রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জেলা পরিষদের জমিতে দখলচেষ্টা, সাইনবোর্ড উপড়ে নরসুন্দায় নিক্ষেপ

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জেলা পরিষদের জমিতে দখলচেষ্টা, সাইনবোর্ড উপড়ে নরসুন্দায় নিক্ষেপ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সরকারি মালিকানার সাইনবোর্ড উপড়ে নরসুন্দা নদীতে নিক্ষেপ এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া সংলগ্ন ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৯৮২ ও ৯৮৯-এর আওতাভুক্ত ৮৩ শতাংশ (০.৮৩ একর) ভূমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। সম্প্রতি ওই জমিতে জেলা পরিষদের মালিকানাসংক্রান্ত নোটিশ বোর্ড সংশোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশোধিত সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য ঘটনাস্থলে যান।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইনবোর্ড স্থাপনের সময় করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে কামাল মিয়া (৪৫), জামাল মিয়া (৪২) ও এরশাদ মিয়া (৪০)সহ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মাসুদুর রহমান (৩৫), অফিস সহায়ক রুবেল এবং সাবেক অফিস সহায়ক বাদলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা জেলা পরিষদের স্থাপিত সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে পার্শ্ববর্তী নরসুন্দা নদীতে নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জেলা পরিষদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিভিন্ন উপায়ে সরকারি জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও সরকারি জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখল, সরকারি কাজে বাধা এবং সাইনবোর্ড ভাঙচুরের মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এ বিষয়ে জানার জন্য প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিএনপি দলীয় ও বহিষ্কৃত নেতাদের বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
বিএনপি দলীয় ও বহিষ্কৃত নেতাদের বালু ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ঘোড়াউত্রা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব এখন চরম রূপ ধারণ করেছে। এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত শনিবার রাত প্রায় ১টার সময় উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নে। বালু উত্তোলনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও বহিষ্কৃত দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বিএনপির কর্মী, সাবেক মেম্বার রমিজ উদ্দিন ও হিরা নামের দুজন গুরুতর আহত হন। এ সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে কাছুম আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার রমিজ উদ্দিন চলতি বছর ঘোড়াউত্রা নদীর একাংশ ইজারা নেন। ইজারাকৃত নদীতে বিএনপির বহিষ্কৃত গ্রুপের নেতা জুম্মন মিয়া বালু উত্তোলনের জন্য জোরপূর্বক ড্রেজার বসান। এতে ইজারাদার ও বিএনপি কর্মী রমিজ উদ্দিন বাধা দেন। জুম্মন সেই বাধা অমান্য করে বালু উত্তোলন শুরু করলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

রাত প্রায় ১টার সময় রমিজ উদ্দিন কয়েকজনকে নিয়ে ছাতিরচর বেড়িবাঁধে বসে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। এমন সময় বহিষ্কৃত গ্রুপের নেতা জুম্মন ২০/২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে রমিজ মেম্বারকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে কোপ দিতে উদ্যত হলে রমিজ দৌড়ে গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন।

রমিজের ডাক-চিৎকারে বাড়ির মালিক বিএনপি কর্মী হিরা ও কাছুম আলী এসে জুম্মনের হাত থেকে রামদা কেড়ে নেন। এ সময় হিরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন এবং কাছুম আলী শ্বাসকষ্টে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে কাছুম আলীকে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন উভয় গ্রুপের নেতা ও স্থানীয় কয়েকটি সূত্র।

উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ভাটি বরাটিয়ার ধনু নদী ও বোয়ালিয়া নদীতে বিএনপির বহিষ্কৃতদের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এরই সূত্র ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরাও নদীতে বালু উত্তোলনে ভাগ-বাটোয়ারার সুযোগ খুঁজছেন।

দলীয় দ্বন্দ্বের সুযোগে বিগত আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট দলীয় বালু ব্যবসায়ীরা গ্রুপ নেতাদের সহায়তায় বালু ব্যবসায় ঢুকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন দুই গ্রুপের একাধিক নেতাকর্মী। গত বছরও বালু ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে বহিষ্কৃতরা অবৈধ বালু ব্যবসা পরিচালনা করছেন- এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন মাঝে-মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। অনেকের মতে, নদীতে বালু উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। তা না হলে তারা কেন বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না- এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাচীন পুকুর, জলাশয়, ফসলি জমি এবং খাল ভরাটের পোস্ট করছেন। এগুলো প্রশাসনের দৃষ্টিতে পড়লেও প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল।

গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার নির্বাচনের বিরোধিতার কারণে ৬০ থেকে ৭০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বহিষ্কৃতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন। বিজয়ের পর থেকেই প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে মতপার্থক্য চলছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিগত সরকারের দলীয় বালু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্যবসায় ঢুকে পড়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

নিকলীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি এ প্রতিনিধিকে বলেন, “ছাতিরচর এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতেন না।”

নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “ছাতিরচরের ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। মৃতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা, আকস্মিক পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা, আকস্মিক পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্য

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হতাশাজনক চিত্র, শিক্ষকদের অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত অসঙ্গতি দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রথমে তিনি উপজেলার শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী ৬১ জন হলেও উপস্থিত রয়েছে মাত্র ৭ জন। বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৪ জন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এমন উপস্থিতির চিত্র দেখে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদ হোসেনকে মুঠোফোনে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন সংসদ সদস্য। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

পরে দুপুর ১২টার দিকে তিনি উপজেলার তারাকান্দি পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। সেখানেও প্রায় একই ধরনের চিত্র দেখতে পান। বিদ্যালয়ের রেজিস্টার অনুযায়ী শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭১ জন হলেও উপস্থিত ছিল মাত্র ২৭ জন।

এ সময় বিদ্যালয়ের জমি নিয়েও গুরুতর অসঙ্গতির বিষয় সামনে আসে। পরিদর্শনে জানা যায়, সরকারি নথিতে বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৫২ শতাংশ হলেও বাস্তবে মাত্র ২৬ শতাংশ জমি দৃশ্যমান রয়েছে। অবশিষ্ট ২৬ শতাংশ জমির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বিদ্যালয়ের জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শারফুল ইসলামসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন,
“প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অভিযোগ পাওয়ার পর আকস্মিকভাবে দুটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। একটি বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এসব অনিয়ম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনসেবার মানোন্নয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জেলা প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
জনসেবার মানোন্নয়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জেলা প্রশাসকের

কিশোরগঞ্জে জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং জনসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় জেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের চলমান প্রকল্প, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক জেলা মৎস্য অফিস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা শিক্ষা অফিস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি-সার)-এর চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক হাওরাঞ্চলে পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুদ নিশ্চিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) জেবুন নাহার শাম্মী, দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41