মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে নির্মাণাধীন ফটক ধস: রডমিস্ত্রি নিহত, আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরীতে নির্মাণাধীন ফটক ধস: রডমিস্ত্রি নিহত, আহত ৪

কিশোরগঞ্জের বিসিক শিল্পনগরীতে নির্মাণাধীন প্রধান ফটক ধসে মো. রাসেল মিয়া (২৫) নামে এক রডমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের বিসিক শিল্পনগরীর মূল ফটকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল মিয়া সদর উপজেলার স্বল্পমারিয়া গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন—হাসান মিয়া (২২), স্বপন (৩৫), মো. রানা (২৬) এবং আরও একজন শ্রমিক। তাদের মধ্যে হাসান মিয়া স্বল্পমারিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে, স্বপন মারিয়া গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে এবং রানা করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিসিক শিল্পনগরীর প্রধান ফটকের নির্মাণকাজে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিকেলে বৃষ্টির পর ফটকের ছাদে ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ঢালাই শেষে হঠাৎ সেন্টারিং কাঠামো অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে পুরো অংশ ধসে পড়ে। এতে নিচে কর্মরত পাঁচজন শ্রমিক চাপা পড়েন।

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একজনকে উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার আব্দুল্লাহ খালিদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা অ্যাম্বুলেন্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকা তল্লাশি শেষে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়।

এদিকে, বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান আল ফারুক জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কায় ঢালাই কাজ না করতে বলা হলেও নির্দেশনা অমান্য করে কাজ চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইটনায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৬ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ইটনায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: ১৬ গ্রাম বিদ্যুৎহীন, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের অন্তত ১৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে হঠাৎ বয়ে যাওয়া প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে মৃগা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং অনেক স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। ফলে রাত থেকেই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো ইউনিয়ন অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে।

বিদ্যুৎ না থাকায় রাতভর চরম ভোগান্তিতে কাটান স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়াসহ দৈনন্দিন কাজেও বিঘ্ন ঘটে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ইউএনও মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুঁটি ভেঙে পড়া এবং জলাবদ্ধ ও জলাশয়ঘেরা এলাকা হওয়ায় সরঞ্জাম পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা মেরামত কাজ শুরু করার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কুলিয়ারচরে গভীর রাতেও মিলবে ওষুধ: প্রশাসনের ‘নাইট রোস্টার’ চালু

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে গভীর রাতেও মিলবে ওষুধ: প্রশাসনের ‘নাইট রোস্টার’ চালু

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা—গভীর রাতে জরুরি ওষুধ না পাওয়ার সমস্যা—দূর করতে ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এখন থেকে প্রতি রাতে নির্দিষ্ট রোস্টার অনুযায়ী অন্তত একটি ফার্মেসি সারারাত খোলা থাকবে, ফলে জরুরি প্রয়োজনে আর ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না সাধারণ মানুষকে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টায় কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নাইট রোস্টার’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নির্ধারিত রোস্টার বা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একটি করে ফার্মেসি সারারাত খোলা থাকবে। জনসাধারণের সুবিধার্থে কোন দিন কোন ফার্মেসি খোলা থাকবে, তার তালিকা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে টানানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।

গভীর রাতে ফার্মেসি খোলা রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি নির্ধারিত ফার্মেসির জন্য একজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ওই নিরাপত্তাকর্মীর বেতনের আংশিক ব্যয় উপজেলা প্রশাসন বহন করবে। তিনি সারারাত ফার্মেসিতে অবস্থান করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন শাহআলম এবং কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), উপজেলা প্রকৌশলী, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, এ ‘নাইট রোস্টার’ কার্যক্রম চালু থাকলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

তাড়াইলে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৪ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: ৪ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ধলা ইউনিয়নের তেউরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. ছনিয়া আক্তার (১৫)-এর লাশ প্রায় চার মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা আখতারের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় নিহতের বাবা তারু খান উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের মর্গে পাঠানো হয়।

এর আগে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়ি থেকে ছনিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে প্রথমে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়।

নিহতের বাবা তারু খান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তাড়াইল থানার তদন্ত কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন পাল জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এখনো আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি না হওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তারা আত্মগোপনে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।