সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সংকট লাঘবের লক্ষ্যে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৮৮২ জন কৃষক সহায়তা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) উপজেলার সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথকভাবে এ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আওতায় সিদলা ইউনিয়নের ৫৩১ জন এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৩৫১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং ১৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের টানা ও অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষকের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কিংবা জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তাদের দুর্ভোগ কমাতে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে সরকার এই বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান এবং সিদলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইকবাল হোসেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, পুমদী ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুদাসসির হায়দার আলমগীর, গোবিন্দপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব হাসান, সিদলা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান ও তারিকুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। আজ সিদলা ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝেও এ ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যেন সরকারি সহায়তা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কৃষকদের পুনর্বাসনে সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। সিদলা ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “টানা বৃষ্টিতে আমার জমির ধান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। সরকারের দেওয়া এই ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি চাল আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা। এতে কিছুটা হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।”

অন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরাও সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, ফসলহানির কারণে অনেক কৃষক ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তা তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।

হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিপুল পরিমাণ জমির ফসল আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হালনাগাদ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি শুধু তাৎক্ষণিক দুর্ভোগ লাঘবই নয়, বরং কৃষকদের নতুন করে উৎপাদন কার্যক্রমে উৎসাহ জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরবেন। ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরই তাঁকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী হাবিবুর রহমান কুতুব। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এতে ৯০ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান কুতুবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার মানবিক হাসপাতাল’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান কুতুব বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিদেশে শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুব বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। সবাই পাশে থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯০ জন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের আরও প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তার মতে, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।