শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অন্যতম সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর ২৫ বছর পূর্তি (রজতজয়ন্তী) উপলক্ষে বরেণ্যজন সম্মাননা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণ, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রোববার বিকেলে আচমিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘আশ্রয়’-এর সদস্য শহিদুজ্জামান শহিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু ও শফিকুর রহমান বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান চন্দন, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান, আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনটির ২৫ বছরের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্য ও স্মৃতিচারণমূলক উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ‘আশ্রয়’-এর বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক, পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনায় সংগঠনের দীর্ঘ পথচলার নানা চ্যালেঞ্জ, সাফল্য এবং সমাজকল্যাণে অবদানের চিত্র উপস্থিত দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

পরে এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কৃতী নাগরিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজসেবা, মানবকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আশ্রয়’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের মতো অসংখ্য উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

বক্তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘আশ্রয়’-এর অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হলো পাখি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছে গাছে কলসি ও মাটির পাতিল বেঁধে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘আশ্রয়’ গত ২৫ বছর ধরে যে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। খাল খনন, নদী পুনরুদ্ধার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রবীণ ব্যক্তিরা ‘আশ্রয়’-এর দীর্ঘ ২৫ বছরের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তারা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা শেষে কিশোরগঞ্জ একতা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় গীতিনাট্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা আনন্দঘন সময় উপভোগ করেন।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন উপস্থিত অতিথিরা।

শোকে স্তব্ধ মিঠামইন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীরের শেষ বিদায়

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
শোকে স্তব্ধ মিঠামইন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীরের শেষ বিদায়

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাময়িকভাবে পদ স্থগিত হওয়া সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাজা শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড মাঠে (কেন্দ্রীয় মাঠ) অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্থানীয়রা উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক বলে জানিয়েছেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাজায় অংশ নেন সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাঈল মিয়া,  জেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক ও করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম (ভিপি) সুমন, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান (জিএস) শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় স্বজন, সহকর্মী ও সমর্থকদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। শেষ বিদায়ে উপস্থিত মানুষের অনেকেই এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন এসএম জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজার থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন হামলাকারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হামলায় তার সঙ্গে থাকা বিএনপি কর্মী হাদিস মিয়াও আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে অভিযান: আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে অভিযান: আড়াই লাখ টাকার নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ। অভিযানে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালসহ মোট ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত সব জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কটিয়াদী উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে বাট্রা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা।

শুধু নিষিদ্ধ জাল জব্দেই সীমাবদ্ধ থাকেনি অভিযান। করগাঁও হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রোফিশিং (বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মাছ শিকার) প্রতিরোধে তদারকি চালানো হয়। পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক চলাচল ও প্রজননে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন অবৈধ বাঁধ এবং বিভিন্ন স্থায়ী প্রতিবন্ধক অপসারণের কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৬২টি চায়না দুয়ারি (রিং) জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের মোট আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৮৭০ মিটার, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ১০টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৫০০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৭২টি নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণ করা হলে বিপুলসংখ্যক পোনা মাছ, ডিমওয়ালা মা মাছ এবং দেশীয় ছোট প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই সরকার এসব জালের উৎপাদন, বিক্রয়, পরিবহন, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা সব নিষিদ্ধ জাল স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত জেলে, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর প্রভাব, ইলেকট্রোফিশিংয়ের ভয়াবহতা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করা হয়। ভবিষ্যতে কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বা অবৈধভাবে মাছ শিকার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

কটিয়াদীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন,
“সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ জাল, ইলেকট্রোফিশিং ও অবৈধ বাঁধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ—দুই কার্যক্রমই সমান্তরালভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, করগাঁও হাওর ছাড়াও কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ মাছ শিকার এবং ইলেকট্রোফিশিং প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালিত হবে। জনস্বার্থে এবং দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

হোসেনপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের চরপুমদী গ্রামের কৃতী সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় চরপুমদী হাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

সকালে মরহুমের মরদেহ চরপুমদী হাজী জালাল উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পরে পুলিশের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় জাতীয় পতাকায় মরদেহ আচ্ছাদিত করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রের সালাম প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় ইমামের ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের মাধ্যমে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।

জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হোসেনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পুমদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মো. সিরাজুল ইসলাম ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার জন্য তার সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এলাকায় একজন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বাধীনতার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক আচরণের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

হোসেনপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন,
“মো. সিরাজুল ইসলাম ছিলেন একজন আদর্শ মুক্তিযোদ্ধা এবং জনবান্ধব সরকারি কর্মকর্তা। তার মৃত্যুতে হোসেনপুর একজন দেশপ্রেমিক, সৎ ও মানবিক মানুষকে হারাল। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন,
“একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মুক্তিযুদ্ধ ও কর্মজীবনে তার অবদান হোসেনপুরবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41