মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে মাঠে প্রশাসন, দেওয়া হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা
ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুন) দুপুরে শহরের কাচারিবাজার থেকে কালীবাড়ি মোড় হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এর আগে গত শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক রথখলা মাঠে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সোমবারের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে আবর্জনা অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশের দোকানিদের মাঝে বর্জ্য ফেলার জন্য বিন বিতরণ করা হয় এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
এ সময় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। কর্মকর্তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর জন্য জনসচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে মশার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তারা আরও জানান, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে জেলা প্রশাসনের এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে আরও বৃহৎ পরিসরে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।







