বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রচণ্ড তাপে বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ, বলছে অক্সফোর্ডের গবেষণা

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রচণ্ড তাপে বিপর্যয়ের পথে বাংলাদেশ, বলছে অক্সফোর্ডের গবেষণা

উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি দেশের তালিকায় স্থান পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো—ভারত, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি সোমবার নেচার সাসটেইনেবিলিটি জার্নালে প্রকাশিত হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তাপপ্রবাহের সংকট দ্রুত তীব্র রূপ ধারণ করছে, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।

জীবাশ্ম জ্বালানির বর্তমান ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আগামী ২৫ বছরের মধ্যে প্রচণ্ড তাপের মধ্যে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষকরা জানান, শিল্প-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশ্বের প্রায় ৪১ শতাংশ মানুষ—অর্থাৎ প্রায় ৩৭৯ কোটি মানুষ—চরম তাপের মধ্যে বসবাস করবে। তুলনামূলকভাবে, ২০১০ সালে এ হার ছিল ২৩ শতাংশ বা প্রায় ১৫৪ কোটি।

গবেষণায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন জলবায়ু ও জনসংখ্যাভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কুলিং ডিগ্রি ডেজ’ (সিডিডি) সূচকের মাধ্যমে। এই সূচক নির্দেশ করে, মানুষের জন্য নিরাপদ ঘরোয়া তাপমাত্রা বজায় রাখতে বছরে কতটা শীতলীকরণ প্রয়োজন। বছরে ৩ হাজারের বেশি সিডিডি থাকা অঞ্চলগুলোকে ‘চরম তাপপ্রবণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জেসুস লিজানা বলেন, বাংলাদেশের গড় জাতীয় তাপমাত্রা প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল করতে পারে। তার মতে, দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছে, যেখানে বছরে শীতলীকরণের চাহিদা ৩ হাজার সিডিডির বেশি। এর অর্থ দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক তাপের মধ্যে জীবনযাপন, যা মানুষের জীবিকা, উৎপাদনশীলতা ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। আগে আলোচনার মূল কেন্দ্র ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা। তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ঝুঁকির পাশাপাশি প্রবল তাপও সমানভাবে প্রাণঘাতী হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোক, হৃদরোগজনিত চাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষের ঝুঁকি বেশি, যাদের শীতলীকরণ সুবিধা সীমিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, উষ্ণ ও উপউষ্ণ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে শীতলীকরণের চাহিদা সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে। বিপরীতে, বৈশ্বিক উত্তরের ধনী দেশগুলোতে শীত নরম হওয়ায় ঘর গরম রাখার প্রয়োজন কমে আসবে।

ব্যক্তিপ্রতি সিডিডি সবচেয়ে বেশি বাড়বে যেসব দেশে, সেগুলো হলো—সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, লাওস ও ব্রাজিল। অন্যদিকে কানাডা, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও নরওয়েতে শীতের তীব্রতা কমায় গরমের চাহিদা কমে যাবে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, চরম তাপপ্রবণ দেশগুলোতে এয়ার কন্ডিশনের ব্যবহার বাড়লে একটি ‘কুলিং ট্র্যাপ’ তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার বাড়বে এবং যদি তা জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর হয়, তবে কার্বন নিঃসরণ আরও বৃদ্ধি পাবে—যা জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করবে।

গবেষণায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারলে প্রাণঘাতী তাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিজ্ঞানীদের মতে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এখনই কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং শহর ও আবাসন নকশায় তাপ সহনশীল ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তা না হলে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে তাপপ্রবাহ বড় মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের তাপপ্রবাহ আরও বাড়বে এবং দেশের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় সারা বছরই তীব্র গরম বিরাজ করতে পারে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ না কমালে ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২১০০ সালের মধ্যে এই বৃদ্ধি ১.৫ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে মার্চ-মে সময়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ঘটবে।

তিনি জানান, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বর্ষার আগে প্রায় ২০ দিন তাপপ্রবাহ থাকতে পারে। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও তাপপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২১০০ সালের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বর্ষা শুরুর আগের ৯০ দিনের মধ্যে প্রায় ৭০ দিন তাপপ্রবাহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় বছরে অন্তত দুইবার প্রবল তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে—একবার বর্ষার আগে, আরেকবার বর্ষার পরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি ক্রমেই বাড়ছে এবং পৃথিবীর উষ্ণায়ন এখন স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর। এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবর ইতোমধ্যে বৈশ্বিক ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ অক্টোবর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তীব্র তাপ স্বাস্থ্য, কৃষি ও নিরাপদ পানির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

ভুলে গেল মেসিকে  ‘অকৃতজ্ঞ’ বার্সা! বিদায়লগ্নে কমেন্ট ডিলিট করে চরম বেইমানির নজির কাতালানদের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
ভুলে গেল মেসিকে  ‘অকৃতজ্ঞ’ বার্সা! বিদায়লগ্নে কমেন্ট ডিলিট করে চরম বেইমানির নজির কাতালানদের

