কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে সেভ দ্য চিলড্রেন-ইউনিসেফ
কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডের উকিলপাড়ায় অবস্থিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয় কি না, রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়েও জানতে চান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এ সময় প্রশিক্ষণার্থী কানিজ ফাতেমা জানান, অর্থের অভাবে তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
তার কথা শুনে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফের কর্মকর্তারা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। সরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিজেদের দক্ষতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীকেও উৎসাহিত করেন তারা।
পরিদর্শনকালে বেকার ও অসহায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নারীরা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০১৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানটি নারীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৩/২৪।
প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার, সেলাই, কেক বেকিং, বিউটিশিয়ান, শোপিস তৈরি, হ্যান্ড স্টিচ, কুশিকাঁটা, ব্লক, এমব্রয়ডারি, বাটিক, হ্যান্ডপ্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্ট, আইসক্রিম তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড প্রস্তুতিসহ মোট ১২টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ প্রতিষ্ঠানটিতেই কাজ করছেন, আবার কেউ নিজ বাড়িতে বসে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে আয় করছেন। প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে কয়েকজন নারী দেশ-বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তারা।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নারী উদ্যোক্তা সুমি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জে জেন্ডার প্রমোটার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার অর্জন করেছি। বর্তমানে ১২টি বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। পাশাপাশি জাতীয় যুব পুরস্কারের বিচারক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছি।’
সুমি বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বেকার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই তার লক্ষ্য।
পরিদর্শন শেষে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।
নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।










Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array