বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আওয়ামী লীগ করেছে দুর্নীতি: রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের শাসনামল এবং সাম্প্রতিক ১৭ বছরের শাসনকাল দেশের মানুষের জন্য দুঃখ-কষ্ট, দুঃশাসন ও গণতন্ত্রহীনতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে দুর্ভিক্ষ, খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে দেশের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিল। একইভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ শাসনামলেও জনগণ নানা ধরনের নির্যাতন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যানচালক দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আরিফুর রহমান তুষার।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের উদ্যোগে গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
রিজভী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং বাকস্বাধীনতার সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, সে সময় বিরোধী রাজনৈতিক দল, স্বাধীন সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলেও বিরোধী মত দমন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিতকরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে সেসব বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে দেওয়া নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন জনগণ দেখেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এবং দুর্নীতির বিস্তার ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা, তাঁর সহযোগী, আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র বা তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করেননি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির রাজনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টির রাজনীতি। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কোটি কোটি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের ভিত্তি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়েই রচিত হয়েছিল। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদানও তাঁর উদ্যোগের ধারাবাহিক ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দোয়া মাহফিলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালিত হয়।
এ সময় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, রিকশা ও ভ্যানচালক দলের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







