শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের নতুন অভিভাবক মিজানুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের নতুন অভিভাবক মিজানুর রহমান

কিশোরগঞ্জ জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যোগদানের পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাকে স্বাগত জানান। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল নবাগত পুলিশ সুপারকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), সদর থানার অফিসার ইনচার্জ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) অ্যাডমিনসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।

শিক্ষাজীবনে তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গঙ্গামণ্ডল রাজ ইনস্টিটিউশন থেকে এসএসসি এবং সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম শ্রেণি লাভ করেন।

পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের পর তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি র‌্যাব, এপিবিএন (APBn) ও পিবিআইতে দায়িত্ব পালন করে পেশাগত দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়ন, যানজট নিরসন এবং আইন প্রয়োগে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় বিভিন্ন আবাসিক সোসাইটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন। তার এসব উদ্যোগ জনসাধারণের প্রশংসা কুড়ায় এবং তিনি একাধিকবার ‘শ্রেষ্ঠ ডিসি’ পুরস্কার অর্জন করেন।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গেও যুক্ত। ‘রহমান শেলী’ ছদ্মনামে তিনি কবিতা, উপন্যাস, ক্রাইম ফিকশন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৪টি। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৯ সালে প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘শ্রেষ্ঠ লেখক’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৭ সালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশ সংগীত রচনার জন্য পুরস্কৃত হন এবং কাব্য মালাঞ্জলি সাহিত্য পুরস্কার ও কৃষ্টি ও কালচার সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।