বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ৪ লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনোর পুরো সময়কালে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব ফেব্রুয়ারির পরও অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর ফলে তাপজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও আরও বাড়তে পারে।

গবেষণার সহলেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তাপের ঝুঁকি তার পরেও থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলেও তিনি জানান।

গ্রিনস্টোন বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব অঞ্চলে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ এবং দরিদ্র। তাঁর ভাষায়, কোনো অঞ্চল আগে থেকেই তপ্ত হলে সেখানে তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকায় এসব দেশের মানুষের তাপ মোকাবিলার সক্ষমতাও তুলনামূলক বেশি।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা গত তিন দশকের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুহারের সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো সময়কালে সম্ভাব্য মৃত্যুহারের তুলনা করে অতিরিক্ত প্রাণহানির এই হিসাব করেছেন।

গবেষকদের মতে, এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধাক্কা যেতে পারে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক সাহেল অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে এল নিনোর কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকেও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ জন, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ জন এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জনের অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

এ ধরনের প্রাণহানি কমাতে গবেষণায় বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন, বিনা মূল্যে খাবার পানির বুথ চালু, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের ওপর বাড়তি নজরদারি।

গবেষকেরা আরও বলেছেন, তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরকারগুলো যাতে জরুরি অর্থ ছাড় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ প্রস্তুত রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন’ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়; বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক বিষয়, আর সেসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাবে, চলতি এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় চরম গরমের দিন প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকদের মতে, চলতি এল নিনোর সময় যে মাত্রার তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় ২০ বছর পর পৃথিবীর স্বাভাবিক তাপমাত্রার চিত্র হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে বর্তমান পরিস্থিতিকে তাঁরা ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি ‘আগাম বার্তা’ হিসেবেও দেখছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কোন কোন অঞ্চলে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষকদের মতে, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট এই অতিরিক্ত তাপ আগামী দিনের জলবায়ু সংকটের সম্ভাব্য চিত্রও সামনে তুলে ধরছে।

কুলিয়ারচরে নিজের ছেলের ফাঁসি চেয়ে মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিজের ছেলের ফাঁসি চেয়ে মায়ের আকুতি

‘আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। না হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।’- নিজের বড় ছেলে ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের রুবিনা বেগম। তাঁর অভিযোগ, মাদকের টাকার জন্য ছেলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও নির্যাতন করে আসছেন। সর্বশেষ বুধবার রাতে মা ও বোনকে মারধরের পর নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আগুনে ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে থাকা ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগিও পুড়ে মারা গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। তাঁদের ভাষ্য, পরনের কাপড় ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায়, হাবিব কাউন্সিলরের বাড়িসংলগ্ন আবু বক্করের বাড়িতে।

রুবিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলে প্রায় প্রতিদিন নেশা করে বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া ও মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে তাঁদের কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, ‘আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি দিতে না পারেন, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো আমার এই ছেলে আমার বাকি চার ছেলেকে মেরে ফেলবে, আমাদেরও মেরে ফেলবে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে বাড়ির সামনে এক দোকানদারের সঙ্গে ফুল মিয়ার মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে কেন দোকানদারকে মারধর করা হয়েছে, তা জানতে চাইলে ফুল মিয়া আমাকেও দা দিয়ে কোপাতে আসে। তখন আমি পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে স্থানীয়দের ডাকি।’

রুবিনার ভাষ্য, পরে স্থানীয়দের নিয়ে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, ঘরে আগুন জ্বলছে। ঘরের দরজাগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার আগে বাড়ির সামনে একটি দোকানে বাকি চান ফুল মিয়া। দোকানদার আবুল হোসেন (৬০) বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফুল মিয়া তাঁকে রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। আবুল হোসেন সম্পর্কে ফুল মিয়ার দাদা।

পরে দোকানদারকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে বাবা আবু বক্করের সঙ্গে ফুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মা ও বোনের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে বোনকে মারধরের পর ফুল মিয়া ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

আগুন লাগার পর স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়।

পরিবারের দাবি, আগুনে আসবাব, কাপড়চোপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি ঘরে থাকা ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে মারা গেছে। দরজা তালাবদ্ধ থাকায় হাঁস-মুরগিগুলো বের হতে পারেনি বলে জানান তাঁরা।

ফুল মিয়ার ছোট ভাই দিপু বলেন, ‘আমরা চার ভাই বাড়িতে থাকি না, ঢাকায় কাজ করি। বড় ভাই প্রতিদিন মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে নির্যাতন করে। গত রাতে সে আমাদের একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

ফুল মিয়ার বাবা আবু বক্কর বলেন, ‘নিজের ছেলে আমাদের এভাবে শেষ করে দেবে, কখনো ভাবিনি। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই আমাদের সঙ্গে ঝগড়া ও মারধর করে। গত রাতের ঘটনায় ঘরবাড়ি, কাপড়চোপড়, আসবাব সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি বাবা হয়ে তার শাস্তি চাইতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ফুল মিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁকে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং তিনি কাজ করেন না বলে বকাঝকা করেন।

ঘরে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘরে তাঁরও অংশ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বকাঝকা করায় তিনি এমন করেছেন বলে জানান।

কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অভিযুক্ত ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদকের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট, তরুণকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
মাদকের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট, তরুণকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করার পর কিশোরগঞ্জের এক তরুণকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে মারধর এবং মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া ওই ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল এলাকার বাসিন্দা শাহীন (২২) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি অভিযোগটি দেন। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হাজিরগল এলাকার সুলতানের ছেলে আহাম্মদ (৩৫), বিপ্লবের ছেলে রোমন (২০), জয়নাল (৪১), আব্দুল বারিকের ছেলে সাইদুল (৩৫) এবং জয়নালের ছেলে শফিকুল (১৯)।

শাহীন অভিযোগে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করেন। প্রায়ই তাঁর বাড়ির সামনে মাদক বিক্রি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির সামনে আহাম্মদকে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহীন।

পরে মাদক বিক্রির দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন শাহীন। অভিযোগে তিনি বলেন, ওই ভিডিও ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। ভিডিওটি মুছে না ফেললে তাঁকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

শাহীন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আহাম্মদ ও রোমন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে রাউতের বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। পরে তাঁরা লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ওই ফোন থেকে ফেসবুকে পোস্ট করা মাদক বিক্রির ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাদক বিক্রিতে বাধা না দিতে এবং এ বিষয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহীন।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কারও কাছে অভিযোগ করলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পান বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৭ অপরাহ্ণ
দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে হোসেনপুরে বিএনপির মিছিল

নিষিদ্ধ সংগঠনের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা দেশবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

মিছিলে হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মাহাব্বুর রহমান মাহাবুব, আবু বাক্কার সিদ্দিক বাক্কার, আবুল হাসিম সবুজ, ফরিদ আহম্মেদ, সাদ্দাম হোসেন চাঁন মিয়া, রবিউল আলম রবিন, এ আই খান শিবলু, মোস্তাফিজ রহমান টুটুল, হোসেনপুর পৌর বিএনপি র সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক, সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির এ ধরনের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।