ভৈরবে অগ্নিসংযোগে পুড়ে ছাই হত্যা মামলার বাদীর বাবার বাড়ি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদ হত্যা মামলার বাদীর বাবার বাড়িতে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি বসতঘরসহ নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শনিবার গভীর রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্ব কান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে সকালে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক। তানভীর হত্যা মামলার আসামিরা যেখানেই থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এ ঘটনায় পৃথক মামলা নেওয়া হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল পারিবারিক কলহের জেরে তানভীরের মা তাকে নিয়ে নানার বাড়িতে চলে আসেন। পরদিন ওষুধ কেনার কথা বলে তানভীরকে তার দাদি রাবেয়া বেগম বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।
পরে ২৩ এপ্রিল মানিকদী পূর্ব কান্দা এলাকার একটি হাওরের ডোবা থেকে তানভীরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তানভীরের মা বাদী হয়ে স্বামীসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে আসামি করে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী তসলিমা বেগম অভিযোগ করেন, “গতরাত আড়াইটার দিকে আমার স্বামী মিরাজসহ কয়েকজন লোক আমাদের বাড়িতে আগুন দেয়। পালানোর সময় আমার ভাগনি তাদের দেখে ফেললে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। আমরা প্রাণে বেঁচে গেলেও আমাদের সবকিছু পুড়ে গেছে।”
ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন তখন স্থানীয়রা নিয়ন্ত্রণে আনেন। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।










