বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’র অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (SSNIMCH) প্রায় ১২ কোটি টাকার একটি টেন্ডারে (টেন্ডার আইডি: ১২৫৭৯১-১২৫৭৯০১, আইএফটি নং: SSNIMCH/Kishore/e-Tender/2025-2026/550,তারিখ:১৩/০৪/২০২৬) ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ ও স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার মেডিকেল ডিভাইস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বায়োকেয়ার’-এর পক্ষ থেকে দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, টেন্ডার ডকুমেন্টের ‘অ্যাডিশনাল টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ অংশে এমন একগুচ্ছ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৮/২০২৫-এর মৌলিক নীতিমালা- স্বচ্ছতা, সমতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অতীতের একই ধরনের শর্তাবলি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বারবার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্যাটার্ন বিদ্যমান।

টেন্ডার ডকুমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট (STD)-এর বাইরে গিয়ে একাধিক অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চিহ্নিত প্রধান শর্তগুলো হলো:
(১) চেম্বার অব কমার্স সনদ (জামানত রসিদসহ) বাধ্যতামূলক করা, যা পিপিআর/এসটিডিতে নির্ধারিত নয় এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে দরদাতাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। (২) টেন্ডার জমার আগে সব আইটেমের নমুনা (স্যাম্পল) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা, যা সরবরাহকারীদের ওপর অযৌক্তিক লজিস্টিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবজেক্টিভ মূল্যায়নের মাধ্যমে ‘নন-রেসপন্সিভ’ ঘোষণার ঝুঁকি তৈরি করে। (৩) ডিভিসি নম্বর ও ই-জিপি যাচাইকৃত নির্দিষ্ট ফরম্যাটের অডিট রিপোর্ট চাওয়া, যা পিপিআর/এসটিডি-তে নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দরদাতাদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। (৪) নির্দিষ্ট তারিখের (০১/০৪/২০২৬-এর পরে স্বাক্ষরিত) একাধিক নোটারাইজড অ্যাফিডেভিট বাধ্যতামূলক করা, যা এসটিডি-তে নির্ধারিত ন্যূনতম ডকুমেন্টেশনের বাইরে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করে। (৫) কারণ দর্শানো ছাড়াই টেন্ডার বাতিল ও সর্বনিম্ন দর গ্রহণে বাধ্য না থাকার ক্ষমতা, যা পিপিএ-পিপিআর-এর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। (৬) প্রত্যাখ্যাত দরপত্রের বিষয়ে কোনো আপত্তি বা জিজ্ঞাসা নিষিদ্ধকরণ, অথচ পিপিআর অনুযায়ী দরদাতার অভিযোগ ও আপিলের আইনগত অধিকার রয়েছে। (৭) নোটিশ বা শুনানি ছাড়াই ব্ল্যাকলিস্টিংয়ের শর্ত, যা পিপিআর-এর যথাযথ নোটিশ, শুনানি ও প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধানের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিপিএ ২০০৬-এর ধারা ১১ এবং পিপিআর ২০০৮/২০২৫-এর ৯৮, ১২৭-১৩০ নম্বর বিধান অনুযায়ী সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এসটিডি-এর বাইরে অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ করলে তা ‘নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (NINS) ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (NICVD)-এর টেন্ডারে সাধারণত এসটিডি-অনুযায়ী সীমিত ও যুক্তিসঙ্গত শর্ত রাখা হয়, যা এখানে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতেও একই ধরনের শর্ত প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ দেওয়া হয়েছে। ভিন্ন একটি হাসপাতালের তুলনামূলক বিবরণী (সিএস) এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের ২০২০ সালের একটি কার্যাদেশের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএস-তে উল্লিখিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা একই। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সিএস-এ অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একই ব্যক্তির, যা ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। আরও উল্লেখ করেন, ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ২০২১ সালে মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল গায়েবের মামলায় সিআইডি কর্তৃক গ্রেপ্তার হন, যার সংবাদ ১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। বর্তমান টেন্ডারেও ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ নিশ্চিত করতে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর ‘অস্বাভাবিক তৎপরতা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পরও হাসপাতালটির ক্রয় প্রক্রিয়ায় ‘পুরনো কালো ছায়া’ মুক্ত হয়নি বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযোগ গ্রহণ ও এ সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বেশ অসামঞ্জস্য রয়েছে। ২৯ এপ্রিল হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, “২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের মধ্যে ‘বায়োকেয়ার’ নামক কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। টেন্ডারে সব নিয়মকানুন মেনেই শর্ত দেওয়া হয়েছে। কোনো বিতর্কিত শর্ত থাকার প্রশ্নই নেই।”

অথচ, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তার স্বাক্ষরে ২২/০৪/২০২৬ তারিখে বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খানের অভিযোগপত্র গ্রহণের প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক মাহফুজা আক্তার রিক্তা ফোনে বলেন, “রিসিভ করে আমি পত্রিকার বিল মনে করে আমার কলিগের কাছে দিয়েছিলাম। ওইদিন কলিগ উপস্থিত না থাকায় আমি গ্রহণ করে রেখে দিই।” তার সহকর্মী বলেন, “এটা (টেন্ডারের অভিযোগ) নিয়ে আমি প্রতিদিন খুঁজি, কে দিলো, কেন দিলো? আগামীকাল স্যারের কাছে জমা দেব। আমি তো এটা ড্রয়ারে দেখে পত্রিকার বিল মনে করেছিলাম।”

গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের এমন বেখেয়ালি মন্তব্য রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অফিসিয়াল প্যাডে স্পষ্ট বিষয়, প্রেরকের নাম, ফোন ও ইমেইল থাকার পরও ‘পত্রিকার বিল’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৩০ এপ্রিল পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম পুনরায় ফোনে বলেন, “আমাদের টেন্ডার হয় অনলাইনে, অভিযোগও করতে হবে অনলাইনে। হার্ডকপির কোনো সুযোগ নেই। দুজন অভিযোগ করেছে, দুজনের উত্তর দেওয়া হয়েছে।” তবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হার্ডকপি গ্রহণের বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার আওতাধীন নয়।

বায়োকেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো. হারুন-অর-রশীদ খান বলেন, “২০১৯ সাল থেকে আমি কিশোরগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডারে অংশ নিচ্ছি। কিন্তু এখানে এমন শর্ত আরোপ করা হয়, যা স্বচ্ছতা ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। একই ধরনের শর্ত অন্য প্রতিষ্ঠানেও দেখেছি। প্রতিযোগিতায় একই ঠিকানার তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ায় ‘নিয়ন্ত্রিত দরপত্র’-এর ইঙ্গিত মেলে। এসব শর্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতেই আরোপ করা হয়েছে।”

তিনি বিতর্কিত শর্তগুলো অবিলম্বে বাতিল বা সংশোধন করে পিপিএ-পিপিআর অনুযায়ী টেন্ডার পুনঃপ্রকাশের দাবি জানান। অন্যথায় সরকারের কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (CPTU), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে বিষয়টি উত্থাপনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পিপিএ-পিপিআর ও এসটিডি-এর বিধান কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত ও বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপ, অভিযোগ গ্রহণে অনীহা এবং কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে যেখানে অতীতে একই মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের প্রমাণ এবং হার্ডকপি গ্রহণে ‘পত্রিকার বিল’-এর মতো অস্বাভাবিক ব্যাখ্যা উঠে এসেছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় ক্রয় কারিগরি ইউনিট (সিপিটিইউ), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (IMED) ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিরসন কঠিন হবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নাগরিক অধিকারেরও দাবি।

বনানীর বাসা থেকে রাতভর অভিযানের পর গ্রেপ্তার নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
বনানীর বাসা থেকে রাতভর অভিযানের পর গ্রেপ্তার নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান

সংগ্রহীত ছবি

শ্রম আইনসংক্রান্ত একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নাভানা গ্রুপ ও আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাজেদুল ইসলাম শুভ্র বনানীর একটি ভবনে অবস্থান করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত থেকে পুলিশ ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা দীর্ঘ সময় গেট না খোলায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাতভর ভবনের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভবনের ভেতরে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে চালক ও দেহরক্ষীও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতে দায়ের করা একটি শ্রম বিরোধসংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায় দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি আফতাব অটোমোবাইলসের সাবেক এক কর্মকর্তার পাওনা অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, পাওনা অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সফিউল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানটিকেও প্রতিপক্ষ করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, শ্রম আদালতের রায় কার্যকর না হওয়ায় গত ৩ মে ২০২৬ সংশ্লিষ্ট আদালত সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেপ্তারের পর সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হোসেনপুরে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনজন গাঁজাসেবীর কারাদণ্ড

মশিউর রহমান চন্দন প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনজন গাঁজাসেবীর কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় গাঁজা সেবনের দায়ে তিন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পৌরসভার মোরগ মহাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার শেষে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার দ্বীপেশ্বর গ্রামের আব্দুল মোতালিবের ছেলে রফিক মিয়া (৫০), একই গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে কাসেম (৫৮) এবং পূর্ব দ্বীপেশ্বর গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে ইমন মিয়া (২৩)।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রফিক মিয়াকে ১ মাসের কারাদণ্ড, কাসেমকে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ইমন মিয়াকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মোরগ মহাল এলাকার একটি দোকানে মাদক সেবনের অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হলে তারা গাঁজা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “হোসেনপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ফেসবুক বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রতারণার মামলা,আইনজীবী শফিক নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ফেসবুক বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রতারণার মামলা,আইনজীবী শফিক নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চটকদার প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে শফিক নজরুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। তদন্তের স্বার্থে চক্রের অন্য সদস্য, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে শফিক নজরুল নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদালতে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে দেওয়া তার সাজেশন থেকে প্রশ্ন কমন এসেছিল এবং সে কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের আবেদন জানায়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’—এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শফিক নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরীক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন।

একজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। তবে ১২ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি প্রতারণার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।