বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মোবাইল ব্যবহারে দেশের ‘নম্বর ওয়ান’ কিশোরগঞ্জ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মোবাইল ব্যবহারে দেশের ‘নম্বর ওয়ান’ কিশোরগঞ্জ

দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ। জেলাটিতে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপরীতে সর্বনিম্ন ব্যবহারকারী পাওয়া গেছে নড়াইল জেলায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ ২০২৪–২৫’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এ জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। ব্যক্তিপর্যায়ে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে।

স্মার্টফোন ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, শেরপুর, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রামপঞ্চগড়

পরিবারভিত্তিক ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা, আর সর্বনিম্ন পঞ্চগড়

ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ। শহরে এই হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ—যা বড় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।

কম্পিউটার ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা এবং সর্বনিম্ন অবস্থানে ঠাকুরগাঁও। সার্বিকভাবে দেশে মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন।

জরিপে দেখা গেছে, দেশে ইন্টারনেট সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সরকারি চাকরির তথ্য খোঁজার জন্য—প্রায় ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য (প্রায় ৫০ শতাংশ)। অন্যদিকে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাকাটায় অংশ নেন মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।

ডিজিটাল দক্ষতায় ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কপি-পেস্ট করতে পারেন, যা সর্বাধিক প্রচলিত দক্ষতা। অপরদিকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সচেতনতা দেখালেও ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উচ্চমূল্যের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এখনও ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে দূরে রয়েছেন, যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, মোবাইল ব্যবহারে কিশোরগঞ্জ দেশের শীর্ষে অবস্থান করলেও অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অঞ্চলভেদে বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। বিশেষ করে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারে শহর-গ্রাম এবং জেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান এখনও রয়ে গেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যক্ষ ভোটে ৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট।

মঙ্গলবার (২ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসল বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি।

নির্বাচনে জয়লাভের পর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশি কূটনীতিক, কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ফলাফল ঘোষণার পর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হন ড. খলিলুর রহমান।

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিল। সেই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের জন্য এ অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। চার দশক পর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল আন্তর্জাতিক ফোরামের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়াকে দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশ্নে আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব তিনি এক বছরের জন্য পালন করবেন।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এ বিজয় শুধু একজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা, সক্রিয় কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

বাংলাদেশের এই বিজয়কে জাতিসংঘের ইতিহাসে দেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নিকলীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

তামিম আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
নিকলীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের করচবন ও বেড়িবাঁধ এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. বদরুল মোমেন মিঠু। সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ছাতিরচরের মতো হাওরবেষ্টিত এলাকায় করচবন ও বেড়িবাঁধ শুধু স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ সচেতন নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ছাতিরচর করচবন ও বেড়িবাঁধ এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ রোপণ করেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি শুধু তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সংকট লাঘবের লক্ষ্যে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৮৮২ জন কৃষক সহায়তা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে এ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় সিদলা ইউনিয়নের ৫৩১ জন এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩৫১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের টানা ও অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কিংবা জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সরকার এই বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান এবং সিদলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, পুমদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসসির হায়দার আলমগীর, গোবিন্দপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব হাসান, সিদলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও তারিকুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। আজ সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝেও এ ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন সরকারি সহায়তা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। সিদলা ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “টানা বৃষ্টিতে আমার জমির ধান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সরকারের দেওয়া এই ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এতে কিছুটা হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।”

অন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, ফসলহানির কারণে অনেক কৃষক ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমির ফসল আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি শুধু তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ লাঘবই নয়, বরং কৃষকদের নতুন করে উৎপাদন কার্যক্রমে উৎসাহ জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।