শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

গফরগাঁওয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গফরগাঁওয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ

ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণ, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ আফলিয়া খাতুন ৯ জনকে বিবাদী করে গফরগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে গফরগাঁও থানাধীন চরআলগী এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। একমাত্র ছেলে রাজুল মিয়া (১৯) স্থানীয় একটি মিল কারখানায় কাজ করেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সুযোগে বিবাদীরা বিভিন্ন সময় ওই গৃহবধূকে কুপ্রস্তাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ভুক্তভোগী নিজ ঘরের উঠানে বসে থাকা অবস্থায় বিবাদীরা অনধিকার প্রবেশ করে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় আরিফ শরীফ ও রাজিব নামে দুই বিবাদী তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্য বিবাদীরা মোবাইল ফোনে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরে বিবাদীরা ভুক্তভোগীর ছেলে রাজুলকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এ সময় হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরের বাক্সে রাখা নগদ ৫০ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের সোনার চেইন ও কানের দুলসহ আনুমানিক ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার এবং ঘরে থাকা অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া এ ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে একই পরিবারের দুই সদস্য—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া—ভাষণ দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে পরিবারটির চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয় গুরুত্ব পায়।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার এবং ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিষয় উঠে আসে।

এরপর ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিলেন তাঁদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একই পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণের ধারাবাহিকতা তৈরি হলো।

ভাষণের শুরুতেই পারিবারিক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে তাঁর পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে তিনিও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, তিনি সম্পূর্ণ ভাষণ বাংলায় দেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার মাতৃভাষায় তুলে ধরেন তিনি।

ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পায়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের কাছেও পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরিবারের এই ধারাবাহিকতা ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে অব্যাহত ছিল। ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের এই ভাষণ একই পরিবারের তৃতীয় সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। সম্পূর্ণ বাংলায় তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণও এ ঘটনাটিকে আলাদা তাৎপর্য দিয়েছে।

সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

সাবেক ও বর্তমান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরি ও সামাজিকতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামীম।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টটি দেওয়ার পর প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় এতে ১৩ হাজার ৫০০ জন লাইক, ২ হাজার ৬০০টি কমেন্ট এবং ১৮৬টি শেয়ার হয়েছে বলে পোস্টের দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যায়।

পোস্টে শেখ তানভীর বারী হামীম লেখেন, ‘সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কোনো চাকরি হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের সমাজ হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ, ওরা এ দেশের শত্রু।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আনাসের রক্ত, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত।’ তবে পোস্টে তিনি কোন আনাসকে বোঝাচ্ছেন, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।

তানভীর বারী হামীমের ভাষ্য, ‘বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রতি একমাত্র প্রেম থাকবে যারা বিকৃত মনস্তাত্ত্বিকতার অধিকারী তাদের। তবে কোনো দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষ যেন হেনস্তা না হয়।’

পোস্টে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছাত্রশক্তি ও সাবেক ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলবো—দেশপ্রেমিকতার পরিচয় দিন, জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।’

অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘অতীতে, ৭১-এ মাফ পেয়েছেন; জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের অংশ হয়ে দুর্নীতি করেও মাফ পেয়েছেন। এবার কিন্তু আর মাফ হবে না।’

ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে পাকুন্দিয়ায় যুবক দণ্ডিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে পাকুন্দিয়ায় যুবক দণ্ডিত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের দায়ে মোশারফ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার সকালে উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের আগরপাট্টা এলাকা থেকে মোশারফকে আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন আগরপাট্টা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, বুধবার ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের পাশাপাশি রিপন নামে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে মোশারফের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসাইন রকি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করেন।

পরে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোশারফকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।