দেশে বাড়ছে হাম সংক্রমণ, শিশুমৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ; সতর্কতায় জোর বিশেষজ্ঞদের
একসময় নিয়ন্ত্রণে থাকা রোগ হাম (Measles) দেশে আবারও উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকায় অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা নাক, গলা ও ফুসফুসে আক্রমণ করে দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক জটিলতা, ডায়রিয়া, বধিরতা, অন্ধত্ব এবং মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৭ হাজার ২২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ রোগে এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে, আর বাকি ৮টি শিশু উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৯৮ শিশু ভর্তি হয়েছে এবং ১৭৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্টেশন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, আক্রান্ত শিশুদের ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভিটামিন ‘এ’-এর দুটি ডোজ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রদান করতে হবে। এটি চোখের ক্ষতি, অন্ধত্ব ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে দুই বছরের কম বয়সি শিশু ও অপুষ্টিপ্রবণ এলাকায় এ সাপ্লিমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুরাও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, “বয়সভিত্তিক সংক্রমণের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।”
তিনি আরও জানান, পূর্বে হাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ নিয়ে তেমন সতর্কতা ছিল না। তবে বর্তমানে হার্ড ইমিউনিটি কমে যাওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। টিকাদান কাভারেজে ঘাটতির কারণেও সংক্রমণ বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। টিকা নেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।










