শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের অন্যতম সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আশ্রয়’-এর ২৫ বছর পূর্তি (রজতজয়ন্তী) উপলক্ষে বরেণ্যজন সম্মাননা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণ, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রোববার বিকেলে আচমিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘আশ্রয়’-এর সদস্য শহিদুজ্জামান শহিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু ও শফিকুর রহমান বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান চন্দন, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান, আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনটির ২৫ বছরের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রামাণ্য ও স্মৃতিচারণমূলক উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ‘আশ্রয়’-এর বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক, পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। উপস্থাপনায় সংগঠনের দীর্ঘ পথচলার নানা চ্যালেঞ্জ, সাফল্য এবং সমাজকল্যাণে অবদানের চিত্র উপস্থিত দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।

পরে এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কৃতী নাগরিক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সমাজসেবা, মানবকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবসেবার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আশ্রয়’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ প্রদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগকালে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের মতো অসংখ্য উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

বক্তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ‘আশ্রয়’-এর অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হলো পাখি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছে গাছে কলসি ও মাটির পাতিল বেঁধে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতিপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ‘আশ্রয়’ গত ২৫ বছর ধরে যে নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

দেশের সার্বিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। খাল খনন, নদী পুনরুদ্ধার, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রবীণ ব্যক্তিরা ‘আশ্রয়’-এর দীর্ঘ ২৫ বছরের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তারা ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা শেষে কিশোরগঞ্জ একতা নাট্যগোষ্ঠীর পরিবেশনায় গীতিনাট্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ মঞ্চস্থ হয়। নাটকটির প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা আনন্দঘন সময় উপভোগ করেন।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্থানীয়দের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন উপস্থিত অতিথিরা।

ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে সংঘর্ষ ও মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”

তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে ওসির প্রত্যাহারের খবরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভৈরবে সংঘর্ষ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার সংলগ্ন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি মালবাহী ট্রাক পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। পথে শ্রীরামদী এলাকায় পৌঁছালে তারা ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।