শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

তাড়াইলে পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলে পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৪ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া পাঁচজনসহ জিপিএ-৪ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া মোট ২৪ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘আমি পারি—আমি পারব’ স্লোগানকে ধারণ করে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব পুরুড়া হাই স্কুল (ইউসেপস)। বাবুল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিরুল হক ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি ছিলেন এবি ফ্যাশন মেকারের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাবুল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা ও চেয়ারম্যান সানাউল হক বাবুল সিআইপি।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইউসেপসের দপ্তর সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পলাশ মিয়া এবং সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাসুম মিয়া। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সায়াদ মিয়া ও নওরীন জাহান তোয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিআইপি সানাউল হক বাবুল শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম ও মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানান। নিজের জীবনের শুরুর দিকের কথা তুলে ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ছোটবেলায় তাঁদের বাড়িভিটা ছাড়া অন্য কোনো জমিজমা ছিল না। ভূমিহীন থাকার কারণে সে সময় এলাকায় চলমান একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্য হওয়ার সুযোগ তাঁদের পরিবার পায়নি। বিষয়টি তাঁকে তখন কষ্ট দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই হালাল উপায়ে অর্থ উপার্জনের দৃঢ় সংকল্প তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এবং মহান আল্লাহর রহমতে বর্তমানে তিনি অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাবুল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মহিউদ্দিন নান্টু, হারুন অর রশিদ, সামছুল ইসলাম, শফিক উল্লাহ ও শহিদুল্লাহ।

বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া পাঁচজন এবং জিপিএ-৪ বা তার বেশি পাওয়া ১৯ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্‌যাপনের পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন করা হয়।

হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরান মিয়ার দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ বিস্কুট ও খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা এই তরুণের স্বপ্ন আগুনে অনেকটাই ভস্মীভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাডসংলগ্ন একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে প্রায় তিন মাস আগে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ নেন ইমরান মিয়া। তাঁর দোকান থেকে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে বাড়ি চলে যান ইমরান। পরে গভীর রাতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক রিকশাচালক দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। বিষয়টি তিনি দোকানের মালিককে জানালে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, “দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশই পুড়ে গেছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আগুনে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসার পুঁজি ও পণ্যসামগ্রীর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল হক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা মূল্যায়নের পর আরও স্পষ্ট হবে।

তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক র‍্যালি বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে একত্রিত হয়।

সাচাইল শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, তাড়াইল শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালী মন্দির এবং বরুহা শ্রীশ্রী পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরের যৌথ আয়োজনে এ র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকা থেকে বের হওয়া র‍্যালিগুলো তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়। পরে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পাল আগত ভক্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর সম্মিলিত র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালনা আখড়ায় গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

র‍্যালিতে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট তাড়াইল উপহোজেলা শাখার সভাপতি অজয় সরকার ও সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মুকুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামির সেন সাকি, কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অজয় সরকার বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতিই সমাজের সৌন্দর্য। জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

র‍্যালি শেষে কালনা আখড়ায় ধর্মীয় আলোচনা, নামসংকীর্তন ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

শাহীন আলম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে ইতিহাসের পাতায় লেখা দুটি মহাকাব্যিক ইনিংস—তামিম ইকবালের ৩৩৪ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০। বিস্ময়করভাবে, দুই ঐতিহাসিক কীর্তির সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে রেজাউর রহমান রাজার নাম।

২০২০ সালে তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসের পর মাঠে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন রাজা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে এবার নিজেই হয়ে উঠলেন আরেক ইতিহাসের অংশ- তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ছিলেন তাঁর ব্যাটিং সঙ্গী, দৃঢ় হাতে সামলেছেন অন্য প্রান্ত।

একবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, আরেকবার ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।

তামিমের ৩৩৪ থেকে হৃদয়ের ৩৫০—দুই প্রজন্মের দুই মহাকাব্য, আর দুটির মাঝখানে এক রাজা।
বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের এই গল্পে রেজাউর রহমান রাজা তাই শুধু একজন ক্রিকেটার নন—তিনি হয়ে থাকলেন ইতিহাসের দুই স্মরণীয় অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ও সহযাত্রী।