ভৈরবে মেঘনায় রক্তাক্ত বস্তা দেখে আতঙ্ক, ডুবুরি নেমে পেল ময়লা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মেঘনা নদীতে ভাসমান বস্তাকে লাশ মনে করে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রায় আড়াই ঘণ্টার অভিযানের পর মিলেছে ময়লা-আবর্জনা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে চণ্ডীবের ও কালিপুর সংযোগ সেতুর নিচে দুটি বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে লাশ উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা ও সড়কে রক্তের দাগ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে বস্তা দুটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় লাশ উদ্ধারের আশঙ্কায় সেতু ও নদীতীরে বিপুলসংখ্যক উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চণ্ডীবের ও কালিপুর সংযোগ সেতুর নিচে নদীতে দুটি বস্তা ভাসতে দেখা যায়। বস্তাগুলোর একটিতে রক্তের দাগ রয়েছে—এমন ধারণা থেকে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়, সেখানে কোনো হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে কি না। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীতে ভাসমান বস্তা এবং সড়কে রক্তের দাগ দেখতে পায়। এ সময় একটি বস্তা পানিতে ডুবে গেলে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে বস্তা দুটি উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পর বস্তা দুটি খুলে দেখা যায়, সেগুলোতে কোনো মরদেহ নেই; বরং ময়লা-আবর্জনা রয়েছে। পরে সড়কে থাকা রক্তের দাগ নিয়েও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগের রাতে ওই এলাকায় একটি শিয়াল হত্যার ঘটনায় রক্ত সড়কে লেগে থাকতে পারে।
ভৈরব নদী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা নদীতে লাশ উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করেন। পরে দুটি বস্তা উদ্ধার করে খুলে দেখা যায়, সেগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি।
ডুবুরি সেলিম মিয়া বলেন, নদীতে দুটি বস্তা ভাসতে দেখে তাদের খবর দেওয়া হয়। পরে তারা নদীতে নেমে বস্তা দুটি উদ্ধার করেন। বস্তা খুলে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি; সেগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ছিল।
ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম বলেন, নদীতে দুটি বস্তা ভাসছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ভাসমান বস্তার সত্যতা পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ডুবুরি দল বস্তা দুটি উদ্ধার করে এবং সেগুলোতে ময়লা-আবর্জনা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, লাশ উদ্ধারের বিষয়টি গুজব ছিল।
লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে দীর্ঘ সময় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। ডুবুরি দলের অভিযানের পর বস্তায় মরদেহ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array