শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

হাসপাতালের ফটক ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক, রোগী টানতে দালালচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাসপাতালের ফটক ঘিরে ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক, রোগী টানতে দালালচক্র

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পেছনের ফটক ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে অন্তত ৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালের ২০০ গজের মধ্যে রয়েছে অর্ধশতাধিক বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শুধু জেলা সদরের এই হাসপাতাল নয়, জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশেও একই চিত্র দেখা গেছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা ফটকে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের ঘিরে ধরেন বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দালালেরা। নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে যেমন রোগীরা বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁদের স্বজনেরাও।জুলাইয়ের শেষ দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার দালালচক্রের তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও কিশোরগঞ্জে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নিসম্প্রতি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আশপাশেই গড়ে উঠেছে একাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভৈরব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রয়েছে তিনটি, পাকুন্দিয়ায় পাঁচটি, করিমগঞ্জে চারটি, কটিয়াদীতে ছয়টি, নিকলীতে চারটি, মিঠামইনে দুটি এবং বাজিতপুরে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তাড়াইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় রয়েছে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও সাতটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হোসেনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রয়েছে চারটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি ক্লিনিক। কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেও একটি ক্লিনিকের অবস্থান দেখা গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসুবিধা নেই। এরপরও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে আকৃষ্ট করে সেখানে নেওয়া হয়। কম খরচে উন্নত চিকিৎসা, দ্রুত পরীক্ষার রিপোর্টসহ নানা সুবিধার কথা বলে রোগীদের ভর্তি করানোর অভিযোগ রয়েছে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে রোগীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সঙ্গে হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নার্সদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়।কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। হাসপাতালের পেছনের ফটক ঘেঁষে রয়েছে অন্তত ৯টি প্রতিষ্ঠান। ২০০ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তাঁদের হয়ে নিয়োজিত দালালেরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করালে সময় বেশি লাগবে—এমন কথা বলে রোগীদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।গত ১৩ আগস্ট জেনারেল হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন ইয়াছিন বলেন, তাঁর ভাতিজার রক্ত পরীক্ষা করানোর সময় একজন ব্যক্তি তাঁকে জানান, হাসপাতালে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট পেতে তিন দিন লাগবে। বাইরে করলে এক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া যাবে। পরে বাধ্য হয়ে তিনি বাইরে পরীক্ষা করান।শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে গড়ে উঠেছে পাঁচটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে বড় বড় সাইনবোর্ডের পাশাপাশি রোগী আকর্ষণে দালালদের তৎপরতা দেখা যায় বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের একাংশের অসন্তোষও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গুরুতর ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সময়মতো না পাওয়া এবং রোগী ভালোভাবে পরীক্ষা না করেই অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।একই অভিযোগ করেছেন ১৩ আগস্ট হাসপাতালে আসা রোগী আনোয়ার হোসেন। তাঁর ভাষ্য, টিকিট কাউন্টার থেকে হাসপাতালের বাইরের অংশ পর্যন্ত দালালদের তৎপরতা রয়েছে। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করালে চিকিৎসক ওষুধ দেবেন না—এমন ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।তবে হাসপাতালের প্যাথলজি ও রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের ইনচার্জ মিজবাহ উদ্দিন আহমদ নিঝুম বলেন, হাসপাতালের আউটডোর প্যাথলজি বিভাগ সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চালু থাকে। ইনডোরের জরুরি প্যাথলজি সেবাও ২৪ ঘণ্টা দেওয়া হয়। একইভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগও ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে।হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো সরিয়ে নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে কিশোরগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন নাজমুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত চেকলিস্ট অনুযায়ী পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। ওই চেকলিস্টে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দূরত্বের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।তিনি বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং ড্রাগ ও নারকোটিক-সংক্রান্ত ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। সবকিছু পর্যালোচনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়ে থাকে।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হলেন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন ছয়জনের মধ্যে চারজন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

নতুন মন্ত্রীরা হলেন—ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী এবং এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার।

বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শপথ অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৭টা ২৭ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মিনিট পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এতদিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ একসঙ্গে দরবার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে তাঁদের সম্মান জানান।

পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অনুমতি নিয়ে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত মা-বোনদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

জাতীয় সংসদে বেলা ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন।

ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

একই রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণের আগে শপথ বা দৃঢ় ঘোষণা করতে হয়। শপথ অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন—

«‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ বা দৃঢ় চিত্তে ঘোষণা করছি যে, আমি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিবো। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিবো। আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিবো এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিবো।’»

এই শপথের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনেও হাওরে জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল

ছুটির দিন শুক্রবারেও হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, পর্যটন পরিস্থিতি ও জেলা পরিষদের চলমান কার্যক্রম দেখতে মাঠে ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি নিকলী ও মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে মিঠামইনের কামালপুরে জেলা পরিষদ পরিচালিত হাওর বিলাস পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাওর বিলাস রেস্ট হাউজের আঙিনায় থাকা গাছের চারার পরিচর্যা ও সংরক্ষণে কর্মরতদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। পরিবেশের ভারসাম্য, জলবায়ু ও দেশের সবুজায়নে গাছের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি নিজেও গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে অংশ নেন।

প্রশাসকের এ উদ্যোগে উৎসাহিত হন রেস্ট হাওর বিলাস-র কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজন বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজ হাতে গাছের পরিচর্যায় অংশ নিলে কর্মীদের মধ্যেও কাজের প্রতি আগ্রহ ও দায়িত্ববোধ বাড়ে।

হাওর ভ্রমণের সময় নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। নৌযানে ওঠার সময় তিনি নিজেও লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেন এবং সঙ্গে থাকা অন্যদেরও লাইফ জ্যাকেট পরতে বলেন। একই সঙ্গে হাওরে ভ্রমণকারী পর্যটক ও যাত্রীদেরও নৌযানে ওঠার আগে বাধ্যতামূলকভাবে লাইফ জ্যাকেট পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় নৌকার মাঝি, ট্রলার মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখার নির্দেশনা দেন ভিপি সোহেল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রেখে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নৌযান পরিচালনারও পরামর্শ দেন তিনি।

বর্তমানে হাওরে ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ থাকায় নৌপথে পর্যটকদের চলাচল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনেন তিনি। নৌযান চলাচল, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে হাওরাঞ্চলে জেলা পরিষদের বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) কিশোরগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হিসেবেও পরিচিত।

দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুবাদে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ার পরও মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ছুটির দিনে হাওরাঞ্চল পরিদর্শনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক পরিধির পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কথা শোনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ভিপি সোহেল।