মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির সাথে থাকছে বোয়েসেলও
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে নতুন নীতিমালার আলোকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নানা অনিয়ম ও জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিদ্যমান আইন, শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নির্বাচন ও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আগের সরকার অনুমোদিত ৪২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা নিয়ে পরবর্তীতে নানা প্রশ্ন ও জটিলতা তৈরি হয়। নতুন নীতিমালার আলোকে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুসরণের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে শ্রমবাজারে বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেল—এর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, বিদ্যমান বহুপক্ষীয় নিয়মকানুনের পাশাপাশি এককভাবে সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তুলনামূলক স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অবৈধ, প্রতারণামূলক ও ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক করা এবং বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপনের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হলে তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।













Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array