আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে শুরু হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবমুখর প্রস্তুতি। আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। বিশেষ করে প্রিয় দলের জার্সি ও পতাকা কেনাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজারগুলো।
মঙ্গলবার (৯ জুন) করিমগঞ্জ বাজারের ফুটপাত, স্পোর্টস মার্কেট ও বিভিন্ন পোশাকের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জার্সি ও পতাকার বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের পছন্দের দলের জার্সি সংগ্রহে ভিড় করছেন। কেউ নিজের জন্য, কেউবা সন্তান কিংবা প্রিয়জনের জন্য জার্সি কিনছেন।
বরাবরের মতো এবারও মাঠের বাইরের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে তর্ক-বিতর্ক, ভবিষ্যদ্বাণী ও নিজেদের দলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের প্রতিযোগিতা।
আর্জেন্টিনার সমর্থক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী উৎপল কুমার পাল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ম্যারাডোনার নাম শুনে বড় হয়েছি। পরে মেসির খেলা দেখে তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। এবারও আর্জেন্টিনার জার্সি কিনেছি এবং বাসায় দলের পতাকা টানিয়েছি। আশা করি, শিরোপা আবারও আর্জেন্টিনার হাতেই উঠবে।”
পিছিয়ে নেই ব্রাজিলের সমর্থকরাও। ছেলের জন্য জার্সি কিনতে আসা সানরাইজ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার মিঠু বলেন, “ব্যস্ততার কারণে আগের মতো খেলার বিশ্লেষণ করা হয় না। তবে ব্রাজিলের খেলা সবসময়ই ভালো লাগে। নেইমারের ফুটবল দক্ষতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার দুই ছেলেও ব্রাজিলের সমর্থক। তাই চাইব, শিরোপা ব্রাজিলের ঘরেই ফিরুক।”
চিরাচরিত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে এবার অন্যান্য দলের প্রতিও আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জনপ্রিয়তাকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের জার্সি-পতাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের জার্সিও বিক্রি হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।
বিশ্বকাপ ঘিরে চাহিদা বাড়লেও কাপড়ের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের কারণে জার্সির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এ নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সাধারণ মানের জার্সি ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও উন্নতমানের জার্সির দাম দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
করিমগঞ্জ বাজারের ‘আনোয়ার স্পোর্টস’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার শাহ বলেন, “ফ্যাক্টরি থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জার্সি সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় দাম অনেকটা বেড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী জার্সি সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
‘ডিঙ্গি ফ্যাশন পয়েন্ট’-এর মালিক সত্যজিৎ মোদক শুভ বলেন, “বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সির বিক্রি বেশ ভালো হচ্ছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি পর্তুগাল, স্পেন ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদাও উল্লেখযোগ্য। তবে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় কিছুটা বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।”
বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লোকাল মানের জার্সির দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ফ্যান এডিশন ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা, প্লেয়ার কপি ৯০০ থেকে ১,১০০ টাকা এবং প্লেয়ার এডিশনের জার্সির দাম ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। শিশুদের জার্সি ২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে মানভেদে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের পতাকা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়, পাঁচ ফুটের পতাকা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং ১০ ফুটের বড় পতাকা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জার্সি ও পতাকার পাশাপাশি ফুটবল, বুট, গোলকিপিং গ্লাভস এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলের বিক্রিও বাড়তে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বিক্রি এবং ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস।