সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ নিয়ে মতবিরোধ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ নিয়ে মতবিরোধ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ দীর্ঘদিনের প্রচলিত স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে আরেক পক্ষ জনসেবার সুবিধার্থে নতুন স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৯ সালে দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউনিয়নের সকল প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বর্তমান স্থান থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ এ সময়ে ১১ জন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের ১২তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম এ হানিফ।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিষদ ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রকল্পের দরপত্র বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যের সময় নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছিল।

তবে এ পর্যায়ে ভবনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষ বর্তমান স্থানেই ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিলেও অপর পক্ষ বিকল্প স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এ বিষয়ে দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ হানিফ বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণ একটি মীমাংসিত বিষয়। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এখন নতুন করে এ বিষয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি করা অযৌক্তিক। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি না করে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।”

অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা এস এম ফারুক বর্তমান স্থানে ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করে নতুন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নতুন স্থানে ভবন নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নের অধিকসংখ্যক মানুষ সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এস এম ফারুক জানান, বিষয়টি বিবেচনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় একটি উপযুক্ত ও সুবিধাজনক স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হোক। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বর্তমান স্থানে ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ নতুন স্থানের দাবিকে সমর্থন করছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি এখন স্থানীয় আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও চলমান প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে অস্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

মোঃ আলী রহমান প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে অস্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা ছাত্রদল। সোমবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং সদস্যসচিব আল মাহমুদ মোস্তাক। তাদের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরের সামনে থেকে শুরু হয়ে অষ্টগ্রাম বড় বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটির প্রতি সমর্থন ও শুভকামনা জানান।

মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল এবং সদস্যসচিব আল মাহমুদ মোস্তাক। বক্তারা নবগঠিত জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তারা বলেন, ছাত্রদল দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের কার্যক্রম শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তফসির, রোটারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তাকবীর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাকিন, সাধারণ সম্পাদক নান্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিউল ইসলামসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

নবগঠিত জেলা ছাত্রদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংগঠনের নেতারা আগামী দিনে ছাত্রদলের আদর্শ ও কর্মসূচি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

স্থানীয়দের দাবির মুখে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস সংসদ সদস্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
স্থানীয়দের দাবির মুখে কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস সংসদ সদস্যের

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের অবহেলিত কাঁচা সড়ক পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং দ্রুত রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দেন।

সোমবার (১ জুন) দুপুর ২টায় মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারিপাড়া, চন্দ্রাবতী মন্দির এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যা, যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শন শেষে দামপাড়া এলাকায় কয়েক শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সংসদ সদস্য। বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার কারণে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায় বলে জানান তারা।

এ সময় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীদের এনে রাস্তা পরিমাপ করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক পাকাকরণের কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের সেবা করাই আমার দায়িত্ব। আপনাদের জন্য আমার বাসার দরজা সবসময় খোলা। এলাকার যে কোনো সমস্যা আমাকে জানাবেন, আমি সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে আমি এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে সংসদ সদস্যকে এই এলাকায় নিয়ে এসে জনগণের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরব। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাইজখাপন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন। তাই এলাকার রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা সংসদ সদস্যের সরেজমিন পরিদর্শন এবং উন্নয়নের আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ আল মোস্তফা, মাইজখাপন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক শাহীন, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই

দেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা জানান, মৃত্যুকালে তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং রাজনৈতিক সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধের সহযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতাসহ নানা জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতাদের অন্যতম হিসেবে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি টানা কয়েক দশক জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তোফায়েল আহমেদ নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, সাংবিধানিক রাজনীতি এবং জাতীয় উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে তাঁর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলায় আদালতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

২০০২ সালে দায়ের করা ওই মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাত ও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলেও সম্প্রতি তা পুনরায় শুরু হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ তাঁর নিজ জেলা ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে সার্কিট হাউস মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।