মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যতিক্রমী আয়োজনে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ। কলেজের প্রভাষক ও রোভার ইউনিট লিডার সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবনের উদ্যোগে এবং রোভার সদস্যদের সহযোগিতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় করিমগঞ্জ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রোভার সদস্য ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হলো ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির মানসিকতা। সেই মূল্যবোধকে ধারণ করেই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিক্ষার্থী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।

রোভার ইউনিট লিডার ও কলেজের প্রভাষক সম্রাট জহিরুল ইসলাম জীবন বলেন, “কলেজের রোভার সদস্য ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আগ্রহের কারণেই এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার নানা কারণে কোরবানি দিতে পারেনি। অথচ ঈদুল আজহার অন্যতম আনন্দ হলো কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়া এবং পরস্পরের সঙ্গে সেই আনন্দ বিনিময় করা।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের পরিবারেরই অংশ। তাদের ছাড়া আমাদের উৎসব পূর্ণতা পায় না। তাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আমরা তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা মনে করেন, এ ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতার চর্চা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় সচেতন মহলও এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে।

ঈদুল আজহায় এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং রোভার আন্দোলনের সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।