শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন ভিপি সোহেল

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এগিয়ে এলেন ভিপি সোহেল

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১নং রশিদাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন।

সহায়তা প্রদানকালে ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে সরকার রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের আরও আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সোহেল, রশিদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন, লতিবাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিক, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুকুল, সাবেক আহ্বায়ক বোরহান উদ্দীন এবং মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক শাহীন।

এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আর্থিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ব্যবসা পুনরায় চালু করতে আরও সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।

হোসেনপুরে পাট চাষে কৃষকের স্বস্তি

সোনালি আঁশ ঘিরে নতুন আশার আলো

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সোনালি আঁশ ঘিরে নতুন আশার আলো

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। বর্ষায় পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া সহজ হয়েছে। ফলে আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজও তুলনামূলকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারছেন তাঁরা। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভালো ফলন পাওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের প্রত্যাশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার শাহেদল, সাহেবেরচর, সিদলা, পুমদি ও জিনারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাট প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ বাড়ির উঠোনে, কেউ রাস্তার পাশে আবার কেউ দুর্গম চরাঞ্চলে নদীর পাড়ে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন। পরে সেই আঁশ পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। নারী-পুরুষের পাশাপাশি বয়স্করাও এ কাজে অংশ নিচ্ছেন।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন তাঁরা। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাটের আঁশের মান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে টানা বৃষ্টিপাত ও বর্ষার পানিতে সেই সংকট কেটে যায়। এতে পাট জাগ দেওয়া সহজ হয়েছে এবং ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নতুন পাটের কেনাবেচা শুরু হয়েছে। কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভালো মানের পাট প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় পাট চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। পাশাপাশি পাটকাঠিরও ভালো চাহিদা ও মূল্য রয়েছে। ফলে আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও বাড়তি আয় করছেন তাঁরা।

কৃষক কামাল বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমি থেকে ১২ থেকে ১৮ মণ পর্যন্ত পাট পাওয়া যায়। বাজারদর ভালো থাকলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ থাকে। এ কারণে পাটের ন্যায্যমূল্য অব্যাহত থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করবেন তিনি।

সাহেবেরচর গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম, রুবেল মিয়া ও আসন মিয়া বলেন, পাটের দাম ভালো থাকলে কৃষকের আগ্রহও বাড়ে। বর্তমানে ফলন ও বাজারদর—দুই দিক থেকেই তাঁরা সন্তুষ্ট। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের লাভ ধরে রাখতে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।

পাটের আঁশ ছাড়ানো ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদেরও ব্যস্ততা বেড়েছে। স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের মৌসুমে কাজ করে তাঁরা বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিও ফেলে দিতে হচ্ছে না। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন কাজে পাটকাঠির চাহিদা থাকায় এটিও কৃষকদের বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হোসেনপুর উপজেলায় ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ মৌসুমে পাটের উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৭৪০ মেট্রিক টন।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রণোদনার আওতায় এ বছর ৩০০ জন কৃষকের মধ্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও তদারকি করছেন।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার কারণে উপজেলায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনার আওতায় ৩০০ জন কৃষকের মধ্যে পাটের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও তদারকি করছেন।

তিনি আরও বলেন, সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির সংকট এবার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ফলে কৃষকরা সহজেই পাট জাগ দিতে পেরেছেন এবং আঁশের মানও ভালো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, পাট শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়; এর সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি ও বহু মানুষের কর্মসংস্থানও জড়িত। জমিতে পাট চাষ থেকে শুরু করে কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া, শুকানো ও বাজারজাত—প্রতিটি ধাপেই কৃষক ও শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

কৃষকদের প্রত্যাশা, পাটের বাজারদর বর্তমান পর্যায়ে স্থিতিশীল থাকলে এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুমে হোসেনপুরে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে ভালো ফলন, সন্তোষজনক বাজারদর, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং পাটকাঠির বাড়তি চাহিদায় হোসেনপুরের কৃষকদের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি। একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘সোনালি আঁশ’ পাটকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন কৃষকরা। তাঁদের প্রত্যাশা, ন্যায্যমূল্য ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পাট চাষ আবারও এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক ফসলে পরিণত হবে।

