মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পদত্যাগ, প্রশাসনে অচলাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পদত্যাগ, প্রশাসনে অচলাবস্থা

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে প্রক্টোরিয়াল বডি, বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ প্রায় ২০ জন শিক্ষক তাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কার্যত শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক বার্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা তাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর মো. রাকিবুল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা তনুজা ইয়াসমিন, প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল হক জুবায়েদ এবং রোকসানা পারভীন।

এ ছাড়া সহকারী প্রক্টর হিসেবে মো. মসীহ ইবনে ইয়াছিন আদন, মো. সোহানুল ইসলাম ও আতিয়া ফাইরুজ এবং হাউস টিউটর হিসেবে সুরাইয়া খানম মীম, ওয়াহিদ কায়সার ও মো. আসাদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন।

পদত্যাগকারী শিক্ষকরা তাদের বার্তায় জানিয়েছেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন।

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল আলম বলেন, কিছু অনিবার্য কারণে তিনি দায়িত্ব ছাড়লেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে।

একইভাবে তনুজা ইয়াসমিন ও মাজহারুল হক জুবায়েদও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েকজন শিক্ষক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ইতোমধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন।

অন্য পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির, রোভার স্কাউট ইনচার্জ মো. হারুন অর রশিদ, ক্রীড়া ইনচার্জ মো. এবাদুর রহমান এবং ছাত্রী হলের হাউস টিউটর মো. সাইফুল ইসলাম।

রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন জানান, বিভিন্ন অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণে এ গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিস্তারিত জানতে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একযোগে এত সংখ্যক শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও পদত্যাগকারী শিক্ষকরা ‘ব্যক্তিগত ও অনিবার্য কারণ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন, তবুও ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়।

ইটনায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৬ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ইটনায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৬ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের অন্তত ১৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে হঠাৎ বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে মৃগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং অনেক স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। ফলে রাত থেকেই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো ইউনিয়ন অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।

বিদ্যুৎ না থাকায় রাতভর চরম ভোগান্তিতে কাটান স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়াসহ দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুঁটি ভেঙে পড়া এবং জলাবদ্ধ ও জলাশয়ঘেরা এলাকা হওয়ায় সরঞ্জাম পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা মেরামত কাজ শুরু করার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কুলিয়ারচরে গভীর রাতেও মিলবে ওষুধ: প্রশাসনের ‘নাইট রোস্টার’ চালু

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে গভীর রাতেও মিলবে ওষুধ: প্রশাসনের ‘নাইট রোস্টার’ চালু

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা—গভীর রাতে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার সমস্যা—দূর করতে ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এখন থেকে প্রতি রাতে নির্দিষ্ট রোস্টার অনুযায়ী অন্তত একটি ফার্মেসি সারারাত খোলা থাকবে, ফলে জরুরি প্রয়োজনে আর ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না সাধারণ মানুষকে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টায় কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাইট রোস্টার’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নির্ধারিত রোস্টার বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একটি করে ফার্মেসি সারারাত খোলা থাকবে। জনসাধারণের সুবিধার্থে কোন দিন কোন ফার্মেসি খোলা থাকবে, তার তালিকা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টানানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।

গভীর রাতে ফার্মেসি খোলা রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি নির্ধারিত ফার্মেসির জন্য একজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই নিরাপত্তাকর্মীর বেতনের আংশিক ব্যয় উপজেলা প্রশাসন বহন করবে। তিনি সারারাত ফার্মেসিতে অবস্থান করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন শাহআলম এবং কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, এ ‘নাইট রোস্টার’ কার্যক্রম চালু থাকলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

তাড়াইলে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৪ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৪ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধলা ইউনিয়নের তেউরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. ছনিয়া আক্তার (১৫)-এর লাশ প্রায় চার মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা আখতারের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় নিহতের বাবা তারু খান উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়ি থেকে ছনিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে প্রথমে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়।

নিহতের বাবা তারু খান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তাড়াইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন পাল জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এখনো আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না হওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তারা আত্মগোপনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।