মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের এক কৃষকসহ ৬ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১২, সুনামগঞ্জে ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের এক কৃষকসহ ৬ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১২, সুনামগঞ্জে ৫

দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে এক দিনে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক কৃষকও রয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে—জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে, আর নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ধান কাটতে হাওরে যান হলুদ মিয়া। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—নূর জামাল (২৫), হবিবুর রহমান (২২), রহমত উল্লাহ (১৪), লিটন মিয়া (৩৩) এবং আবুল কালাম (২৮)।
তারা কেউ ধান কাটতে গিয়ে, কেউ বাড়িতে কাজ করার সময় এবং কেউ হাঁসের খামারে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) ও মমতাজ আলী খান (৫৮)। পৃথক ঘটনায় তারা বজ্রপাতে আহত হয়ে মারা যান।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৬) ও আবু তালেব (৫৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নিহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে কিংবা খোলা স্থানে অবস্থানকালে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তুচ্ছ টাকার বিরোধে বাজিতপুরে প্রাণ গেল অটোরিক্সা চালকের

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
তুচ্ছ টাকার বিরোধে বাজিতপুরে প্রাণ গেল অটোরিক্সা চালকের

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় মাত্র ৫–১০ টাকার পারিশ্রমিককে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলায় বিপ্লব (২৮) নামে এক অটোরিক্সা চালক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৈলাগ ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে বিপ্লব নিজ উদ্যোগে একটি চলাচলের অযোগ্য রাস্তা মাটি ও বালু ফেলে মেরামত করেন। পরে তিনি ওই রাস্তা ব্যবহারকারী অটোরিক্সা চালকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক দাবি করছিলেন।

এ নিয়ে একই এলাকার এক চালকের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পারিবারিক অভিযোগ অনুযায়ী, এর জেরে প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে কৈলাগ ইউনিয়নের রাহেলা গ্রামের কয়েকজন যুবক বিপ্লবকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবারের দাবি, বিকেলের দিকে তিনি অটোরিক্সা নিয়ে বের হলে নিখোঁজ হন। পরে সন্ধ্যায় বাংলাবাজার এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে একা পেয়ে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত বিপ্লব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। চার বছর বয়সী কন্যা ও দুধের শিশুসহ পরিবারটি এখন অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শহিদুল্লাহ বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সামান্য টাকার বিরোধে এমন হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভৈরবে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা ৩ জন

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা ৩ জন

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরির সময় জনতার হাতে ধরা পড়া তিনজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ট্রান্সফর্মারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকার সরকার বাড়ি সংলগ্ন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ট্রান্সফর্মার চুরির সময় স্থানীয়রা এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-শিবপুর ইউনিয়নের সরকার বাড়ি এলাকার নীল মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়া (৩৫), পৌর শহরের কালীপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার এলেম উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান (৩০) এবং ভৈরবপুর উত্তর পাড়া এলাকার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে অলিউল্লাহ বাবু (৩৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আবাসিক প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ভোজ্য তেল বিক্রিতে অনিয়ম: ভৈরবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
ভোজ্য তেল বিক্রিতে অনিয়ম: ভৈরবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অর্থদন্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভোজ্য তেল ক্রয়-বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ভৈরব বাজারের বিভিন্ন দোকান ও ডিলারদের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে এ অর্থদণ্ড দেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম আজিমুল হক।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভোজ্য তেল মজুতের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তেল সংরক্ষণকারী ডিলারদের গুদামে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সড়ক দখল করে তেল বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয়ের রেজিস্টারে গড়মিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ সময় মেসার্স হাজী হিরা মিয়া স্টোরের মালিক শাহনুর হোসেনকে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সুলতান স্টোরের মালিক সুলতান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান চলাকালে ভৈরব শহর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বায়েজিদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সুষ্ঠু সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।