কটিয়াদীতে সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স নবীজির জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স নবীজির জীবনাদর্শ অনুসরণের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা উলামা বিভাগের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ২টায় কটিয়াদী স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এ কনফারেন্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম নূরীর সভাপতিত্বে কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাওলানা ড. ফয়জুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আহমদ শরিফ বিন আসাদ (চাঁদপুর), কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, ফেকামারা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কাসেম বিপ্লব, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খালেদ এবং কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল।

কনফারেন্সে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ধর্মীয় জীবনের পথপ্রদর্শক নন; তাঁর জীবন মানবতার জন্য একটি আদর্শ ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি জীবনে নৈতিকতা, সততা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে ন্যায়, মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে এসব মূল্যবোধের শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁরা আরও বলেন, পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে।

কনফারেন্সে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার চর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষ, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে প্রয়োগের মাধ্যমে কল্যাণকর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

একই সঙ্গে সমাজে অন্যায়, অবিচার ও অনৈতিকতার পরিবর্তে ন্যায়, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা। তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং তাঁর শিক্ষা নিজেদের জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি মাওলানা ড. ফয়জুল হকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা থেকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা উলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম নূরী সীরাতুন্নবী (সা.) চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাঁর শিক্ষা অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

রাত পৌনে দুইটা। সড়কে যানবাহন চলাচলও তখন তুলনামূলক কম। সিলেটের উদ্দেশে ভালুকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কাছেই পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে চালক ও যাত্রীরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান। এরপর দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাইক্রোবাসটি হঠাৎ সড়কে থেমে গেলে বিষয়টি দেখতে তারা গাড়িটির সামনে যায়। পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও অসঙ্গতি।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৯৩১০। এ সময় ঘটনাস্থলে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, এসআই সুজন বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

মাইক্রোবাসের যাত্রী সারোয়ার আলম বলেন, গাড়িটিতে তাঁরা মোট আটজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী ও চারটি শিশু। ভালুকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে নোয়াগাঁও এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কিছুটা দূরে পুলিশের গাড়ি দেখতে পাওয়ায় তাঁরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান।

সারোয়ারের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এর মধ্যে চেইন, কানের দুল, আংটি ও চুড়ি ছিল। এ ছাড়া দুটি Oppo স্মার্টফোন, একটি Xiaomi 8 ট্যাব, একটি GoPro ক্যামেরা, Nothing ব্র্যান্ডের হেডফোন এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ডও খোয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আরও অভিযোগ করেন, লুটপাটের সময় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখানো হয়। হামলাকারীরা একে অপরকে বিভিন্ন নামে ডাকছিলেন। এর মধ্যে একজনকে ‘জুয়েল’ নামে ডাকতে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতির শেষ পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে অবস্থান করছিল।

সারোয়ারের অভিযোগ, এ সময় একজন পুলিশ সদস্য পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পেছনে দৌড় দিলেও এসআই সুজন তাঁকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের বিবরণ নেওয়ার সময় হামলাকারীদের একজন পেছন দিক দিয়ে আরও তিন-চারজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। তাঁরা ওই ব্যক্তিকে ডাকাতির সময় উপস্থিত থাকার কথা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁর ছবি ও পরিচয় নেয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ঘটনার পর কী করা উচিত, সে বিষয়েও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে জানান সারোয়ার আলম। তাঁর ভাষ্য, মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাঁদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। শুধু নাম-ঠিকানা নেওয়া হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, পুলিশ কুলিয়ারচরের শেষ সীমানা থেকে কুলিয়ারচরের দিকে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে মাইক্রোবাসটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মাইক্রোবাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে গেলে কেন থেমেছে, তা দেখতে পুলিশ গাড়িটি সামনে নিয়ে মাইক্রোবাসটির একেবারে মুখোমুখি দাঁড় করায়। এ সময় পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি। ফলে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলা যাচ্ছে না।

তবে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় ঘটনার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ব্যক্তিদের সংকেতেই তাঁরা গাড়ি থামিয়েছিলেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই তিন ব্যক্তি কারা, তাঁরা কেন মাইক্রোবাসটি থামানোর সংকেত দিয়েছিলেন, পুলিশকে দেখে যারা দৌড়ে পালিয়েছিল তারা কারা- এসব প্রশ্নের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের দাবি করা স্বর্ণ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামালের কোনো সন্ধান বা আলামত পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।