করিমগঞ্জের দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ নিয়ে মতবিরোধ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ দীর্ঘদিনের প্রচলিত স্থানে নতুন ভবন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে আরেক পক্ষ জনসেবার সুবিধার্থে নতুন স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৯ সালে দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইউনিয়নের সকল প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম বর্তমান স্থান থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ এ সময়ে ১১ জন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের ১২তম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম এ হানিফ।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিষদ ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রকল্পের দরপত্র বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সংসদ সদস্যের সময় নির্ধারণের প্রস্তুতি চলছিল।
তবে এ পর্যায়ে ভবনের স্থান নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একটি পক্ষ বর্তমান স্থানেই ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিলেও অপর পক্ষ বিকল্প স্থানে ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ হানিফ বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের স্থান নির্ধারণ একটি মীমাংসিত বিষয়। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এখন নতুন করে এ বিষয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি করা অযৌক্তিক। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের কার্যক্রম এখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করেই সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি না করে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত।”
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতা এস এম ফারুক বর্তমান স্থানে ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করে নতুন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নতুন স্থানে ভবন নির্মাণ করা হলে ইউনিয়নের অধিকসংখ্যক মানুষ সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এস এম ফারুক জানান, বিষয়টি বিবেচনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় একটি উপযুক্ত ও সুবিধাজনক স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হোক। এ বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছি।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ বর্তমান স্থানে ভবন নির্মাণের পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ নতুন স্থানের দাবিকে সমর্থন করছেন। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের বিষয়টি এখন স্থানীয় আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও চলমান প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।







