বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

অনিশ্চয়তার মধ্যে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

তাড়াইলের ১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির অপেক্ষায়

রুহুল আমিন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
তাড়াইলের ১২ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা এমপিওভুক্তির অপেক্ষায়

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে থাকা ১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি স্বীকৃতি ও রেজিস্ট্রেশন থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, উপবৃত্তি ও সরকারি প্রশিক্ষণের সুযোগও সীমিত। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম।

স্থানীয় উদ্যোগে ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এসব মাদরাসার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের প্রাথমিক ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। প্রায় চার দশক ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে গেলেও সরকারি সহায়তার অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন টিকে থাকার সংকটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে তাড়াইল উপজেলার ১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের আওতায় আনার জন্য গত ১৪ জুলাই ২০২৬ কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে বিশেষ বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছেন।

সুপারিশপত্রে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, তাড়াইল উপজেলার এসব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা (স্বীকৃতি) অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীকৃতি লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালু করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও বা নিয়মিত বেতন-ভাতার আওতায় আসেনি।

সুপারিশপত্রে আরও বলা হয়, তাড়াইল উপজেলায় বর্তমানে ১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান সীমিত ভাতা সুবিধা পাচ্ছে। বাকি নয়টি প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি আর্থিক সুবিধা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রায় ৪৫ বছর ধরে নিষ্ঠা ও ত্যাগের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকায় তাঁদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও সুপারিশপত্রে উল্লেখ করা হয়।

গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কোনো রকমে পরিচালিত হচ্ছে। অনেক মাদরাসায় জরাজীর্ণ টিনের ঘর, ভাঙা বেঞ্চ ও অপর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বর্ষাকালে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়।

জাওয়ার ইউনিয়নের ছনাটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে টিনের ঘরে পাঠদান করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতো বিনামূল্যে বই ও উপবৃত্তির সুবিধাও শিক্ষার্থীরা পায় না। শিক্ষকদের জন্যও পর্যাপ্ত সরকারি প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, “আমরা সরকারের সব নিয়ম মেনে পাঠদান করে আসছি। কয়েকবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফাইল জমা দিয়েছি। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি। বেতন-ভাতা না থাকায় অনেক শিক্ষক সংসার চালাতে না পেরে পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।”

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যফ্রন্টের তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি ও রাউতি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ মোহাম্মদ আবদুস সবুর বলেন, সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক দরিদ্র অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে একসময় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা জরুরি।

তাড়াইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আহসানুল জাহীদ বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অধিদপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। সরকার নতুন করে এমপিও দেওয়ার ঘোষণা দিলে তাড়াইলের এসব প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘ চার দশক ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখতে এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত অথবা সরকারি বেতন-ভাতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁদের মতে, ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় রাখতে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোর ভূমিকা রয়েছে। তাই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে তাড়াইলের ১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে দ্রুত সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।

ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩.১ শতাংশ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে। এর মধ্যে আগস্টে প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয়। আগের বছরের মার্চে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মার্চে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এপ্রিলে দেশে এসেছে ৩১৩ কোটি ডলার। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৭৫ কোটি ডলার। ফলে এ মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

মে মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৪৩ কোটি ডলার, যা এক বছর আগের একই মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তবে জুনে প্রবাসী আয়ে ছিল প্রায় স্থিতিশীলতা। এ মাসে দেশে এসেছে ২৮১ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের জুনে এসেছিল ২৮২ কোটি ডলার।

জুলাইয়ে আবারও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির ধারা জোরালো হয়। এ মাসে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

আগস্টে দেশে এসেছে ২৯৬ কোটি ডলার প্রবাসী আয়। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২৪২ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আগস্টে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। ছয় মাসের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সৌদি আরব। দেশটি থেকে এসেছে ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এরপর যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার ডলার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পাঁচ দেশ থেকেই বাংলাদেশ পেয়েছে মোট প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলার প্রবাসী আয়, যা এ সময়ে দেশে আসা মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাসসকে বলেন, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বহিঃখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বৈধ ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের জন্য বৈধ পথে অর্থ পাঠানো আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী কর্মী ও তাঁদের পরিবারের বৈধ আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রবাসী আয় বৃদ্ধির মধ্যে। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংকিং সেবার উন্নয়ন এবং বৈধ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। প্রবাসী আয় বাড়াতে এবং তাঁদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

আরিফ হোসেন খান আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও শক্তিশালী হলে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং বহিঃখাতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের চলমান উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রবাসীকে বৈধ পথে তাঁদের আয় দেশে পাঠাতে উৎসাহিত করবে।

সরকার প্রবাসী কর্মী ও বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, রেমিট্যান্স সেবা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে নেওয়া উদ্যোগের ফলে প্রবাসী আয়ের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান ও সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

