বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

‘ভালো ফলাফলে সমন্বয়ের বিকল্প নেই’- তাড়াইলে ইউএনও

রুহুল আমিন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘ভালো ফলাফলে সমন্বয়ের বিকল্প নেই’- তাড়াইলে ইউএনও

শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামছুন্নাহারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা আখতার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তানজিলা আখতার বলেন, “শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীর সমন্বয় ছাড়া ভালো ফলাফল সম্ভব নয়।” তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে জেলার সেরা বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নজরদারির ওপর নির্ভর করে না; পরিবারকেও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, পড়াশোনায় মনোযোগী কি না এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভালো ফলাফল অর্জনে অভিভাবকদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে বিদ্যালয় ও পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমাবেশে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাপ পরিয়ে নবীনদের বরণ, উৎসবে মাতল নার্সিং ইনস্টিটিউট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
ক্যাপ পরিয়ে নবীনদের বরণ, উৎসবে মাতল নার্সিং ইনস্টিটিউট

নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. নূর মো. শামসুল আলম, সহকারী পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত)।

কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ দীপন কুমার দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, নার্স, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে তাদের ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের নার্সিং পেশার মর্যাদা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেন। মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক নার্স হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য তাঁরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, নার্সিং পেশা শুধু চিকিৎসাসেবার একটি অংশ নয়; অসুস্থ মানুষের পাশে থেকে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়াও এ পেশার গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, নার্স, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যেও ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা। নবীনদের বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য আনন্দঘন হয়ে ওঠে।

কিশোরগঞ্জে কোচিং সেন্টার বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে কোচিং সেন্টার বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।

সভায় জেলার সার্বিক শিক্ষা পরিস্থিতি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কম উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, কিশোরগঞ্জে সাক্ষরতার হার ৬৭ শতাংশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এ হার ৭৯ শতাংশ। শিক্ষাক্ষেত্রে এ ঘাটতি কমাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, টেস্ট পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না, তাদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কোচিংনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।

মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ভৈরবে ঝালমুড়ি ও ফুসকা বিক্রেতাদের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ঝালমুড়ি ও ফুসকা বিক্রেতাদের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ, গ্রেপ্তার ৪

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝালমুড়ি ও ফুসকা বিক্রির জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া এলাকার যুবকদের সঙ্গে গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার যুবকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামের আরমান মিয়া ঝালমুড়ি বিক্রি করতে বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে যান। সেখানে ঝালমুড়ি ও ফুসকা বিক্রির জায়গা নিয়ে বাঁশগাড়ি এলাকার ফুসকা বিক্রেতা কবীর মিয়ার সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত ওই বিরোধ দুই এলাকার লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আরমান মিয়াসহ পাঁচজন আহত হন। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরই জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই এলাকার লোকজন ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সংঘর্ষে আহত জুনায়েদ মিয়া (৩০), সাব্বির আহমেদ (২২), লাল মিয়া (১৫), কামরুল হোসেন (৩৫), ইমন মিয়া (২১), জুয়েল মিয়া (৩০) ও হৃদয় মিয়া (১৫) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কামরুল হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া ওমর ফারুক (১৮), সজীব মিয়া (১৯)সহ আহত অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. আতাউর (৩৪), একই এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. কবীর হোসেন (৩৮) এবং কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া এলাকার মৃত আউয়াল মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (১৮) ও তাঁর ভাই রকি মিয়া (২০)।

আদর্শপাড়া এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আরমান মিয়া বলেন, ‘আমি বাঁশগাড়ি বালুর মাঠে ঝালমুড়ি বিক্রি করতে গেলে অন্য ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। এমনকি ওই এলাকার কিছু মানুষ ঝালমুড়ি খেয়ে টাকা কম দেন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে ও আমাদের কয়েকজনকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।’

তবে বাঁশগাড়ি এলাকার ফুসকা বিক্রেতা কবীর মিয়ার দাবি, বালুর মাঠে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং আরমান মিয়া জায়গা চাইলে তাঁকে নির্ধারিত জায়গা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরে সে সেখানে না গিয়ে অন্য জায়গায় ঝালমুড়ি বিক্রি করে। সেখানে ঝালমুড়ি বিক্রির টাকা কম নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। পরে সে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আমাদের এলাকার মানুষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিষয়টি দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।’

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি, ঝালমুড়ি বিক্রির জায়গা নিয়ে ফুটবল খেলার মাঠে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগ ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।