বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মহিনন্দের ভাস্করখিলা বিলে খাল খননের উদ্বোধন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মহিনন্দের ভাস্করখিলা বিলে খাল খননের উদ্বোধন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশাবাদ

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নর ভাস্করখিলা বিলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী। এতে ইউনিয়নের শতাধিক কৃষকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন। কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, খালের জলাবদ্ধতার কারণে তার প্রায় ২০০ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়েছে। খালটি খনন করা হলে বছরে অন্তত দুটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।

আরেকজন কৃষক জানান, শহরের ময়লা পানি জমিতে জমে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। খালটি খনন হলে পানি দ্রুত নদীতে প্রবাহিত হবে এবং কৃষিকাজ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এই খাল খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু মহিনন্দ ইউনিয়ন নয়, আশপাশের এলাকাবাসীও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সালাউদ্দিন বাচ্চু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. শহিদুল্লাহ কায়সারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল ভাস্করখিলা বিলের জলাবদ্ধতার কারণে ফসলহানির প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ খাল খনন কার্যক্রম শুরু হলো। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, খালটি খনন সম্পন্ন হলে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং হাজারো কৃষকের ফসল রক্ষা পাবে।

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মিছিলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহাব্বুর রহমান মাহাবুব, আবু বাক্কার সিদ্দিক বাক্কার, আবুল হাসিম সবুজ, ফরিদ আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া, রবিউল আলম রবিন, এ আই খান শিবলু, মোস্তাফিজ রহমান টুটুল, হোসেনপুর পৌর বিএনপি র সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
ভৈরবে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রি, তিন আড়তদারকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ কেজি জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভৈরবের পুলতাকান্দা এলাকার নৈশকালীন মৎস্য আড়তে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হকের নেতৃত্বে একটি দল পুলতাকান্দা নৈশকালীন মৎস্য আড়তে অভিযান চালায়।

অভিযানে ডলফিন মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ২৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রির দায়ে আড়ত মালিক ফরহাদ মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে অন্তর ফিস এন্টারপ্রাইজ থেকে জেলি মেশানো ৩৫ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক অন্তর বর্মণকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ত থেকে জেলি মেশানো ১০ কেজি চিংড়ি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আড়ত মালিক সেলিম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অভিযানে ভৈরব উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসেন, ভৈরব নৌপুলিশের উপপরিদর্শক মো. রহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক জানান, মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ কেজি ক্ষতিকর জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। এসব চিংড়ি বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান শেষে জব্দ করা চিংড়ি মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনোর পুরো সময়কালে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারির পরও অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও আরও বাড়তে পারে।

গবেষণার সহলেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাপের ঝুঁকি তার পরেও থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলেও তিনি জানান।

গ্রিনস্টোন বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব অঞ্চলে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ এবং দরিদ্র। তাঁর ভাষায়, কোনো অঞ্চল আগে থেকেই তপ্ত হলে সেখানে তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকায় এসব দেশের মানুষের তাপ মোকাবিলার সক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা গত তিন দশকের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুহারের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো সময়কালে সম্ভাব্য মৃত্যুহারের তুলনা করে অতিরিক্ত প্রাণহানির এই হিসাব করেছেন।

গবেষকদের মতে, এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধাক্কা যেতে পারে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক সাহেল অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকেও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ জন, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ জন এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জনের অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

এ ধরনের প্রাণহানি কমাতে গবেষণায় বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন, বিনা মূল্যে খাবার পানির বুথ চালু, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের ওপর বাড়তি নজরদারি।

গবেষকেরা আরও বলেছেন, তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরকারগুলো যাতে জরুরি অর্থ ছাড় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রস্তুত রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়; বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক বিষয়, আর সেসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাবে, চলতি এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় চরম গরমের দিন প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, চলতি এল নিনোর সময় যে মাত্রার তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় ২০ বছর পর পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রার চিত্র হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিকে তাঁরা ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি ‘আগাম বার্তা’ হিসেবেও দেখছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কোন কোন অঞ্চলে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষকদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট এই অতিরিক্ত তাপ আগামী দিনের জলবায়ু সংকটের সম্ভাব্য চিত্রও সামনে তুলে ধরছে।