রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার প্রবীণ কৃষক ইনু মিয়া রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার শপথ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ভাত পরিহার করে আসছিলেন। অবশেষে পহেলা বৈশাখে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজ হাতে তাকে ভাত খাইয়ে সেই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞার ইতি টানেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র এলাকায় এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর ইনু মিয়া ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ভাত না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। সামাজিক ও পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি ভাত গ্রহণ করেননি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর ভাত গ্রহণ করে ইনু মিয়া হাসিমুখে তা গ্রহণ করেন। এতদিন তিনি কলা, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার খেয়ে জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা যায়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১২ জানুয়ারি এক স্থানীয় কর্মীসভায় বিষয়টি আলোচনায় এলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম প্রতিশ্রুতি দেন, দল ক্ষমতায় এলে তিনি নিজ হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়াবেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন ঘটল পহেলা বৈশাখের দিনে।

ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতি এমন ভালোবাসা ও ত্যাগ বিরল। ইনু মিয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং একটি নতুন ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইনু মিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল এবং কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। আগে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল।

ইনু মিয়া বলেন, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন ভাত পরিহার করেছিলেন। আজ ভাত খেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তার স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, বহুবার চেষ্টা করেও তাকে ভাত খাওয়ানো যায়নি। আজ এতদিন পর তাকে ভাত খেতে দেখে পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ইনু মিয়ার এই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত এবং জুনিয়র বৃত্তি-২০২৬ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, মাসুদা ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ভালো ফলাফল অর্জনকারীদের পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেনি, তাদেরও হতাশ না হয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত অধ্যবসায় ও চেষ্টা থাকলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই নয়, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার্থীদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে নিজেদের একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শেষ হয়।

কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র উদ্বোধন, মিলবে সহজে হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা

ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্র থেকে জনসাধারণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে পারবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) নিলুফা আক্তার রূপা এবং জেলার ১৩টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)।

উদ্বোধন শেষে সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলামকে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি কেন্দ্রটির মাধ্যমে নাগরিকদের কী ধরনের ভূমিসেবা দেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, জেলার নাগরিকদের ভূমিসেবা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এ ভূমিসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, নাগরিকরা সরাসরি জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া, নামজারি ও জমাখারিজ, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি এবং মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রাপ্তির আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়া যাবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত এ কেন্দ্রের মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে ভূমিসেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে।

কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হত্যার হুমকি, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

রোববার দুপুরে শহরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম চত্বর থেকে এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আহনাফ সাঈদ খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, ফয়সাল প্রিন্সসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চাপে রয়েছে।

বক্তারা অবিলম্বে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

সমাবেশ শেষে একই দাবিতে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।