অপরিকল্পিত স্লুইসগেট ও খাল দখলে হোসেনপুরের বিলে বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বারইখালী স্লুইসগেট এবং রামদিয়া–বারইখালী খাল দখল করে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ফলে উপজেলার অন্তত ৮টি বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো কৃষক পরিবার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানান বিল, জলধার বিল, পুমদির পায়ফুটা বিল, লাখুহাটি বিল, জগদলের বিল চাতল, মাধখলার ডাঙ্গুরি বিল, হারেঞ্জার বিল ও বগারার বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। মাঠের পর মাঠ পাকা ধান পানির নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। অনেক কৃষক হাঁটু পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ফসল রক্ষা করতে পারছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, “সারা বছরের খোরাকির ধান এই বিলেই উৎপাদন করি। স্লুইসগেটের কারণে পানি নামতে পারছে না। আমার তিন একর জমির সব ধান পানির নিচে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, রামদিয়া–বারইখালী খালের ওপর নির্মিত বারইখালী স্লুইসগেটটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রয়োজনের সময় গেট খোলা হয় না, আবার পলি জমে অধিকাংশ গেট অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে বিলের পানি নিষ্কাশন না হয়ে উল্টো জমিতে ঢুকে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে।
এছাড়া প্রভাবশালীরা খাল দখল করে মাছের ঘের ও পুকুর নির্মাণ করেছেন। পানি আটকে রাখতে খালের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিলগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো— খাল দখল করে মাছের ঘের নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অপরিকল্পিত বারইখালী স্লুইসগেট অপসারণ, সেখানে সেতু (ব্রিজ) নির্মাণ এবং রামদিয়া–বারইখালী খাল পুনঃখনন করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, “এই স্লুইসগেট কোনো উপকারে আসছে না; বরং হাজারো কৃষকের সর্বনাশ করছে। আমরা আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর সমাধান চাই।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ মহসিন জানান, জলাবদ্ধতার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।













