করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ। কলেজের প্রভাষক ও রোভার ইউনিট লিডার সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবনের উদ্যোগে এবং রোভার সদস্যদের সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রোভার সদস্য ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির মানসিকতা। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।
রোভার ইউনিট লিডার ও কলেজের প্রভাষক সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবন বলেন, “কলেজের রোভার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আগ্রহের কারণেই এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার নানা কারণে কোরবানি দিতে পারেনি। অথচ ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং পরস্পরের সঙ্গে সেই আনন্দ বিনিময় করা।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের পরিবারেরই অংশ। তাদের ছাড়া আমাদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আমরা তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
ঈদুল আজহায় এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং রোভার আন্দোলনের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।




