বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর এসব কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এতে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। দলটির পক্ষ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সুবিধাজনক সময়ে দেশব্যাপী মৎস্য অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। আর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। কর্মসূচি দুটির দিনক্ষণ পরে নির্ধারণ করা হবে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আরও কিছু কর্মসূচির খসড়া নেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে সেগুলো চূড়ান্ত করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলেন এবং ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা: কারাগারে বিদিশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা: কারাগারে বিদিশা

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সাজার বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে এ মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান-২ নম্বরের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন। বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোশাররফ হোসেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য তাঁদের মধ্যে ৮০ লাখ টাকার চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডাকেন। সেখানে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটির রেজিস্ট্রি করে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বাদীকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাদীকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হলেও বাদীকে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বাদীকে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২০ মে আদালত বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

বুধবার ওই সাজা থেকে আপিলের সুযোগে জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন করে অসুস্থ ১,০৯৮

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, নতুন করে অসুস্থ ১,০৯৮

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে। এ ছাড়া এই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৩ জন

বুধবার (২৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামের পরিস্থিতিবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫০ জনে

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ৬৫১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ জনে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন

যমুনার দুই পাড়ে নতুন নদীবন্দর, ২০০ কি.মি পথ কমে ১৬ কি.মি.

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
যমুনার দুই পাড়ে নতুন নদীবন্দর, ২০০ কি.মি পথ কমে  ১৬ কি.মি.

বগুড়ার সারিয়াকান্দির এক পাশে যমুনা নদী, ওপারে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। নদীপথে দুই এলাকার সরাসরি দূরত্ব আনুমানিক ১৬ কিলোমিটার। কিন্তু সড়কপথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে হয় সিরাজগঞ্জ ও বঙ্গবন্ধু সেতু ঘুরে। এতে প্রায় ২০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘদিনের এই ঘুরপথের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যমুনার তীরে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনটে দুটি নতুন অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৮ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারিয়াকান্দি নদীবন্দর ও ধুনট নদীবন্দর ঘোষণা করে এবং উভয় বন্দরের সীমানা নির্ধারণ করে। নতুন দুটি নদীবন্দর যুক্ত হওয়ায় দেশে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সংখ্যা ৫৬টিতে দাঁড়িয়েছে। দুই নদীবন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ)।

নদীবন্দর দুটি কার্যকর হলে সারিয়াকান্দি থেকে যমুনা পেরিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জের সঙ্গে সরাসরি নৌযোগাযোগ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সড়কপথের দীর্ঘ ঘুরপথের পরিবর্তে নদীপথে তুলনামূলক কম সময়ে দুই এলাকার মানুষের যাতায়াত সম্ভব হতে পারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনার দুই পাড়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের যাতায়াত, আত্মীয়তা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সহজ ও নিয়মিত যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে এই ভৌগোলিক নৈকট্য বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারেনি।

সারিয়াকান্দি থেকে মাদারগঞ্জে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ে পরিবহন ব্যয়। বিশেষ করে কৃষিপণ্য এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পাঠানোর ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত দূরত্ব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে সারিয়াকান্দির যমুনার তীরঘেঁষা ঘাটগুলোতে সকাল থেকেই মানুষের ব্যস্ততা দেখা যায়। কোথাও ছোট নৌযানে মানুষ পার হচ্ছেন, কোথাও নদীর পাড়ে পড়ে আছে কৃষিপণ্য বোঝাই বস্তা। আবার কোথাও নৌযানে পণ্য ওঠানো-নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

নদীর ওপারে জামালপুরের মাদারগঞ্জ। দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও আধুনিক ও নিরাপদ নৌযোগাযোগের অভাবে সেই যোগাযোগ এখনও সীমিত পরিসরে রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীবন্দরকে ঘিরে পরিকল্পিত নৌপথ ও অবকাঠামো গড়ে উঠলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিঞা বলেন, নদীর দুই পাড়ে কৃষিপণ্য, নিত্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে বাণিজ্য গড়ে ওঠেনি। সারিয়াকান্দির উৎপাদিত পণ্য মাদারগঞ্জ ও জামালপুরের বাজারে সহজে পাঠানো গেলে নতুন বাজার তৈরি হবে। একইভাবে ওই অঞ্চলের পণ্যও কম সময়ে বগুড়ায় আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় কৃষক মো. জলিল মিয়া বলেন, বগুড়া ও মাদারগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হলেও পণ্য নিয়ে যাতায়াতে অনেক পথ ঘুরতে হয়। এতে ভাড়া ও সময়—দুটিই বাড়ে। নিয়মিত নৌযান চলাচল শুরু হলে দুই পাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

