জেলা পরিষদের জমিতে দখলচেষ্টা, সাইনবোর্ড উপড়ে নরসুন্দায় নিক্ষেপ
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে কোটি টাকা মূল্যের জেলা পরিষদের মালিকানাধীন সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সরকারি মালিকানার সাইনবোর্ড উপড়ে নরসুন্দা নদীতে নিক্ষেপ এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া সংলগ্ন ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করিমগঞ্জ মৌজার সাবেক দাগ নম্বর ৯৮২ ও ৯৮৯-এর আওতাভুক্ত ৮৩ শতাংশ (০.৮৩ একর) ভূমি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। সম্প্রতি ওই জমিতে জেলা পরিষদের মালিকানাসংক্রান্ত নোটিশ বোর্ড সংশোধনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সংশোধিত সাইনবোর্ড স্থাপনের জন্য ঘটনাস্থলে যান।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইনবোর্ড স্থাপনের সময় করিমগঞ্জ পৌরসভার আশুতিয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে কামাল মিয়া (৪৫), জামাল মিয়া (৪২) ও এরশাদ মিয়া (৪০)সহ কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার মাসুদুর রহমান (৩৫), অফিস সহায়ক রুবেল এবং সাবেক অফিস সহায়ক বাদলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা জেলা পরিষদের স্থাপিত সরকারি সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে পার্শ্ববর্তী নরসুন্দা নদীতে নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলা পরিষদের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিভিন্ন উপায়ে সরকারি জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও সরকারি জমি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, “জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ওপর হামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারি সম্পত্তি দখল, সরকারি কাজে বাধা এবং সাইনবোর্ড ভাঙচুরের মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
এ বিষয়ে জানার জন্য প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।