উল্লেখ্য, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ১৯৭৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিবাসন বিস্তৃত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনীতিতেও এ খাতের গুরুত্ব বেড়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস।

বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’র আত্মপ্রকাশ

গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঐক্য ধরে রাখা এবং সাংবাদিকতায় পেশাগত নীতি ও জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি’ (জেজেইউ) আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন সাইফুর রহমান সাগর এবং সদস্যসচিব হয়েছেন আহসান কামরুল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছে। কিন্তু এরপর চারটি গণমাধ্যম ছাড়া সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। একজন অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ কতটা কাম্য, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালে এত কষ্ট করলাম। কিন্তু এখন কিসের জন্য এত বিভাজন হলো? এসব দেখে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে লজ্জিত হই। আমরা আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে পারছি না। এত ত্যাগের পর মাত্র কয়েক দিন যেতে না যেতেই আমরা আবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি। যে তরুণদের নেতৃত্বে আন্দোলন হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে শিষ্টাচারের অভাবের অভিযোগ কেন আসবে? আমরা কেন রক্ত দিয়েছিলাম, সেটি বারবার ভুলে যাচ্ছি। আমরা কবে মানুষ হব?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজয় ঐক্যের ভিত্তিতে এসেছে। যারা শত শত মানুষ মেরে ফেলেছে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা এত ব্যস্ত হয়ে উঠলাম কেন?’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কামরুল আহসান বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে হবে। মানুষ যাতে বাজার থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে এবং নিরাপদে বাঁচতে পারে, সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক একটি কর্মসূচির সমালোচনা করে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, সংকটের মধ্যে অনেক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রামে যাওয়া হয়েছে। অথচ ভার্চুয়ালিও সেই কর্মসূচি করা সম্ভব ছিল।

অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মে কোনো নারী নেই। এজন্য খারাপ লাগছে। অভ্যুত্থানে কিন্তু নারীদের অনেক ভূমিকা ছিল।’

সাংবাদিকতায় দলীয় পরিচয় পরিহারের আহ্বান জানিয়ে শহিদুল আলম বলেন, সাংবাদিকতা হতে হবে জনগণের স্বার্থে। দলীয় সাংবাদিক হওয়া যাবে না। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে নীতি মানতে হবে। প্রেসকার্ডের জোরে কোনো সুবিধা নেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে বলতে শুনি আওয়ামী লীগের সাংবাদিক, বিএনপির সাংবাদিক। এটা হওয়া যাবে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের বাইরে শেখ হাসিনার বিশাল ছবি ঝুলত, যা সাংবাদিকেরাই করেছিলেন বলেও মন্তব্য করেন শহিদুল আলম। ভবিষ্যতে অন্য কারও ছবি ঝুললেও তাতে অবাক হবেন না বলেও জানান তিনি।

মানবাধিকার, আইন ও গুম ইস্যুতে যেসব পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল, সেসব এখনো দেখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন শহিদুল আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর রহমান সাগর বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের আড়াই বছরেও এমন সংগঠন হয়নি। এখন কেন হয়েছে, এটি সময়ের প্রয়োজনেই হয়েছে। জুলাইয়ে যেসব সাংবাদিক অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা এই সংগঠনে থাকবেন।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে সাইফুর রহমান সাগর, সদস্যসচিব হিসেবে আহসান কামরুল, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে লুৎফর রহমান বাদল ও তালুকদার রুমী এবং যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে আবদুর রহিম কেফায়েত ও শাকিলের নাম ঘোষণা করা হয়।

মেলবোর্নে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
মেলবোর্নে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য মেলবোর্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুল হক।

সমাবেশে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ এইচ এম তৌহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হায়দার আলী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অমি ফেরদৌস। স্বাগত বক্তব্য দেন ভিক্টোরিয়া বিএনপির সিনিয়র আহ্বায়ক ওমর শরীফ শিহান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভিক্টোরিয়া বিএনপির আহ্বায়ক আরিফ খান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন খন্দকার মিলন হক, মো. শরিফ মাহমুদ, মো. ওমর ফারুক, মো. বদিউজ্জামান শিপন, রাশিদুল আমিন মনির, আল-আমিন মাসুম, দেওয়ান মামুন, মো. রহমতউল ইসলাম ও খায়রুল সাদমান অংকন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন আশিক মালেক বিপুল।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, ভিসা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা গ্রহণের জন্য দূরবর্তী স্থানে যেতে হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সময় ও অর্থ ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

বক্তারা বলেন, মেলবোর্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠা করা হলে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি সহজে ও দ্রুত কনস্যুলার সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এ কারণে মেলবোর্নে একটি বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের।

সমাবেশে বক্তারা মেলবোর্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বক্তারা বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি দলের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে কনস্যুলার সেবা সহজলভ্য করার জন্য মেলবোর্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা।