কিশোরগঞ্জে নদ-নদীর পানি নামছে, হাওরে ফিরছে স্বস্তি; ক্ষতির শঙ্কা এখনো কাটেনি
টানা বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিশোরগঞ্জের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বেশিরভাগ পয়েন্টে পানির স্তর হ্রাস পেলেও একটি পয়েন্টে সামান্য বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক দিনের মেঘলা আবহাওয়ার পর রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কাজে ফিরেছেন কৃষকেরা।
বুধবার (৬ মে) সকাল ৯টায় কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি কমে ৩.২৮ মিটারে দাঁড়িয়েছে। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৯৫ মিটার এবং ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনার পানি কমে ১.৬৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
তবে অষ্টগ্রাম পয়েন্টে কালনী নদীর পানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ২.৬৫ মিটারে পৌঁছেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমার ৮৭ থেকে ৪১৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, উজানের পানির চাপ কিংবা বৃষ্টিপাত আবার বাড়লে নদ-নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নতুন করে হাওরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় হাওরাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পানিতে ডুবে যাওয়া জমি থেকে ধান উদ্ধার এবং খলায় ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বুধবার সকালেও একই চিত্র দেখা গেছে—কেউ পানি থেকে ধান তুলছেন, আবার কেউ খলায় ধান শুকাচ্ছেন।
নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং প্রায় ৫০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।