৩১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে রেকর্ড ১২৫টি গোল করা এই কিংবদন্তির ঐতিহাসিক বিদায়ের পর যখন পুরো বিশ্ব তাকে শ্রদ্ধায় ভাসাচ্ছে, তখন তার সাবেক ক্লাব এফসি বার্সেলোনা দেখাল চরম উদাসীনতা ও অকৃতজ্ঞতা।মেসির অবসরের পোস্টে বার্সার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে করা একটি মন্তব্য কিছুক্ষণ পরেই রহস্যজনকভাবে ডিলিট করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি ক্লাবের বর্তমান কোচ কিংবা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি বা ট্রিব্যুট দেওয়া হয়নি। চিরদিনের জন্য ক্লাবের চেহারাই বদলে দেওয়া এই মহাতারকার বিদায়লগ্নে বার্সার এমন আচরণে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ফুটবল ভক্তরা।নিচে বার্সেলোনার ইতিহাসে মেসির অনন্য প্রভাব ও তিন যুগের অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হলো:মেসি-পূর্ব যুগ (১৮৯৯–২০০৪): লিওনেল মেসির অভিষেকের আগে দীর্ঘ ১০৫ বছরের ইতিহাসে বার্সেলোনা ইউরোপের শীর্ষ পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে ক্লাবটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পেরেছিল মাত্র ১টি (১৯৯২ সালে)। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ট্রফি, সাফল্য ও বৈশ্বিক জনপ্রিয়তায় তারা অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।মেসি-যুগ (২০০৪–২০২১): মেসি আসার পর বার্সেলোনার ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায়। বার্সার জার্সিতে তিনি রেকর্ড ৭৭৮টি ম্যাচ খেলে ৬৭২টি গোল ও ৩০৩টি অ্যাসিস্ট করার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন। এই সোনালী যুগে তিনি ক্লাবটিকে এনে দেন ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ১০টি লা লিগাসহ মোট ৩৫টি অফিশিয়াল ট্রফি। বার্সেলোনা পরিণত হয় বিশ্বের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় ক্লাবে।মেসি-পরবর্তী যুগ (২০২১–২০২৬): ২০২১ সালে মেসির বিদায়ের পর বার্সেলোনা তাদের সেই চেনা ছন্দ ও আধিপত্য হারায়। মেসির প্রস্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউরোপের মঞ্চে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে পারেনি; উল্টো একাধিকবার গ্রুপ পর্ব ও ইউরোপা লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার লজ্জা পেয়েছে। ঘরোয়া ফুটবলে মাত্র দুইটি লা লিগা ও একটি স্প্যানিশ সুপার কাপের বাইরে তাদের ঝুলি শূন্য।

হোসেনপুরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

‘খেলবো মোরা গড়বো দেশ, বিশ্বজয়ে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোসেনপুর মিনি স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতি, হোসেনপুর উপজেলা শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের এই তরুণরাই আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এবং বিজয়ী সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে হোসেনপুর উপজেলার ক্রীড়া উন্নয়নে ভবিষ্যতেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ইউএনও আরও বলেন, “গ্রীষ্মকালীন এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। কাবাডি, ফুটবলসহ বিভিন্ন ইভেন্টে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আশান্বিত করেছে।”

অনুষ্ঠানে হোসেনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, হোসেনপুর মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজুর রহমান খান, পিতলগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ সরকারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ক্রীড়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, মেডেল ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও দলগুলোর মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রতিযোগিতার ফুটবল ও কাবাডি ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলগুলো পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় হোসেনপুর উপজেলার প্রতিনিধিত্ব করবে।

ব্রিকস আউটরিচে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এখনো অনিশ্চিত দিল্লি সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
ব্রিকস আউটরিচে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এখনো অনিশ্চিত দিল্লি সফর

ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ভারত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর বা ব্রিকস আউটরিচ সেশনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে জানানোর মতো নতুন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। সম্মেলনের অংশ হিসেবে আমন্ত্রিত অ-ব্রিকস দেশ ও আঞ্চলিক জোটের নেতাদের নিয়ে একটি আউটরিচ সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বের সূত্রে আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এ আমন্ত্রণকে ব্রিকসের প্রচলিত রীতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।

এর আগে গত ৪ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট জয়সওয়াল আরও জানিয়েছিলেন, ব্রিকস আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে ভারত তা জানাবে। তবে ৮ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ ব্রিফিংয়েও এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দিতে পারেনি নয়াদিল্লি।

এদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর বা ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ সরকার পর্যালোচনা করছে।

ফলে সম্মেলন শুরুর মাত্র চার দিন আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।