বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

‘তোমরাই ভবিষ্যৎ’- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপারের বার্তা

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘তোমরাই ভবিষ্যৎ’- এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে পুলিশ সুপারের বার্তা

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলে এসএসসি ব্যাচ-২০২৬-এর শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার খানম মাছুমা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার খানম মাছুমা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে পুলিশ সুপারকে স্বাগত জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, “আজকের কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের রাষ্ট্রের কর্ণধার। তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার এসএসসি ব্যাচ-২০২৬-এর শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন এবং তাদের প্রতি শুভকামনা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করে পরিবার ও জেলার সুনাম বয়ে আনবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুনাক কিশোরগঞ্জের সভানেত্রী উরুবা আতরাবা তামান্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) অনামিকা কুণ্ড, পুনাক কিশোরগঞ্জের সহ-সভানেত্রীসহ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানটি দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ৩১০ পিস নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ২৮৫ পিস নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ২৫ পিস চায়না দুয়ারী (রিং) জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। পরে জব্দকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাড়াইল সদর বাজারে মাছুম মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে অভিযান পরিচালনা করে এসব জাল জব্দ করা হয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী।

অভিযান চলাকালে উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন মেসার্স লাবিব পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স না থাকায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মৎস্য ও পশুখাদ্য-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পরে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী (রিং) জাল তাড়াইল উপজেলা পরিষদের খোলা জায়গায় নিয়ে জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মারুফ আকন্দ। তাড়াইল থানার পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে সহযোগিতা করেন।

তাড়াইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

কিশোরগঞ্জ জেলা দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হক মেনু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ জেলা দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হক মেনু

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন কটিয়াদীর দলিল লেখক ও সাংবাদিক মাইনুল হক মেনু। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তা এবং দলিল লেখকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার বিবেচনায় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় জানানো হয়, গত ১৩ জুন ২০২৬ জেলা শাখার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে মাইনুল হক মেনুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ শহরের সিটি কনভেনশন হলে নবনির্বাচিত ও মনোনীত কমিটির সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মাইনুল হক মেনুরও নতুন দায়িত্বে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

মাইনুল হক মেনু দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখার পেশার সঙ্গে যুক্ত। তিনি কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির কার্যকরী কমিটিতে একাধিকবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণেও তিনি ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংগঠনের কার্যক্রমেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।

দলিল লেখার পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত মাইনুল হক মেনু। তিনি দৈনিক দিনকালের কটিয়াদী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি তিনি কটিয়াদী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

মাইনুল হক মেনুর নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তির খবরে কটিয়াদীর দলিল লেখক ও সাংবাদিকদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তার পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা কিশোরগঞ্জ জেলা দলিল লেখক সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মাইনুল হক মেনু কিশোরগঞ্জ জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মহিউদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ফুরকান উদ্দিন মানিক, জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সব দলিল লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব তার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা, অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে সংগঠনকে আরও ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তাড়াইলে সারের জন্য কৃষকের ছোটাছুটি, কোথাও সংকট- কোথাও বেশি দাম

রুহুল আমিন প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে সারের জন্য কৃষকের ছোটাছুটি, কোথাও সংকট- কোথাও বেশি দাম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আমন ধানের আবাদ শুরু হওয়ায় মাঠে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। তবে আমন চাষের গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক কৃষককে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে। কোথাও সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও অল্প পরিমাণ সার মিললেও সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, তাড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের সরবরাহ নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে আমনের ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সারের কোনো সংকট নেই। কৃষি বিভাগের এমন দাবির সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিজ্ঞতার পার্থক্যই এখন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—মজুত পর্যাপ্ত থাকলে প্রয়োজনের সময় কৃষকের হাতে সার পৌঁছাচ্ছে না কেন?

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। একই সময়ে টিএসপি ৯০১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন সারের চাহিদা রয়েছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০ হেক্টর, উফশী ৭ হাজার ২৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩ হেক্টর।

কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাইব্রিড ধানের আবাদ হয়েছে ৫০০ হেক্টর, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ৩ হেক্টর। সব মিলিয়ে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে।

সারের সংকট ও সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ করেছেন কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া, আইনুল ইসলাম, রুকন মিয়া, শামীম মিয়া, ফজলুর রহমান, দেলোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

কৃষকদের প্রশ্ন, কৃষি বিভাগ যদি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার কথা বলে, তাহলে মাঠপর্যায়ের বিক্রেতাদের কাছে কেন চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি এবার ৩০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। বর্তমানে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ডিলারের কাছে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। এখনো সার কিনতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, সার সংগ্রহের জন্য আবারও যেতে হবে।

তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, তাড়াইলে সারের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে জেলা সদর ইউনিয়ন থেকে কিছু সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সংকট একেবারে নেই- এমনটা বলা যাবে না। বরাদ্দ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী কৃষকদের সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে সারের পরিস্থিতিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। কোনো কোনো এলাকায় কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। আবার কোথাও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে? বরাদ্দের পরিমাণ স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ ঠিকমতো হচ্ছে কি না এবং সরকারি মূল্যে সার কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ আমন মৌসুমে সময়মতো জমিতে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ফলনেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই।

সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাস্টাররোলে কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চাহিদার বিপরীতে উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। এরপরও কোনো কৃষক প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ ও কৃষি বিভাগের দাবির মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ, বরাদ্দ, ডিলার পর্যায়ের মজুত এবং বিক্রয়মূল্য—সবকিছুই নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন কৃষকেরা।