বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়ের শেষ মুহূর্তে সাংবাদিকদের নিয়ে চা-চক্রে কুলিয়ারচরের ইউএনও

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিদায়ের শেষ মুহূর্তে সাংবাদিকদের নিয়ে চা-চক্রে কুলিয়ারচরের ইউএনও

কর্মক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, জনবান্ধব মনোভাব ও কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিজের একটি স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। দায়িত্বকাল শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে চা-চক্র ও মতবিনিময় সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। উপজেলায় প্রথমবারের মতো বিদায়লগ্নে স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্মান জানাতে এমন আয়োজন করেন এই কর্মকর্তা।

কুলিয়ারচরে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কুলিয়ারচর প্রেসক্লাবের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন। ফলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর ছিল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারি এক আদেশে তাঁর বদলির নির্দেশ জারি হয়। এর পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেঞ্জার গ্রুপের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিদায়ী চা-চক্র ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আলি হায়দার, মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী সোহেল, লোকমান হোসাইন, আহমেদ সিফাত, মো. কামরুল ইসলাম মুছা, প্রবীর চন্দ্র সূত্রধর শম্ভু, সজীব আহমেদ, মো. সবুজ মিয়া, মাহিন আহমেদ, আজিজুল ইসলাম ও মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। নারী সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোছা. শরিফুন্নেছা শুভ্রা, ফারজানা আক্তার, শাহীন সুলতানা ও মোছা. নিলুফা আক্তার নীলাসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

বিদায়ী চা-চক্রে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকারের কর্মকালীন সময়ের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করা হয়। এ সময় তাঁর গৃহীত জনসেবামূলক উদ্যোগ, প্রশাসনিক তৎপরতা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আবেগঘন বক্তব্যে বিদায়ী ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “ইউএনও হিসেবে কুলিয়ায়রচরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার কর্মজীবনের প্রথম ও অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মীবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সহযোগিতা পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। একটি উপজেলার প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অবকাঠামোগত নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়ন।”

মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে জনমুখী করতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। গণমাধ্যম যেমন জনদুর্দশার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে, তেমনি সরকারের উন্নয়নকাজের খবরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। নদীবেষ্টিত কুলিয়ারচরের কৃষি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে সভাটি শেষ হয়। সাংবাদিকরা বিদায়ী ইউএনওর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মিছিলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহাব্বুর রহমান মাহাবুব, আবু বাক্কার সিদ্দিক বাক্কার, আবুল হাসিম সবুজ, ফরিদ আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া, রবিউল আলম রবিন, এ আই খান শিবলু, মোস্তাফিজ রহমান টুটুল, হোসেনপুর পৌর বিএনপি র সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ কেজি জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরবের পুলতাকান্দা এলাকার নৈশকালীন মৎস্য আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল পুলতাকান্দা নৈশকালীন মৎস্য আড়তে অভিযান চালায়।

অভিযানে ডলফিন মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ২৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রির দায়ে আড়ত মালিক ফরহাদ মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে অন্তর ফিস এন্টারপ্রাইজ থেকে জেলি মেশানো ৩৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক অন্তর বর্মণকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ১০ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আড়ত মালিক সেলিম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে ভৈরব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসেন, ভৈরব নৌপুলিশের উপপরিদর্শক মো. রহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ কেজি ক্ষতিকর জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব চিংড়ি বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান শেষে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার পেল আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ, গরিব ও অসহায় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন ১২৪টি পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক ও গৃহ নির্মাণ উপকরণ হিসেবে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সায়েদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় অষ্টগ্রাম উপজেলার ১২৪টি পরিবারের মধ্যে ২৫টি পরিবারের প্রত্যেককে দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাকি ৯৯টি পরিবারের প্রত্যেককে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়েছে।