রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৭ বছর পর ভাঙল প্রতিজ্ঞা, ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার প্রবীণ কৃষক ইনু মিয়া রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত প্রতিজ্ঞার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার শপথ নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ভাত পরিহার করে আসছিলেন। অবশেষে পহেলা বৈশাখে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজ হাতে তাকে ভাত খাইয়ে সেই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞার ইতি টানেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র এলাকায় এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর ইনু মিয়া ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ভাত না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় নেতাদের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেননি। সামাজিক ও পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি ভাত গ্রহণ করেননি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে ইনু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ান। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর ভাত গ্রহণ করে ইনু মিয়া হাসিমুখে তা গ্রহণ করেন। এতদিন তিনি কলা, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার খেয়ে জীবনযাপন করছিলেন বলে জানা যায়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত ১২ জানুয়ারি এক স্থানীয় কর্মীসভায় বিষয়টি আলোচনায় এলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম প্রতিশ্রুতি দেন, দল ক্ষমতায় এলে তিনি নিজ হাতে ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়াবেন। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন ঘটল পহেলা বৈশাখের দিনে।

ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলের প্রতি এমন ভালোবাসা ও ত্যাগ বিরল। ইনু মিয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং একটি নতুন ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইনু মিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল এবং কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন। আগে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল।

ইনু মিয়া বলেন, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন ভাত পরিহার করেছিলেন। আজ ভাত খেয়ে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

তার স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, বহুবার চেষ্টা করেও তাকে ভাত খাওয়ানো যায়নি। আজ এতদিন পর তাকে ভাত খেতে দেখে পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মনে করেন, ইনু মিয়ার এই দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান: কটিয়াদীতে বিএনপির আলোচনা সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে অম্লান: কটিয়াদীতে বিএনপির আলোচনা সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনের প্রণেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় কটিয়াদী উপজেলার স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান কাঞ্চন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সৈয়দ সামসুল আরেফিন তারা ও মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চাঁন মিয়া মাস্টার, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আজিজুল হক শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুদ ও সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইলিয়াস আলী, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান ও সদস্য সচিব আব্দুল আজিজ প্রিন্স, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান উবায়দুর এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক। স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।

বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন কর্মসূচি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যুবসমাজকে কর্মমুখী করে তোলা এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শহীদ জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ আজও দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ নেতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ছিলেন আপসহীন।

বক্তারা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুদুল আলম মাসুদ।

দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের মাঝে মিষ্টি ও তবারক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ। কলেজের প্রভাষক ও রোভার ইউনিট লিডার সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবনের উদ্যোগে এবং রোভার সদস্যদের সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রোভার সদস্য ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির মানসিকতা। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।

রোভার ইউনিট লিডার ও কলেজের প্রভাষক সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবন বলেন, “কলেজের রোভার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আগ্রহের কারণেই এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার নানা কারণে কোরবানি দিতে পারেনি। অথচ ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং পরস্পরের সঙ্গে সেই আনন্দ বিনিময় করা।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের পরিবারেরই অংশ। তাদের ছাড়া আমাদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আমরা তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

ঈদুল আজহায় এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং রোভার আন্দোলনের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

কিশোরগঞ্জে গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে প্রতিবন্ধী নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে প্রতিবন্ধী নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের বড়ভাগ মধ্যপাড়া এলাকায় এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীকে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা এবং চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে বড়ভাগ মধ্যপাড়া এলাকার মৃত ইকবাল হোসেনের ছেলে মো. রনি মিয়া (২৮) এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন পরিকল্পিতভাবে ওই প্রতিবন্ধী নারীর ঘরে প্রবেশ করে। ভুক্তভোগী নারী একজন এতিম এবং বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তিনি চাচার বসতঘরের পাশেই এলাকাবাসীর সহায়তায় নির্মিত একটি টিনশেড ঘরে একা বসবাস করতেন।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত রনি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রায়ই ওই নারীর ঘরের আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার রাতে অভিযুক্তরা ঘরের জানালার কাঠের পাল্লা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তাদের সহযোগীরা বাইরে পাহারায় অবস্থান নেয়। পরে রনি মিয়া ঘরে ঢুকে ওই নারীর হাত, পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পরনের কাপড়চোপড় ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ওই নারী গোঙানির শব্দ করলে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা ঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে অভিযুক্ত রনি মিয়া ঘরে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা, প্রায় তিন ভরি ওজনের রূপার গহনা এবং এক জোড়া রূপার নূপুর নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পালানোর সময় দরজার সামনে থাকা লোকজনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে ভুক্তভোগী নারীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তিনি ইশারার মাধ্যমে তার ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বর্ণনা দেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর চাচা মো. মঞ্জু মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে রনি মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ঘটনার পরদিন স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বরের কাছে বিচার চাওয়া হলে তারা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন। এমনকি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া মামলা করলে অভিযুক্তের স্বজনরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান বাদী।

ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জাকির বলেন, “আমার চাচাতো বোন একজন বোবা ও প্রতিবন্ধী মানুষ। ঘটনার সময় তার গোঙানির শব্দ শুনে আমরা ঘুম থেকে উঠে ঘরে গিয়ে দেখি, তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। তার হাতে আঁচড়ের দাগ ছিল, জামা ছেঁড়া ছিল এবং মাথার চুল এলোমেলো ছিল। নাকের ফুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পায়ের নূপুর খুলে নেওয়া হয়েছে। ঘরের টাকা-পয়সাও নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “পরে আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ইশারায় জানায়, পাশের এলাকার রনি নামের এক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। একাধিকবার সালিশ হলেও আমরা কখনো সুষ্ঠু বিচার পাইনি।”

জাকির বলেন, “আমার বোন একজন অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষ। মানুষের সাহায্যে তার জীবন চলে। তার কাছে থাকা টাকা, নূপুর, মোবাইল ফোন, টর্চলাইট, এমনকি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ডও নিয়ে গেছে। আত্মীয়-স্বজন ঈদ উপলক্ষে যে কাপড়চোপড় দিয়েছিল, সেগুলোও নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, “মেয়েটির মা অনেক আগেই মারা গেছেন। কিছুদিন আগে তার বাবাও মারা যান। বর্তমানে সে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছে। এলাকাবাসী যার যা সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই তাকে সহযোগিতা করে আসছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় চুরির জন্য কুখ্যাত। এর আগেও তাকে চুরির ঘটনায় ধরে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশও তাকে একাধিকবার আটক করেছে। কিন্তু জেল থেকে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”