকলেও আজ রোববার সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্যই। ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকট থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।

পেট্রোবাংলার ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ১১টি কার্গো প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আসছে মাত্র পাঁচটি। ফলে আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন বেশ এলোমেলো। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে সরকার। টার্মিনাল দুটি নিজেরা এলএনজি আমদানি করে না। আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করাই এসব টার্মিনালের মূল কাজ।

এর আগে টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। পরে ত্রুটি মেরামত করে টার্মিনাল চালু করা হয়। বর্তমানে টার্মিনাল সচল থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না পাওয়ায় সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল যখন এলএনজি-সংকটে ভুগছিল, তখন সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়েও বেশি—সর্বোচ্চ প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত—গ্যাস সরবরাহ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সামিটের টার্মিনালও কার্গো-সংকটে পড়েছে। ফলে সরকারি নির্দেশনায় ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, রোববার সকাল ১০টায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনালটির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমিয়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সামিটের টার্মিনাল সচল থাকলেও সাগরে বর্তমানে কোনো এলএনজিবাহী জাহাজ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে এলএনজি কেনার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এলএনজি না কিনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ডিপিএমের আওতায় অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও এখন পর্যন্ত দেশে পৌঁছায়নি।

এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার চেষ্টা করছে। তবে সেখান থেকেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল সচল থাকার পরও জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবাসিক ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকটের মধ্যে নতুন করে এলএনজি-সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।