রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩

সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (SSNIMCH) প্রায় ১২ কোটি টাকার একটি টেন্ডারে (টেন্ডার আইডি: ১২৫৭৯১-১২৫৭৯০১, আইএফটি নং: SSNIMCH/Kishore/e-Tender/2025-2026/550,তারিখ:১৩/০৪/২০২৬) ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ ও স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার মেডিকেল ডিভাইস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বায়োকেয়ার’-এর পক্ষ থেকে দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেন্ডার ডকুমেন্টের ‘অ্যাডিশনাল টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ অংশে এমন একগুচ্ছ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮/২০২৫-এর মৌলিক নীতিমালা- স্বচ্ছতা, সমতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতের একই ধরনের শর্তাবলি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বারবার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্যাটার্ন বিদ্যমান।

টেন্ডার ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট (STD)-এর বাইরে গিয়ে একাধিক অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চিহ্নিত প্রধান শর্তগুলো হলো:
(১) চেম্বার অব কমার্স সনদ (জামানত রসিদসহ) বাধ্যতামূলক করা, যা পিপিআর/এসটিডিতে নির্ধারিত নয় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে দরদাতাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। (২) টেন্ডার জমার আগে সব আইটেমের নমুনা (স্যাম্পল) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, যা সরবরাহকারীদের ওপর অযৌক্তিক লজিস্টিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবজেক্টিভ মূল্যায়নের মাধ্যমে ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণার ঝুঁকি তৈরি করে। (৩) ডিভিসি নম্বর ও ই-জিপি যাচাইকৃত নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অডিট রিপোর্ট চাওয়া, যা পিপিআর/এসটিডি-তে নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দরদাতাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। (৪) নির্দিষ্ট তারিখের (০১/০৪/২০২৬-এর পরে স্বাক্ষরিত) একাধিক নোটারাইজড অ্যাফিডেভিট বাধ্যতামূলক করা, যা এসটিডি-তে নির্ধারিত ন্যূনতম ডকুমেন্টেশনের বাইরে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে। (৫) কারণ দর্শানো ছাড়াই টেন্ডার বাতিল ও সর্বনিম্ন দর গ্রহণে বাধ্য না থাকার ক্ষমতা, যা পিপিএ-পিপিআর-এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। (৬) প্রত্যাখ্যাত দরপত্রের বিষয়ে কোনো আপত্তি বা জিজ্ঞাসা নিষিদ্ধকরণ, অথচ পিপিআর অনুযায়ী দরদাতার অভিযোগ ও আপিলের আইনগত অধিকার রয়েছে। (৭) নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের শর্ত, যা পিপিআর-এর যথাযথ নোটিশ, শুনানি ও প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধানের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ১১ এবং পিপিআর ২০০৮/২০২৫-এর ৯৮, ১২৭-১৩০ নম্বর বিধান অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এসটিডি-এর বাইরে অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ করলে তা ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (NINS) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (NICVD)-এর টেন্ডারে সাধারণত এসটিডি-অনুযায়ী সীমিত ও যুক্তিসঙ্গত শর্ত রাখা হয়, যা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতেও একই ধরনের শর্ত প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ দেওয়া হয়েছে। ভিন্ন একটি হাসপাতালের তুলনামূলক বিবরণী (সিএস) এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ২০২০ সালের একটি কার্যাদেশের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএস-তে উল্লিখিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা একই। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সিএস-এ অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই ব্যক্তির, যা ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ২০২১ সালে মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল গায়েবের মামলায় সিআইডি কর্তৃক গ্রেপ্তার হন, যার সংবাদ ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। বর্তমান টেন্ডারেও ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘অস্বাভাবিক তৎপরতা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পরও হাসপাতালটির ক্রয় প্রক্রিয়ায় ‘পুরনো কালো ছায়া’ মুক্ত হয়নি বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগ গ্রহণ ও এ সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বেশ অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২৯ এপ্রিল হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে ‘বায়োকেয়ার’ নামক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। টেন্ডারে সব নিয়মকানুন মেনেই শর্ত দেওয়া হয়েছে। কোনো বিতর্কিত শর্ত থাকার প্রশ্নই নেই।”

অথচ, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তার স্বাক্ষরে ২২/০৪/২০২৬ তারিখে বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খানের অভিযোগপত্র গ্রহণের প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তা ফোনে বলেন, “রিসিভ করে আমি পত্রিকার বিল মনে করে আমার কলিগের কাছে দিয়েছিলাম। ওইদিন কলিগ উপস্থিত না থাকায় আমি গ্রহণ করে রেখে দিই।” তার সহকর্মী বলেন, “এটা (টেন্ডারের অভিযোগ) নিয়ে আমি প্রতিদিন খুঁজি, কে দিলো, কেন দিলো? আগামীকাল স্যারের কাছে জমা দেব। আমি তো এটা ড্রয়ারে দেখে পত্রিকার বিল মনে করেছিলাম।”

গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের এমন বেখেয়ালি মন্তব্য রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অফিসিয়াল প্যাডে স্পষ্ট বিষয়, প্রেরকের নাম, ফোন ও ইমেইল থাকার পরও ‘পত্রিকার বিল’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৩০ এপ্রিল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম পুনরায় ফোনে বলেন, “আমাদের টেন্ডার হয় অনলাইনে, অভিযোগও করতে হবে অনলাইনে। হার্ডকপির কোনো সুযোগ নেই। দুজন অভিযোগ করেছে, দুজনের উত্তর দেওয়া হয়েছে।” তবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হার্ডকপি গ্রহণের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার আওতাধীন নয়।

বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খান বলেন, “২০১৯ সাল থেকে আমি কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নিচ্ছি। কিন্তু এখানে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। একই ধরনের শর্ত অন্য প্রতিষ্ঠানেও দেখেছি। প্রতিযোগিতায় একই ঠিকানার তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর ইঙ্গিত মেলে। এসব শর্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতেই আরোপ করা হয়েছে।”

তিনি বিতর্কিত শর্তগুলো অবিলম্বে বাতিল বা সংশোধন করে পিপিএ-পিপিআর অনুযায়ী টেন্ডার পুনঃপ্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (CPTU), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি উত্থাপনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পিপিএ-পিপিআর ও এসটিডি-এর বিধান কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা এবং কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যেখানে অতীতে একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রমাণ এবং হার্ডকপি গ্রহণে ‘পত্রিকার বিল’-এর মতো অস্বাভাবিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (সিপিটিইউ), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরসন কঠিন হবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নাগরিক অধিকারেরও দাবি।

‘বড় বড় কথা বলে যারা, বিগত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখিনি’: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
‘বড় বড় কথা বলে যারা, বিগত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখিনি’: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দল রাজপথে ছিল, তাদের নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। অথচ বর্তমানে যারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলছেন এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, তাদের গত ১৭ বছরে রাজপথে দেখা যায়নি।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে তারা কী করবে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, তা মানুষ দেখেছে। একইভাবে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালেও তাদের ভূমিকা দেখা গেছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলনেও তাদের রাজপথে দেখা যায়নি।

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনে তাদের রাজপথে দেখেছেন আপনারা?’

তারেক রহমান বলেন, এখন অনেকে ‘সংস্কার, সংস্কার’ বলে কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের কথা বলেছিল। তখন সংস্কার নিয়ে তারা কোথায় ছিলেন—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সবচেয়ে আগে সংস্কারের প্রস্তাবনা বিএনপি তথা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এখন দেশকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেউ অতীতের মতো জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘তোমাদের অতীত আমরা দেখেছি, আমরা জানি তোমরা অতীতে কী করেছ। কাজেই তোমাদের কথায় আমরা কান দেব না।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড এসব উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করেন। পরে কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন।

কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে বৃষ্টির মধ্যে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।

স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মৎস্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মৎস্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেন প্রধানমন্ত্রী।

মৎস্য উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তাদের এ পদক দেওয়া হয়। পরে পদকপ্রাপ্তদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।

মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ এবং কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।

দিনব্যাপী কিশোরগঞ্জ সফর শেষে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে আদালতের ভূমিকাই মুখ্য: ভারতীয় কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে আদালতের ভূমিকাই মুখ্য: ভারতীয় কর্মকর্তা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে না; বরং ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনের অধীনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা প্রত্যর্পণ আবেদনের বিচারিক পর্যালোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক নথিপত্র ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, আবেদনটি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ সাধারণত প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে থাকলেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

ফলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলোর প্রকৃতি এবং সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না—প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের Extradition Act, 1962 অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো প্রত্যর্পণ আবেদন গ্রহণের পর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।

ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করা হতে পারে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে করা প্রত্যর্পণ আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথও খোঁজা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক আলোচনার দুটি ধারাই পাশাপাশি এগোতে পারে। শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট আইন এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমও প্রত্যর্পণ ইস্যুটিকে নতুন করে গুরুত্ব দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক তাগিদ আরও জোরালো হয়েছে। তবে তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা দেশটির আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক বিবেচনার সমন্বিত ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41