জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে বাজিতপুরে সাহিত্যপ্রেমীদের মিলনমেলা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর সাধারণ গ্রন্থাগারে ‘মানুষ নজরুল ও নজরুল মানস’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের চিরন্তন কবি নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজনদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
রবিবার(৩১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম মাস্টার। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নজরুল গবেষক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন।
আলোচনায় তিনি জাতীয় কবির জীবনসংগ্রাম, সাহিত্যকর্ম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্যবাদী দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নজরুল কেবল বিদ্রোহের কবি নন; তিনি ছিলেন মানবতার কবি, সাম্যের কবি এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মুক্তি ও মর্যাদার কণ্ঠস্বর। তাঁর সাহিত্য আজও অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রেরণা জোগায়।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মনোজ কান্তি রায়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, বাজিতপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ইন্দ্রজিৎ দাস, পাবনার সাঁথিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম শওকত আলী খান, হাফেজ আব্দুর রাজ্জাক পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান, নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক শিক্ষক ভূপেন্দ্র চন্দ্র দাস, বাজিতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক ফারুক আহমেদ, এমাদ উদ্দিন এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার মোবারক আজাদ।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সুধীজনদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ও সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস. এ. খান নোমান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য, চিন্তা ও মানবিক দর্শন তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাজিতপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক অঞ্জুমান আরা ক্যামি।
আলোচনা সভার শেষ পর্বে মানবিক চিকিৎসক ডা. এস. এ. খান নোমান জাতীয় কবির কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহী’ আবৃত্তি করেন। তাঁর আবেগঘন ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত শ্রোতাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করে এবং পুরো অনুষ্ঠানকে এক ভিন্ন মাত্রা দেয়।
বাজিতপুর সাধারণ গ্রন্থাগারের পাঠকবৃন্দের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. এস. এ. খান নোমান। সহযোগিতায় ছিলেন সাংবাদিক মো. ফারুক, ফুল ফারছু পাঠাগারের কো-অর্ডিনেটর এম. আর. রাজিব এবং সাব্বির।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রয়োজন। তাঁরা নজরুলের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমাজে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি বাজিতপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি প্রাণবন্ত, ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উপস্থিত অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘদিন পর এ ধরনের উচ্চমানের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। তাঁদের মতে, এমন আয়োজন স্থানীয় সংস্কৃতি চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।