সারিয়াকান্দি ও আশপাশের এলাকায় ধান, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজ, মরিচসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব পণ্যের বড় অংশ বর্তমানে সড়কপথে বিভিন্ন মোকাম ও জেলার বাজারে পাঠানো হয়। নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে নৌপথে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় কমতে পারে।

বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, শাকসবজির মতো পচনশীল পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে অন্য এলাকার বাজারে পাঠানো সম্ভব হলে কৃষকের লাভের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।

স্কুলশিক্ষক বিপ্লব মিয়া বলেন, নদীবন্দর কার্যকর হলে কৃষিপণ্য পরিবহনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কৃষক কাছের ঘাটে পণ্য নিয়ে এসে নৌযানে তুলে দিতে পারবেন। সেখান থেকে যমুনার ওপারের বাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, নদীবন্দরকে কেন্দ্র করে শুধু নৌযান চলাচল নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গড়ে উঠতে পারে। জেটি, টার্মিনাল, গুদাম, পণ্য ওঠানামা, প্যাকেজিং, কোল্ড স্টোরেজ, নৌযান মেরামত ও পরিবহনসেবার চাহিদা তৈরি হতে পারে। এর সঙ্গে বাড়তে পারে হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য সেবাখাত।

স্থানীয় কৃষক আবু তাহের বলেন, শুধু উৎপাদন করলেই হয় না; উৎপাদিত পণ্য কম খরচে দ্রুত বাজারে পৌঁছানোও জরুরি। দূরের বাজারে পণ্য পাঠাতে পরিবহন খরচ বেশি হলে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ কৃষকের ওপর পড়ে। নৌপথে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আরেক কৃষক রুবেল মিয়া বলেন, মৌসুমে একই সময়ে অনেক কৃষক পণ্য বাজারে তোলেন। তখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়। নদীপথে দ্রুত অন্য এলাকার বাজারে পণ্য পাঠানোর সুযোগ থাকলে কৃষকদের একটি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্রিক নয়। চিকিৎসা, শিক্ষা, হাটবাজার এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্যও নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. পাবেল হোসেন বলেন, নদীর ওপারেই মাদারগঞ্জ। অথচ জরুরি কোনো কাজে সেখানে যেতে হলে অনেক ঘুরে যেতে হয়। নৌপথটি পরিকল্পিতভাবে চালু হলে সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুবিধা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ চালু হলে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচায় দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তি কমবে।

সারিয়াকান্দির পাশাপাশি ধুনট নদীবন্দর উত্তরাঞ্চলের নৌযোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে ধুনট নদীবন্দরের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মধুরাপাড়া ঘাট এলাকা থেকে শুরু করে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া হাটসংলগ্ন যমুনা নদী হয়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌবার মৌজার বৈশাখীর চর পর্যন্ত।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ধুনট নদীবন্দরের আওতায় চন্দনবাইশা ও শাহরাবাড়ি ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাটগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইভাবে সারিয়াকান্দি নদীবন্দরের আওতায় দিঘাপাড়া, কালিতলা, মধুরাপাড়া, জামথল ও সোনাদগা ঘাটসহ বিদ্যমান খাল ও ঘাট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুই নদীবন্দরের ক্ষেত্রেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম তীরে সাধারণ ভরাকালের সময় সর্বোচ্চ পানি সমতল থেকে ভূভাগের দিকে ৫০ গজ পর্যন্ত এলাকা বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নৌপথ উন্নয়ন, জেটি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ধুনটের সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরসহ যমুনার দুই পাড়ের বাজারগুলোর সরাসরি নৌযোগাযোগ জোরদার হলে কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য তুলনামূলক কম খরচে নৌপথে বিভিন্ন বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হতে পারে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু সরকারি প্রজ্ঞাপনে নদীবন্দর ঘোষণার মধ্যে উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত জেটি, টার্মিনাল, গুদাম ও নিরাপদ নৌযান চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা গেলে নদীবন্দর ঘোষণার সুফল সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে দুই নদীবন্দরের সংরক্ষকের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএকে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করা।

যমুনার দুই পাড়ে কয়েক কিলোমিটারের ভৌগোলিক দূরত্বকে যদি কার্যকর নৌযোগাযোগে রূপ দেওয়া যায়, তাহলে সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জসহ বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এর সঙ্গে কৃষি, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তৈরি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব।